বর্তমানে ডেঙ্গু আর মৌসুমি রোগ নয়; বরং এটি সারা বছরব্যাপী একটি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসেন স্যান্স ফ্রন্টিয়েরস (এমএসএফ) এর প্রতিনিধিরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কার্যালয়ে এমএসএফ– এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় এমএসএফের প্রকল্প সমন্বয়কারী দিনালি ডি জয়সা, মেডিকেল টিম লিডার ফ্রান্সিসকো রাউল সালভাদোর, কীটতত্ত্ববিদ বাউডেউইন ভেইফহাউজেন, হেড অব মিশন সহায়তা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন, মেডিকেল লিয়াজোঁ কর্মকর্তা ফাতেমা ফেরদৌসী, প্রকল্প সমন্বয় সহায়তা কর্মকর্তা সৈয়দ রাশেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা উপস্থিত ছিলেন।
এমএসএফ প্রতিনিধিরা সভায় জানান, ২০১৯ সালে মূলত আগস্ট মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রবণতা বেশি ছিল। ২০২১ ও ২০২২ সালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ২০২৩ সালে তা আবার আশঙ্কাজনক রূপ নেয়। বর্তমানে ডেঙ্গু আর মৌসুমি রোগ নয়; বরং এটি সারা বছরব্যাপী একটি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। মাসভিত্তিক ডাটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন আর কোনো মাসেই সংক্রমণের সংখ্যা শূন্যে নামছে না। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ডাটা পূর্বের সব পূর্বাভাস অতিক্রম করেছে।
তারা আরও জানান, ২০২৪ সালের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডেঙ্গু শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রতিরোধ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কেস সংখ্যা, ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও কেস ফ্যাটালিটি রেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংক্রমণ বাড়লেও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার কারণে মৃত্যুহার আগের তুলনায় কমেছে—যা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।
এমএসএফ প্রতিনিধিরা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা একটি সম্মিলিত যুদ্ধ। সরকার, সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
এসময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মশাবাহিত রোগ বিশেষ করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে কেবল সাময়িক ব্যবস্থা নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক, আধুনিক ও টেকসই সমাধান গ্রহণ করা জরুরি। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কার্যকর ওষুধ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিষয়ে চসিক ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল জনসম্মুখে উপস্থাপন করেছে এবং গণসচেতনতা তৈরিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে রোগের প্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় সর্বশেষ মেডিকেল সল্যুশন, আধুনিক স্প্রে যন্ত্রপাতি ও টেকনিক্যাল গাইডলাইনের প্রয়োজন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
তারেক মাহমুদ/এসএন