দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে স্বজনদের ফেলে যাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শিশুটিকে উপহার ও আর্থিক সহায়তা দেন দিনাজপুরের বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর আহ্বায়ক ডা. হাফিজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সাদেক আলীসহ হাসপাতালের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, ‘শিশুটিকে বিশেষভাবে পরিচর্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নবজাতককে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করে একটি চিরকুট রেখে পালিয়ে যান তার স্বজনরা। চিরকুটে লেখা ছিল, আমি মুসলমান, আমি একজন হতভাগী। পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্ম তারিখ ০৪-১১-২০২৫, রোজ মঙ্গলবার। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ। আমি মুসলমান জাতির মেয়ে।’
অধ্যাপক ডা. মো. সাদেক আলী বলেন, ‘নবজাতকটি সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে রাখা হয়। খবরটি প্রচারের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশুটির চিকিৎসা ও দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার পক্ষ থেকে শিশুটির জন্য শীতবস্ত্র, খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে, যা হাসপাতাল পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
ড্যাব-এর আহ্বায়ক ডা. হাফিজুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করছেন, যা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তিনি অনুরোধ করেন, কেউ যেন সরাসরি ভিড় না করে, বরং শিশুটির দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করেন। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন শিশুটি সুস্থ হয় এবং নিরাপদ আশ্রয় পায়।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক দম্পতি নবজাতকটিকে কোলে নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আসেন। নিজেদের পরিচয় দেন শিশুটির নানা-নানি হিসেবে। ভর্তি রেজিস্টারে লেখা হয় ঠিকানা- ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী। চিকিৎসকরা শিশুটির মাকে ডাকার অনুরোধ করলে তারা জানান, মা নিচে আছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, বেডে শিশুটি একা পড়ে আছে।