নোয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১২৭ পদের সরাসরি নিয়োগের পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও ছলচাতুরির অভিযোগ উঠেছে। এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধনসহ স্বাস্থ্য সচিবের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপির কপি জামা দেন পরীক্ষার্থীরা। এর আগে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ছয়জন পরিসংখ্যানবিদ ও ১২১ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলে জেলার প্রায় ১৪ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। পরে গত ৪ জানুয়ারি (রবিবার) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ১০ জানুয়ারি পরীক্ষার ঘোষণা দিয়ে অনলাইন থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে বলা হয়। এতে সাত হাজার ৩০০ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
তানজিদ হোসেন তুষার নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষাটি এমসিকিউ না হয়ে প্রশ্ন দিয়ে লিখিতভাবে হয়। কিন্তু প্রায় সাত হাজার পরীক্ষার খাতাগুলো ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করে ফলাফল নির্ধারণ করা হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি ওই তারিখেই স্বাস্থ্য সহকারী পদে ৬১৯ জন এবং পরিসংখ্যানবিদ পদে ৩০ জনকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় সবার মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
নুসরাত জাহান নামে আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, তড়িগড়ি করে ফলাফল দিয়ে আজ (সোমবার) থেকে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে। এতে বুঝা যায় নিজেদের সুবিধার জন্য তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাচ্ছেন কর্মকর্তারা। আমাদের ধারণা আগে থেকেই নিয়োগপ্রাপ্তদের রোল নম্বর নির্ধারণ করা ছিল। পরীক্ষা শুধু লোক দেখানো। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
বেলাল হোসেন বলেন, আমি মাইজদী পাবলিক কলেজের ১০৩ নম্বর হলে পরীক্ষা দিয়েছি। কক্ষ পরিদর্শক আমাদের জানিয়েছেন, পরীক্ষা দিয়ে কোনো লাভ নেই। যাদেরকে নেওয়ার তাদেরকে আগেই নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। এমনকি অনেকে পরীক্ষা না দিয়েও উত্তীর্ণ হওয়ার গুঞ্জন শুনছি।
মুর্শিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রী। তার স্বামীও একজন জামায়াত নেতা। তিনি সকল নিয়োগে জামায়াত-শিবিরকে প্রধান্য দিয়ে আসছেন। এ পরীক্ষা বাতিলসহ কর্মকর্তাদের শাস্তি না দিলে সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘোরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মো. নজরুল ইসলাম নামে এক পরীক্ষার্থী দাবি করে বলেন, জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ন সিমির সখ্যতার সুবাধে তাদের পছন্দমতো পরীক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে এবং প্রত্যেক উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। আমার নিজের মেয়েও স্বাস্থ্য সহকারী পদে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমিকে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবরে লিখিত একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। তা অতিদ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
মজনু/মাহফুজ