ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

ধামরাইয়ে বহিরাগতদের দিয়ে চলছে ভূমি অফিসের কার্যক্রম!

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫০ এএম
ধামরাইয়ে বহিরাগতদের দিয়ে চলছে ভূমি অফিসের কার্যক্রম!
ঢাকার ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়। ছবি: খবরের কাগজ

কেউ তহশিলদার বা নায়েবের চেয়ারে বসে কম্পিউটারে কাজ করছেন। কেউ খাজনা আদায় করছেন। কেউ আবার অফিসের অন্য কাজে ব্যস্ত। তারা যখন তখন গোপন নথির কক্ষে প্রবেশ করছেন। তারা কেউই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী না, তবু তারা সরকারি কাজ করছেন। তারা একেকজন যেন বড় কর্মকর্তা! এদিকে সেবাগ্রহীতারা বাধ্য হয়ে কাজের জন্য তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। এমন দৃশ্য দেখা যায় ঢাকার ধামরাই উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে। 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলাসহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। ফলে অফিশিয়াল কাজের জন্য বহিরাগতদের সহায়তা নিতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে ৭-৮ জন করে বহিরাগত লোক কাজ করছে। আর তারাই যেন অফিসের বড়কর্তা। প্রতিটি অফিসেই এমন চিত্র।

স্থানীয়রা আরও জানান, বহিরাগতদের সহায়তা নেওয়া কতটুকু বিধিসম্মত? আর তাদের বেতন আসে কীভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বহিরাগতদের দৈনিক মজুরি গুনতে অসদুপায় অবলম্বন করতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া এ বহিরাগতদের বিরুদ্ধে অসদুপায়ের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ১৭টি। তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। বাকি পদগুলো শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কানুনগো পদটি প্রায় ১ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। সার্ভেয়ার ২ জন থাকার কথা থাকলেও আছেন ১ জন। এখানে সংযুক্তিতে আছেন ৩ জন। নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার ও মিউটেশন-কাম-সার্টিফিকেট সহকারী পদ শূন্য রয়েছে। সার্টিফিকেট সহকারী পদে একজন থাকলেও তিনি সংযুক্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া ক্রেডিট চেকিং-কাম-সায়রাত সহকারী ২, প্রসেস সার্ভার ২, চেইনম্যান ১, অফিস সহায়কের ২টি পদ শূন্য রয়েছে। 

অন্যদিকে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকার কথা রয়েছে। এ উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়নে ভূমি অফিস রয়েছে। এসব ভূমি অফিসে মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ১ জন, উপসহকরী কর্মকর্তা ২ ও অফিস সহায়ক ২ জন। 

জানা গেছে, ধামরাই সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে ২টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও অফিস সহায়কের ১টি পদ শূন্য রয়েছে। কুশুরা ইউনিয়নে সহকারী কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি উপসহকারী পদে ২ জনের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। তিনি আবার অন্য জায়গায় ডিউটি করেন। তবে বেতন নিচ্ছেন এ অফিস থেকে। এ ছাড়া ২ জন অফিস সহায়কের মধ্যে ১ জন উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। এদিকে সুয়াপুর ইউনিয়নে ভূমি সহকারী পদটি রয়েছে শূন্য।

আবার উপ-সহকারী ২ জনের মধ্যে ১টি ও অফিস সহায়কের ২টির মধ্যে ১টি পদ শূন্য রয়েছে। বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপ-সহকারীর ১টি পদ শূন্য রয়েছে। যাদবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সহকারীর ১টি, উপসহকারীর ২টির মধ্যে ১টি ও অফিস সহায়কের ২টি পদই রয়েছে শূন্য।

ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জন্য ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় আধুনিক ভবন নির্মাণ করে ২০২২ সালের ২৫ জুলাই অফিস কার্যক্রমের উদ্বোধন শুরু করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. শহিদুল ইসলাম। ওই সময় একজন ভূমি উপসহকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি নতুন ভবনে ৭-৮ দিন বসে এলাকার জনগণকে ভূমিসংক্রান্ত সেবা দেন। বর্তমানে ওই অফিস তালা বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। অন্যদিকে জয়পুরা এলাকায় সোমভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ করা হলেও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সদর ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়েই অফিস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ অফিসগুলোতে দীর্ঘদিন জনবলসংকটের কারণে এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনবল সংকটের কারণে বহিরাগতদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। এর ফলে অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফী বলেন, ‘জনবলসংকটের বিষয় একাধিক বার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

এ ব্যাপারে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবদুর রাফিউল বলেন, ‘ভূমি অফিসগুলোতে কিছুটা জনবলসংকট রয়েছে জানি। তবে কিছু পদের বিপরীতে প্রমোশন হলে পদগুলো ফাঁকা হবে। তখন নতুন নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদের বিপরীতে জনবল বাড়ানো যাবে।’

সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৫ এএম
সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরােনর (রহ.) মাজারে প্রায় ৭০০ বছরের অধিকাল থেকে দানের টাকা অনেকটা হিসেব ছাড়া খরচ হচ্ছে। এই ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।

 তিনি জানিয়েছেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের আগে দুটো মাজার পরিদর্শন করে দানের টাকার বিষয়ে সরেজমিন খোঁজ খবর নিয়েছেন ডিসি মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারগুলোর আয়-ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতা নেই। ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই। আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের সঠিক চিত্র, দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।’

জানা গেছে, দুটো মাজারে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। কেউ প্রার্থনা নিয়ে, কেউ মানত নিয়ে। সেই সঙ্গে দান করেন অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও নানা মূল্যবান সামগ্রী। এসবই মাজারের আয়। আয়-ব্যয়ের হিসেবে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এ উদ্যোগে মিশ্র-প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে  মাজারভক্তদের মধ্যে। প্রায় ৭০০ বছরেরও অধিকাল ধরে প্রচলিত ধারায় ব্যহত করতে এমনটি করা হয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়েছে। তারা বলছেন, ‘মাজারে যখন মব হয়, তখন প্রশাসন নীরব থাকে। আর দানের টাকার হিসেব নিতে মাঠে নামছে!’

জানা যায়, সম্প্রতি একটি লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সভায় মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্পষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিলেট জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে। দুই মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মানত, দান ও নজরানা প্রদান করেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দানও জমা পড়ে মাজারে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দান আসে এসব মাজারে। কিন্তু সেই দানের টাকা কিভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা কত টাকা আয় হচ্ছে; এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না। ২০০৩ সালে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী গজার মাছের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে দরগাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। সে সময় সংবাদমাধ্যমে মাজারের বিপুল আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন মাজার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, মাজারের দানের অর্থের একটি অংশ বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারীদের ব্যয়ে ব্যবহৃত হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। কিন্তু সেই ব্যয়ের কোনো সুসংগঠিত ও জনসম্মুখে উপস্থাপিত হিসাব কখনো দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শুক্রবার জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের বিষয়টি নির্ধারিত হয় গত বুধবার অনুষ্ঠিত একটি সভায়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় মাজার দুটির বর্তমান আয়-ব্যয়, দান-অনুদান, প্রশাসনিক কাঠামো, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কমিটির পক্ষ থেকে সুসংগঠিত আর্থিক রেকর্ড ও নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাবপত্র চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে। সভায় বক্তারা বলেন, শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সিলেটবাসীর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবের অংশ। তাই এর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। মাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; বরং এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সম্পদ। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালনা করা জরুরি। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় পরিচালনা এবং নিয়মিত অডিটের বিষয়েও মতামত দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এতে ভক্তদের আস্থা আরও বাড়বে এবং দানের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন মাজার কর্তৃপক্ষ। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, ‘প্রশাসন কেন হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি। সভায় অংশগ্রহণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। আমাদের কথাও শুনতে রাজি হননি জেলা প্রশাসক। আমরা এটা কিভাবে পেলাম এটাও শোনতে রাজি নন। আমাদের একটা কোর্টের রায় আছে। একটা মামলাও চলমান আছে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে কথা বলারও সুযোগ দেননি। আমরা অসহায় হয়ে বসে আছি।’

মাজারে ভক্তদের দান-খয়রাত প্রথা অনুযায়ী ব্যয় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাবপত্র রয়েছে, তবে সেগুলো উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাইনি। তাই কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। তবে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা
ছবি: সংগৃহীত

উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চাকে উৎসাহিত করতে এক দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা উপস্থাপন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ছাড়া স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেলকুচি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, বেলকুচি থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. গোলাম রেজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন।

এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের বিজ্ঞান মেলায় উপজেলার মোট ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল ও প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

মেলা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএন/

টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন উপলক্ষে শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে টাঙ্গাইল সদরের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধ ও খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন রোগব্যাধি সম্পর্কে অনেক খামারির পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় রোগ শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তিনি আরও বলেন, খামারিদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এলএসডি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই ভিত্তির ওপর এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ খামারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েল রানা/এসএন

সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ
নিহত শিশু ফাহিমা। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ১ মাস পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের পাশাপাশি তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুম করতে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে আসামি করা হয়েছে।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা সবাই ফাহিমার প্রতিবেশী। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফায় জাকিরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন।

১২ মে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে ফেরার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে জাকির। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি ব্রিফকেসে ভরে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে সেটি বাড়ির নিচে সরিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে মরদেহটি পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে ডুবে না যাওয়ায় সেটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জাকির। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব আলামত পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফাহিমার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

শাকিলা ববি/এসএন

বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে ঘিরে পর্যটন নগরীর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। একই সঙ্গে জেগেছে নানা প্রত্যাশা।

সমুদ্র, পর্যটন, মৎস্য, লবণ ও ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনার জেলা কক্সবাজার। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটলেও অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে এখনও রয়ে গেছে নানা সীমাবদ্ধতা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেলার উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে একটি ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্সভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

শুক্রবার চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক কোনো দাবি উত্থাপন করা হবে না। তবে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে একটি ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ এবং লবণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যাবে।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল নামকরণ এবং কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।

এদিকে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আকতার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জেলা জুড়ে এখন একটাই আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সফর থেকে কক্সবাজার কী পেতে যাচ্ছে। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের নানা প্রত্যাশা নিয়ে সমুদ্রকন্যা কক্সবাজার তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার দিকে।

তারেকুর রহমান/এসএন