নোয়াখালীতে তীব্র শীতে হাসপাতালগুলোতে শিশুরোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিতসহ বিভিন্ন রোগে এক হাজার ৮৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিন নোয়াখালী জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই অসংখ্য শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে ৪ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ৫৩২ জন শিশু ভর্তি হয়ে ১৩ জন মারা যায় এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৫৫ জন ভর্তি হয়ে মারা যায় ৫ জন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া শিশুদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত ও সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত ছিল। এর আগেও নভেম্বর মাসে এক হাজার ৪৭৫ জন শিশু ভর্তি হয়ে ১৬ জন এবং অক্টোবর মাসে এক হাজার ৩৭৬ জন শিশু ভর্তি হয়ে ২৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
সরেজমিনে হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। অনেকে সিট না পেয়ে মেঝেতে গাদাগাদি করে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আলা উদ্দিন শিহাব নামে এক শিশুরোগীর মা বিবি খাদিজা বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে তিন দিন আগে অসুস্থ সন্তানকে চিকিৎসা দিতে এখানে ভর্তি করা হয়েছে। হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে স্যালাইন ও ইনজেকশন চলছে এবং নাকে নেবুলাইজেশন দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।’
মো. মামুন নামে এক শিশুর মা সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। সামান্য ঠান্ডা লাগলেই অসুস্থ হয়ে যায়। এক মাসে দুইবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। গরিব মানুষের পক্ষে বারবার চিকিৎসা করানো খুব কষ্টের।’
শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকেয়া বেগম বলেন, ‘শিশু রোগীদের চাপ বেড়েছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। তাই শিশু ওয়ার্ডে নার্সের সংখ্যা বাড়ানো খুব প্রয়োজন।’
শিশু কনসালটেন্ট ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সি বলেন, ‘শিশু মৃত্যুর পেছনে শুধু শীত নয়, জন্মকালীন জটিলতা, সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, সেপসিস ও দুর্ঘটনাও দায়ী। তবে শীতকালে শিশুদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে আনা জরুরি।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নোয়াখালীতে আশপাশের জেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিন রোগীর চাপ বেশি থাকে। এ হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। রোগীর চাপ সামাল দিতে দ্রুত আরও চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি।’
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নোয়াখালীতে কয়েক দিন ধরে সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। বুধবার একই তাপমাত্রা ছিল। দিনের তাপমাত্রা ১৪-১৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকে।’
মজনু/রিফাত/