গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বালাশী ফেরিঘাট টার্মিনাল ভবনসহ শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা। এতে এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাশী এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদে দুটি ফেরিঘাট টার্মিনাল নির্মাণ করে। যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ২০১৮ সালে এসব টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ ভাঙনে বালাশী ফেরিঘাট টার্মিনাল এলাকার প্রায় ১০০ মিটার নদীতীর ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে যায়। কিছুদিন আগে একই এলাকায় বিকট শব্দে আরও প্রায় ৭ মিটার তীর ধসে পড়ে। ফলে টার্মিনাল ভবনসহ আশপাশের বহু স্থাপনা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে টার্মিনালকেন্দ্রিক শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। ডিজাইন বিভাগের কর্মকর্তারাও সরেজমিনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। প্রয়োজনে বর্ষার আগেই তীর রক্ষার কাজ শুরু করা হবে।’
ভাঙনের তীব্রতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘টার্মিনালের বেষ্টনী প্রাচীরের নিচে থাকা গাইড ওয়ালের ৫০ থেকে ৬০ মিটারের মধ্যেই ভাঙন এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ মিটার এলাকায় ভাঙন বেশি ভয়াবহ।’ তবে দ্রুত কাজ শুরু করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বালাশী ফেরিঘাটের ইজারাদার প্রতিনিধি মো. সামছুল আলম সরকার (পাপুল) জানান, গত কয়েক সপ্তাহে পন্টুনের আশপাশে অন্তত পাঁচটি স্থানে তীর দেবে গেছে। ভাঙনের বিষয়টি জানিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। যদিও সম্প্রতি পাউবোর কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজা মিয়া বলেন, ‘ভাঙন অব্যাহত থাকলে বর্ষার আগেই টার্মিনালসহ বহু দোকানপাট ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হতে পারে। বিশেষ করে ঘাটনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন।’
প্রায় ১২ বছর ধরে ঘাটে চা-বিস্কুটের দোকান চালানো মো. আব্দুর রশিদ জানান, তার অস্থায়ী দোকানটিও এখন ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, আশপাশের বেশ কিছু এলাকা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, যেসব এলাকায় ভাঙন হচ্ছে সেখানে নদীর গভীরতা ৩৯ থেকে ৪০ মিটার পর্যন্ত। আরেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সময়মতো ডানতীর রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষায় টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
পাউবো সূত্র জানায়, ফুলছড়ি এলাকায় ডানতীর সংরক্ষণে গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।