চট্টগ্রামে কমতে শুরু করেছে সবজি ও মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার উপরে। লেবুর বাজার এখনো বেসামাল। প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ২০ ও সোনালি মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরের রিয়াজ উদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে টমেটো ৬০ টাকা, বেগুনের কেজিতে ২০ টাকা কমে মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আলুর কেজিতে ৫ টাকা কমে ২০ টাকা, কেজিতে ২০ টাকা কমে ক্ষীরা ৬০ টাকা ও গাজর ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে লেবুর বাজার এখনো অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। রমজানের শুরুতে প্রতি জোড়া লেবুর দাম ছিল ৬০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। সেই হিসাবে, লেবুর দাম খুব এটা ক্রেতার নাগালের মধ্যে আসেনি।
বাজারটিতে সবজি ক্রেতা মো. সুমন বলেন, ‘সবজির বাজারে বিশেষ করে বেগুন, টমেটো, ক্ষীরা, গাজরসহ বেশ কিছু সবজির দাম কমে এসেছে। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ কম। তাই দামটা বেশি।’
এদিকে বাজারে কমতে শুরু করেছে মুরগির দাম। পাঁচ দিন আগেও বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির কেজিতে সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ টাকা কমে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। তা ছাড়া প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৮৫০ টাকা ও হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
রিয়াজ উদ্দিন বাজারে নগরের এনায়েত বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রিয়াজুল হক বলেন, ‘সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। তবে লেবু, মুরগির দাম যে হারে কমেছে, এটা ক্রেতার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। এগুলোর দাম আরও কমে আসা উচিত। মূলত বাজার তদারকি যথাযথ হচ্ছে না। তাই ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম আদায় করছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।’
আরেক ক্রেতা মো. শাহজাহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অথবা অন্য সংস্থার কর্মকর্তারা বাজার তদারকি করতে এলে ব্যবসায়ীরা ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যায়। তারা চলে গেলে আবার আগের মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘রমজান এলে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার যে চর্চা, এখান থেকে ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়ীদের সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলোকে বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা দূর হবে।’