চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরীকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ঠিকাদার মহসিন হায়দারের বিরুদ্ধে। মহসিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মহসিন অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্বত্বাধিকারী।
এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশলীকে উদ্দেশ করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, ‘রুমে ঢুকে একদম ফুটবলের মতো লাথি দেব। ব্যাংকে যে চিঠি লিখেছিস, সেটি সরিয়ে নে। আমার বিল আটকে রেখেছিস, বিল দেওয়ার ব্যবস্থা কর। তুই আমাকে চিনিস না, আমার হাত অনেক লম্বা।’
এছাড়া অডিওতে স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটানো এবং সরকারি দপ্তরে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় প্রশাসনিক মহলসহ সবস্তরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বরাদ্দ দেওয়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ রেখে বিল তোলার চেষ্টা করেছিলেন মহসিন। ব্যাংকে চিঠি দিয়ে সেই বিল বন্ধ রাখেন উপজেলা প্রকৌশলী। এতে ক্ষিপ্ত হন ঠিকাদার মহসিন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে, কমেন্টে এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কেউ কেউ তার ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিলের দাবিও তুলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মহসিন হায়দার বলেন, ‘দুইটি প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে উপজেলা প্রকৌশলী তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
বিল সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় উত্তেজিত হয়ে খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এ আচরণ ভুল হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী ঠিকাদারের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘প্রকল্প সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে বিল স্থগিত রাখা হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার এমন অশোভন আচরণ করেছেন।’
বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
আবদুস সাত্তার/অমিয়/