সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে একটি বিতর্কিত ইভেন্টে ‘ইন্টারেস্টেড’ অপশনে ক্লিক করার জেরে বরখাস্ত হয়েছেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ ইউনুস।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ‘মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ পোস্টে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনুস তার ব্যক্তিগত ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্টে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলে পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উস্কানিমূলক বা আপত্তিকর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের আদেশক্রমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লায়ন মুজিবুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস তার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হয়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অশালীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইউনুস তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ফেসবুক ব্রাউজ করতে গিয়ে আমি একজনের ইভেন্ট পোস্টে, যেখানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের একটি কুরুচিপূর্ণ ছবি ছিল, সেখানে অসাবধানতাবশত ‘ইন্টারেস্ট’ বাটনে ক্লিক করে ফেলি। এটি কিছু সময়ের জন্য আমার ফ্রেন্ডলিস্টের টাইমলাইনে দেখা যায়। আমি জানতাম না যে ‘ইন্টারেস্ট’ বাটনে ক্লিক করলে সেটি টাইমলাইনে চলে যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি তা সরিয়ে ফেলি। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসাবধানতাজনিত ভুল। উনার মতো সম্মানিত ব্যক্তি, জেলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের পোস্টে ‘ইন্টারেস্ট’ দেওয়া আমার উচিত হয়নি। আমার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য কক্সবাজারবাসী ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল থেকে সতর্ক থাকব।’
ঘটনাটি ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির নেতা-কর্মী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুসারীরা ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে অনেকেই এটিকে অসাবধানতাজনিত ভুল হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারেকুর/রিফাত/