ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা
Nagad desktop

পেকুয়ায় লবণপানিতে নষ্ট হচ্ছে মহাসড়ক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
পেকুয়ায় লবণপানিতে নষ্ট হচ্ছে মহাসড়ক
ট্রাকটির পেছনে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত একটি অংশ। ট্রাকে লবণ তোলার সময় এর পানি পড়ে এমন অবস্থা হয়েছে। গতকাল কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা মাঠ এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত পিচঢালা সড়কগুলো এখন নোনাপানির গ্রাসে বিলীন হতে চলেছে। উপকূলীয় অঞ্চলের সাদা সোনা খ্যাত লবণ এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল রাখলেও পরিবহনের চরম অব্যবস্থাপনায় ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো। ত্রিপলবিহীন কিংবা নামমাত্র পাতলা পলিথিন দিয়ে লবণ পরিবহনের ফলে সড়কের ওপর দিয়ে অবিরত পড়ছে তীব্র ক্ষারীয় পানি, যা বিটুমিনকে গলিয়ে রাস্তাকে পরিণত করছে মরণফাঁদে।

সড়কের এই ভয়াবহ দশা নিয়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। কক্সবাজার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে (ডিসি) জানিয়েছি। এরপর ডিসি পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে লবণ ব্যবসায়ীরা এই নির্দেশনা তোয়াক্কাই করছেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমাদের তো নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই যে, সরাসরি অভিযান চালাব। আমি আবারও ডিসি ও পেকুয়া ইউএনওর সঙ্গে কথা বলব। এভাবে চলতে থাকলে রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মগনামা ও রাজাখালী মাঠ থেকে লবণ তুলে রাস্তার পাশেই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এসব স্তূপ ঢাকা দেওয়ার জন্য লোক দেখানো পাতলা পলিথিন ব্যবহার করা হলেও লবণের বড় একটি অংশ রাস্তার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকছে। মূলত এসব পয়েন্ট থেকেই ছোট ডাম্পারে লবণ তুলে বড় ট্রাকের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র লক্ষ করা গেছে বানৌজা সাবমেরিন সড়কের মগনামা অংশে। মগনামার বিভিন্ন পয়েন্টে বড় ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকে এবং সেখানেই ছোট ডাম্পার থেকে লবণ ট্রাকে তোলা হয়। এই লোডিং প্রক্রিয়ায় মানসম্মত কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। লবণ থেকে পড়া পানি আর ছড়িয়ে পড়া লবণে পুরো সড়ক একাকার হয়ে যায়। একই চিত্র দেখা গেছে রাজখালী সড়কেও। সেখানে বড় ট্রাক ঢোকার সুযোগ থাকায় রাস্তার ওপরই সরাসরি দীর্ঘ সময় ধরে লোডিং চলে। পাতলা পলিথিনের আস্তরণ ভেদ করে নোনাপানি সরাসরি পিচঢালা পথে মিশে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মগনামা থেকে লবণবোঝাই করার পর ট্রাকগুলো যখন বরইতলী রাস্তার মাথা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং মগনামা থেকে বাঁশখালী সড়ক দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয় তখন বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। লবণ সঠিকভাবে পানিনিরোধক ত্রিপল বা মোটা পলিথিন দিয়ে ঢাকা না থাকায় চলন্ত ট্রাক থেকে অনবরত নোনাপানি চুইয়ে সড়কে পড়তে থাকে।

এই লবণপানি পিচঢালা সড়কের বিটুমিনের স্তরকে যেমন আলগা করে দিচ্ছে তেমনি পুরো রাস্তায় একটি অদৃশ্য পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি করছে। এর ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের চাকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট গাড়িগুলো ব্রেক করলেই উল্টে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ মগনামা থেকে বাঁশখালী ও বরইতলী হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ জনপথ এখন লবণের পানির কারণে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

প্রকৌশলীদের মতে, নোনাপানি বিটুমিনের আঠালো ভাব দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। ফলে পাথরগুলো আলগা হয়ে যায় এবং ভারী যানবাহনের চাপে রাস্তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। সওজ সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা এভাবে নোনাপানি পড়লে ৩ বছরের টেকসই সড়ক ৬ মাসও টিকবে না। এ ছাড়া কুয়াশার সঙ্গে এই নোনাপানি মিশে রাস্তা সাবানের মতো পিচ্ছিল হয়ে যায়, যার ফলে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ছে। গত এক সপ্তাহে এই সড়কে ডজনখানেক ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। সরকারি সম্পদের ক্ষতি করে ব্যবসা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। আমরা দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা ও জরিমানা নিশ্চিত করব।’

স্থানীয়রা মনে করছেন, লবণশিল্প এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণ হলেও সড়ক অবকাঠামো রক্ষা করতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে তা বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হবে। তদারকি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।

মোহাম্মদ দিদার নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘রাস্তাটা আমাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কিন্তু লবণের গাড়ির কারণে রাস্তাটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ডিসি-ইউএনওর নির্দেশ যদি ব্যবসায়ীরা না মানেন, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?’

রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই অবৈধ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) মধ্যরাতে রোকনপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। মোট ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানে দুইজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচটি শিশু ছিলেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি-এর কাছে ভারতের ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১৫ জনকে একটি নৌকায় করে নদীপথে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।

বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে অবস্থান নেন এবং অনুপ্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির তীব্র বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের সীমান্তেই শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। পরে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে সফল হয়নি। বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কড়া নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে।

আসাদুল্লাহ/আমান

বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
বরিশাল নগরীর সড়কে বাড়ছে অনিবন্ধিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা। যানবাহনটির বিশৃঙ্খল চলাচলে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ছবি: খবরের কাগজ

নগরীর তীব্র যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। আগামী ১ জুলাই থেকে অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক এবং অটোরিকশার বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানে নামছে সংস্থাটি। এর আগে পূর্বে অনুমোদন পাওয়া ৭ হাজার ৬১০টি ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক চালকের জীবিকার কথা বিবেচনা করে অভিযান শুরুর আগেই সব যানবাহন নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের গত তিন মেয়াদে অনুমোদন পাওয়া ৭ হাজার ৬১০টি ইজিবাইকের অনুমোদন বহাল থাকবে। বর্তমানে এসব যানবাহনের নিবন্ধন নবায়নের কার্যক্রম চলছে।

বিসিসির যানবাহন লাইসেন্স শাখা ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস মহামারির পর নগরীতে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। ট্রাফিক বিভাগের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন এসব যানবাহন নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। ফলে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানজটও বেড়েছে।

নগরীর সদর রোড, বটতলা, নতুন বাজার, রূপাতলী ও নথুল্লাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নগরবাসীর অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে বের হলেও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে। তাদের মতে, পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘শুধু পূর্বে দেওয়া লাইসেন্স নবায়ন করে সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ এর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। যত দূর জানা গেছে, আগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার অটোরিকশা ও ইজিবাইককে লাইসেন্স বা টোকেন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৩০ হাজার এ ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।’

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেও প্রায় ২২ থেকে ২৩ হাজার যানবাহন অবৈধ হিসেবে থেকে যাবে। এসব যানবাহনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা জড়িত। জীবিকার তাগিদে অনেকেই আইন অমান্য করে রাস্তায় নামবেন। এতে ট্রাফিক পুলিশ ও চালকদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিরোধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।’

শুভংকর চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে বিষয়টি শুধু আইন প্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না। বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার নেতা ও শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক ডা. মনীষা চক্রবর্তী জানান, সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগকে তিনি টেকসই সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তার দাবি, সিটি করপোরেশনের দেওয়া টোকেন বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অতীতে স্বজনপ্রীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ছিল। বিআরটিএ স্বীকৃত লাইসেন্স ছাড়া এসব যানবাহনের নিরাপত্তা ও বৈধতা নিশ্চিত হবে না।

মনীষা চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও অনেক চালক অনুমোদন পাননি। ফলে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা অটোরিকশা নিয়ে সড়কে নামছেন। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নগরীতে চলাচলকারী সব অটোরিকশা ও ইজিবাইককে নিবন্ধনের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করা হলে চালকরা নিয়ম মেনেই যানবাহন পরিচালনা করতে আগ্রহী হবেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন বলেন, সিটি করপোরেশন অটোরিকশাগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ট্রাফিক বিভাগের জন্য সহজ হবে। এতে নগরীর যানজটও কিছুটা কমবে, একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বরিশাল বিভাগের বিআরটিএর পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শুধু লাইসেন্সিং কার্যক্রম দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মেট্রোপলিটন এলাকার সড়কগুলো প্রশস্ত না করা হলে যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তার মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নগরীর যান চলাচল আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।

রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে সবজিসহ ভ্যানগাড়ি ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে উপজেলায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনজন উপকারভোগীর হাতে সবজিসহ ভ্যানগাড়ি তুলে দেওয়া হয়। +

পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে আরও চারজন উপকারভোগীকে নগদ টাকা দেওয়া হয়।

উপকারভোগীদের মাঝে এসব সুবিধা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান। এছাড়া সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউছুপ চৌধুরী ও ইউছুপ কামাল তালুকদার।

ভ্যানগাড়ি পেয়ে এক উপকারভোগী আব্দুল আলিম বলেন, ভ্যানগাড়ি পেয়ে আমার খুব উপকার হয়েছে। আমার পাঁচজনের সংসারে আমি একাই উপার্জনকারী। আমি উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও এমপিকে ধন্যবাদ জানাই। এখন থেকে ভ্যান চালিয়ে আয় রোজগার করব। 

বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর করে তুলতে নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।

তৈয়্যবুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা
র‌্যালিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের সমর্থকরা। ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ যখন বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেই উন্মাদনার রঙ লেগেছে রাজশাহীর রাজপথেও।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি আর শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহরে নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ‌‌ফুটবল ফ্যানস অব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ গ্র্যান্ড র‍্যালি’। বিকেলে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন মোড় থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এতে অংশ নেন বিভিন্ন দলের সমর্থক, ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ-যুবক ও সাধারণ মানুষ।

র‍্যালিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার সমারোহ দেখা যায়। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সাজিয়ে অংশ নেন এ আয়োজনে।

বিশ্বকাপের থিম সং, সমর্থকদের স্লোগান আর উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে পুরো নগরী যেন রূপ নেয় এক ক্ষুদ্র ফুটবল কার্নিভালে।

আয়োজকরা জানান, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও বন্ধনেরও মাধ্যম। ভিন্ন দেশের সমর্থক হলেও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া ফুটবলপ্রেমী জুবায়ের রশীদ বলেন, 'রাজশাহীতে ফুটবলপ্রেমীদের এমন মিলনমেলা সত্যিই আনন্দের। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।'

র‍্যালি চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে রঙিন পতাকা ও সুসজ্জিত যানবাহনের বহর উপভোগ করেন তারা। কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান অংশগ্রহণকারীদের। এতে পুরো নগর জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আমান/

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে  পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দুজনকে জলপরী সেজে প্রদর্শনীর ঘটনা ঘটেছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালেচনার ঝড় উঠেছে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদুল আজহার ১০ দিন পর তারা চলে গেছে। এখন সেই প্রদর্শনী নেই।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক বিনোদনকেন্দ্রে ‘জলপরী’ নামে প্রদর্শন করে পার্ক কর্তৃপক্ষ। সেখানে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ‘জলপরী’ নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে বিশেষ পোশাক পরে দুই পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারীকে পানিতে প্রদর্শন করানো হয়। পরে এই প্রদর্শনীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দাবি করেছে, এই আয়োজন দর্শকদের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা ও উপস্থাপন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই প্রদর্শনীটাই অনৈতিক। তবে কেউ কেউ এটিকে আবার বিনোদনের অংশ হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। 

পার্কে ঘুরতে আসা আগ্রাবাদের এক সরকারি কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘বিকেলে আগ্রাবাদের একটা অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানকার এক কর্তা আমাকে ফিসফিস করে বললেন, ও বদ্দা ‘জলপরী’ চাইতা যাইবা না? (ও ভাই, জলপরি দেখতে যাবেন না?)। দেখতে গিয়ে হতাশ হলাম। দুইটা চাকমা মেয়েকে মাছের মতো কাপড় পরিয়ে বাতাসভর্তি টিউব ধরিয়ে পানিতে ছেড়ে দিয়েছে। মানুষের ভিড়ে গমগম অবস্থা। একটা পিচ্চি বায়না ধরেছে সে জলপরীদের চিপস খাওয়াবে। আরেক শিশু আবার পানিতে নামতে চায়।’ 

চট্টগ্রাম বারের সিনিয়র আইনজীবী আহমদ কবীর করিম বলেন, ‘মানুষকে প্রদর্শন করে টাকা রোজগার করা অন্যায়। এটা খুবই অমানবিক কাজ। মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অপরাধ। কেউ চাইলে এ বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন। তখন সাজা হবে ওই কর্তৃপক্ষের।’ 

আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ২৫ বছরের জন্য ইজারা নেয় ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বর চসিক মেয়র এ পার্কটি উদ্বোধন করেন। এ পার্কে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। 

এ বিষয়ে কথা বলতে পার্ক ম্যানেজার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেনের দপ্তরে গেলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে থাকা অন্য কর্মকর্তা সুভাষ নামের একজন বলেন, জলপরী নিয়ে পার্কে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সমালোচনা হওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর তারা চলে যায়। এর পরও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে।