পরপর কয়েক দফা ভূমিকম্পে আতঙ্কে দিন কাটছে নরসিংদীর মানুষের। গত শুক্রবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনার পর শনিবার আবারও তিন দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে শনিবার রাতে নরসিংদীর অধিকাংশ মানুষ ঘর ছেড়ে অবস্থান নেন খোলা মাঠে। জেলার সবখানে একটাই আলোচনা- আরেক দফা ভূমিকম্প হয়তো আসছে। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে গুজব না ছড়াতে এবং গুজবে কান না দিতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গত শনিবার রাতে নরসিংদী সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদরাসা মাঠে, মাধবদীর এসপি স্কুল ও গার্লস স্কুল মাঠে এবং পলাশ উপজেলার পিডিবি, প্রাণ-আরএফএল মাঠসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার খোলা জায়গায় শত শত মানুষ জড়ো হন। তাদের আশঙ্কা ছিল, যেকোনো মুহূর্তে আবারও ভূমিকম্প হতে পারে। রাত ১টার দিকে দেখা গেছে, মাধবদী পৌরসভা মোড়ে শিশু-কিশোররা ভয়ের মধ্যেও ক্রিকেট খেলছে। ভূমিকম্প আতঙ্কে তারা রাতভর মাঠেই থাকতে চায়। বাড়ি ফিরতে চায় না।
পলাশ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাজি মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাত ১১টার পর পলাশ ওয়াপদা গেট এলাকায় মানুষ কাঁথা-বালিশ নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। একই দৃশ্য দেখা যায় পলাশ বাজারেও। অনেকেই পিডিবির মাঠে অবস্থান নেন।
মাধবদীর বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘রাত পৌনে ১টা বাজে, শিশুসন্তানকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটছি। কে জানে গুজব না গজব, কিছুই বলতে পারছি না।’ এ সময় কথা হয় দীপা রানী, সজল, নিরবসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। নিরব বলেন, ‘বিরামপুর পৌর শহরের আট তলা ভবনে থাকি। আনন্দী এলাকায় খালার বাড়িতে যাচ্ছি। সেখানে টিনের ঘর, ভূমিকম্প হলেও দেয়ালচাপায় পড়ব না।’
আবুল হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ফেসবুকে দেখেছি, আজ (গত শনিবার) রাতে নাকি আবার ভূমিকম্প হবে। তাই আর বাড়িতে যাইনি, বাজারেই আছি।’
আতঙ্কের রাত পার করে গতকাল রবিবার সকালে নরসিংদীর মানুষ স্বাভাবিক কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে সতর্কতা হিসেবে কিছু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে মাধবদী মর্নিং সান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রবিবারের পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
গতকাল নরসিংদীর গাবতলী এলাকার দলিল লেখক মো. কবীর হোসেন বলেন, ‘এবারের ভূমিকম্পে গাবতলীতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সেই আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তাই মানুষ খোলা মাঠে ছুটে যাচ্ছেন। শনিবার রাতে আমার বাড়ির সবাই খোলা মাঠে চলে যায়। আমি একাই বাড়িতে ছিলাম। এ অঞ্চলের শত শত মানুষ কলেজ ও মাদ্রাসা মাঠে অবস্থান নেন। কেউ রাত আড়াইটার পর আবার কেউ ভোরের দিকে বাসায় ফেরেন।’
এদিকে গতকাল দুপুরে ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে গুজব না ছড়াতে এবং গুজবে কান না দিতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারিভাবে নরসিংদীতে ভূমিকম্পে নিহত পাঁচ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নগদ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশ মেনে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের।’