উপকূলজুড়ে টানা কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও গুমোট আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে লবণ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লবণের ভরা মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার লবণ চাষী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।
মহেশখালীর হাজার হাজার একর জমিতে এখন লবণ উৎপাদনের ব্যস্ত সময়। সাধারণত প্রখর রোদ ও বাতাসের প্রবাহ লোনা পানি লবণ তৈরির প্রধান সহায়ক শক্তি। কিন্তু গত তিন দিন ধরে আকাশ মেঘলা থাকা এবং ঘন কুয়াশার চাদরে মাঠ ঢাকা পড়ে থাকায় লবণ জমার প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গেছে।
চাষীরা জানান, রোদের উত্তাপ না থাকায় ঘেরের লোনা পানি বাষ্পীভূত হতে পারছে না, ফলে লবণের স্ফটিক তৈরি হচ্ছে না।
মহেশখালীর লবণ মাঠে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু শিল্প গ্রুপ লোনা পানির এই সাদা সোনায় বিনিয়োগ করেছে। মৌসুমের শুরুতেই এমন বিরূপ আবহাওয়ায় বিনিয়োগের টাকা ফেরত আসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মিল মালিকরা। একইসঙ্গে সময়মত উৎপাদন না হলে দেশের বড় বড় লবণ কারখানাগুলোতে কাঁচামাল (অপরিশোধিত লবণ) সংকটেরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুতুবজুম এলাকার লবণ চাষী দলা মিয়া তার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, 'লবণ মাঠে ঢোকানো সমুদ্রের লোনা পানি কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। এর জন্য প্রচুর রোদের তাপ দরকার। গত কয়েক দিনের ক্রমাগত শৈত্যপ্রবাহ আর গুমোট আবহাওয়ার কারণে আমাদের আগের সব পরিশ্রম ও প্রক্রিয়াজাত পানি নষ্ট হয়ে গেছে।'
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
লবণ চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন বলেন, 'টানা কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা লবণ শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষী থেকে শুরু করে শ্রমিক- সবাই এখন লোকসানের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। যদি দ্রুত রোদেলা আবহাওয়ার দেখা না মেলে, তবে এ বছর লবণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা স্থানীয় বাজার ও জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।'
বর্তমানে জেলার লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন এক ফালি রোদের আশায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী কয়েক দিন আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সংকেত না দিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছৈয়দুল করিম/সুমন