ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর দৌলতপুর গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত জসিম উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে মাঠে ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন জসিম। তিনি দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত ১১টার দিকে টেংরাখালী মাঠের নির্জন এক ভুট্টাক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসী।
মতিয়ার রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মরদেহটির গলায় ফাঁস লাগানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর মতো গুরুতর জখম দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি, দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে জসিমের এমন নির্মম মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দুই সন্তান খুশি ও শামীমকে নিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন স্ত্রী রেশমা খাতুন। তিনি বিলাপ করে বলেন, আমার ছোট ছোট বাচ্চাগুলো এই বয়সেই এতিম হয়ে গেল। আমি এখন কার কাছে বিচার চাইবো।
মাহফুজুর রহমান/নাঈম