ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

চট্টগ্রাম কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ঈদ কাটাবে ৪৫ শিশু

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
চট্টগ্রাম কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ঈদ কাটাবে ৪৫ শিশু
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে ঈদ কাটাবে ৪৫ শিশু। সর্বোচ্চ ছয় বছর বয়সী এসব শিশুর জন্য বিশেষ ঈদ উপহারের পাশাপাশি উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ হাজার ২৪৯ জন রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে বন্দী রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। এরমধ্যে ২১২ জন নারী রয়েছেন। তাদের সঙ্গেই এই ৪৫ জন শিশু অবস্থান করছে। ঈদের দিনে এই শিশুদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, কোনো অপরাধ না করলেও কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকার কারণে কারাগারের ভেতরেই এই শিশুদের বসবাস। আমরা এই শিশুদের কাছে ঈদকে উপভোগ্য করে তুলতে চেষ্টা করছি। সব শিশুদের জন্য বিশেষ ঈদ উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের জন্য কেনাকাটাও শেষ হয়েছে। মায়েদের সঙ্গে তাদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুমন/

রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী মাদকের বিরুদ্ধে শপথ নিয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বদরগঞ্জ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আগামীর বাংলাদেশ’ আয়োজিত মাদকবিরোধী প্রচারণা ও কুইজ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের এক পর্যায়ে মাদক সেবন না করার শপথ গ্রহণ করেন শিক্ষার্থী ও আয়োজকরা।

সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা মাদককে না বলার পাশাপাশি নিজ পরিবার ও সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার অঙ্গীকার করেন।

বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা।

এর আগে সংগঠনটি উপজেলার সব কলেজে কুইজ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান।

সংগঠনটি ১২ বছর ধরে বদরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা দিয়ে আসছে আগামীর বাংলাদেশ এর অঙ্গ সংগঠন অণ্বেষণ প্লাস ফ্রি বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুতি প্রোগ্রামের মাধ্যমে।বিনামূল্যে শিক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৭৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে। 

একাধিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়াশোনার পাশাপাশি গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই, নগদ আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে থাকে সংগঠটি। পাশাপাশি মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করে থাকে। আগামীতে বদরগঞ্জের বাড়ি বাড়ি এই আলো ছড়িয়ে দিতে চায় এই সংগঠন।

অনুষ্ঠানে আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঞ্চালনায় আগামীর বাংলাদেশের সভাপতি মো. সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা, আগামীর বাংলাদেশের স্থায়ী পরিষদ সদস্য সানোয়ার খান, ডা. মো আরিফুর রহমান, এখন টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো ইনচার্জ মোকাররম হোসাইন, অ্যাডভোকেট সাব্বির হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শামীম আহমেদ, ঢাবি শিক্ষার্থী লুত হাসান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আরিফ হাসান, সাজ্জাদ হোসাইন সাজু, বেরোবির আব্দুর রহমান প্রমুখ।
 
এ সময় আগামীর বাংলাদেশ-এর স্থায়ী পরিষদ সদস্য ডা. মো. আরিফুর রহমানকে ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের ফাহিম হোসেন প্রথম, লালদীঘি পীরপাল কলেজের ফাল্গুনী আক্তার দ্বিতীয় ও বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের মারুফ হোসেন তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

এ সময় এখন টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো ইনচার্জ মোকাররম হোসাইন বলেন, উপজেলার কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে এই সংগঠন সমাধানের চেষ্টা করে। এই ধারাবাহিকতায় ১২ বছর চলছে সংগঠনটি। আগামীতে উপজেলাকে শিক্ষার নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে কিছু যুবক। পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আগামীর বাংলাদেশ-এর সভাপতি সেলিম সরকার বলেন, সংগঠনটির মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে উপজেলার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার  পাশাপাশি বিভিন্ন সময় শিক্ষাবৃত্তি, ভর্তি সহযোগিতা,এবং উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার  লক্ষ্যে কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, এরকম একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা প্রতিবছর কয়েক শ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়াশোনা করান এটি  বাংলাদেশে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যারা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশুনা করান আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির খরচ পর্যন্ত সরবরাহ করেন।এই আগামীর বাংলাদেশ শুধু বদরগঞ্জে না অন্যান্য উপজেলাতেও যেন এমন বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এই সংগঠনের মাধ্যমে পুরো উপজেলা শিক্ষার্থীরা যাতে সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে। এমন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর পাশে বিত্তবানদের দাঁড়ানোর পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সেলিম সরকার/তামান্না রুপা/

মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সামশুল আলম (৬৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা এলাকার এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সকালে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সামশুল আলম। এ সময় প্রচণ্ড গরমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে সেলিম বলেন, বাবা সকালে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সেখানে অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে না পেরে তিনি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ছৈয়দুল/আমান

লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। লতাপাতায় ঢেকে গেছে গৌরনদীর নাঠৈ এলাকার নির্মাণাধীন সেতু। ছবি: খবরের কাগজ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাদশী ইউনিয়নের নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি আরসিসি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো এটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এদিকে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে চারটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালের আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাঠৈ বাজার থেকে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের খালের ওপর ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের জুলাইয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্পটিতে নানা অনিয়ম ছিল। নির্মাণকাজ চলার সময় বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থাও করা হয়নি। পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার পর থেকে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নেয়। এর পর থেকে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ করা হলেও রেলিং, এপ্রোচ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সেতুর পূর্বপাশ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও পশ্চিমপাশ গিয়ে শেষ হয়েছে একটি পুকুরের ধারে। সেখানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে হলে পুকুর ভরাট ছাড়া বিকল্প নেই বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় সেতুর বিভিন্ন অংশ লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে।

নাঠৈ গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ মতি বলেন, ‘ছোট একটি খালের জন্য এত বড় সেতুর প্রয়োজন ছিল না। সেখানে ৬ থেকে ৭ মিটারের একটি কালভার্টই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে বড় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।  অথচ বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু সেতুর প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করেই কাজ ফেলে রেখেছে।’ একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা সাগর শরীফ বলেন, প্রভাবশালী ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেছেন। এতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মেহেদী হাসান বাদল চূড়ান্ত বিল নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনো বিল পাওনা রয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিলের সুপারিশও করা হয়েছে।’ চূড়ান্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার চলতি বিল নিয়েছেন, চূড়ান্ত বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি।’

তবে উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের শুরুতেই প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছে।

গরমে কমেছে কাজের গতি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
গরমে কমেছে কাজের গতি
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ময়মনসিংহে শ্রমজীবী মানুষের কাজের গতি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর রোদ আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও কৃষকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাঠে বা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে বাইরে বের হলেও অনেকেই গরমে ক্লান্ত হয়ে ঘন ঘন বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের কাজের গতি কমে গেছে। অনেকেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। যারা জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করছেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই ডাবের পানি, তালের শাঁস ও দোকান থেকে ঠাণ্ডা পানি কিনে খাচ্ছেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে বিভিন্ন এলাকায় কিছুক্ষণ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। এ সময় তাপমাত্রা কিছুক্ষণের জন্য কমলেও পরক্ষণেই রোদ ওঠে। এতে ধীরে ধীরে আবারও তাপমাত্রা বেড়ে জনজীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।

শহরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘রোদ এত বেশি যে, রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। একটু পরপর পানি খেতে হয়। আগের মতো কাজও করতে পারছি না।’

নির্মাণশ্রমিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোদে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে আসে। কিন্তু কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে স্বস্তিতে কাজ করতে পারি।’

তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, গরমের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। গরমে কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় থাকতে হচ্ছে। গরমে জমির মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় সেচের খরচও বেড়েছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘দুপুরের দিকে মাঠে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তারপরও ফসল বাঁচাতে মাঠে যেতে হচ্ছে। আজ কিছুক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার পর ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। তবে আবারও রোদ উঠায় গরম অনুভূত হচ্ছে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন
নারী ও শিশু সংশ্লিষ্ট পারিবারিক বিভিন্ন ঘটনার সালিশ-মিমাংসা করে দেয় পল্লীশ্রী। নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলছে সংগঠনটি। ছবি: খবরের কাগজ

স্বপ্না ও রোকসানা, দুটিই ছদ্মনাম। তাদের জীবনের গল্প আলাদা হলেও যন্ত্রণার পথ প্রায় একই। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা, সংসার ভেঙে যাওয়ার বেদনা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা–সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা আজ স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছেন।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার এক গ্রামের বাসিন্দা স্বপ্নার বিয়ে হয় ২০২২ সালে। বিয়ের সময় তার পরিবার ৬ লাখ টাকা যৌতুক দিলেও কিছুদিন পর আবারও টাকার দাবি করেন স্বামী। দাবি পূরণ করতে না পারায় শুরু হয় নির্যাতন। একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত হতে হয় তাকে। সালিশ-বৈঠক ও মামলা-মোকদ্দমা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অবশেষে ২০২৪ সালে ছোট সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে মামলা চলমান থাকলেও স্বামী কোনো ভরণপোষণ দেন না। নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে এখন তিনি কম্পিউটার গ্রাফিক্সের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

একইভাবে রোকসানার সংসারও ভেঙে যায় নির্যাতনের কারণে। বিয়ের এক বছর পর কন্যাসন্তানের জন্ম হলে তাকে নানা অজুহাতে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। ২০২২ সালে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় তাকে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেনমোহরের টাকা পেলেও সন্তান ও নিজের ভরণপোষণ পাননি। বর্তমানে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্যের কাপড় সেলাই করে নিজের ও সন্তানের খরচ চালাচ্ছেন।

স্বপ্না ও রোকসানার মতো অসংখ্য নারী প্রতিদিন যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সালিশ বা মামলা হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার মিলছে না। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করাও তাদের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নির্যাতনের প্রবণতা পুরোপুরি কমছে না।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পল্লীশ্রী’। সংস্থাটি ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৮৪৭ জন নির্যাতনের শিকার নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৫টি অভিযোগ সালিশ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শুধু সমস্যা সমাধানই নয়, নির্যাতিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও কাজ করছে সংস্থাটি। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তাদের কম্পিউটার, সেলাই, বুটিকস, ব্যাগ তৈরি, সুতা দিয়ে হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অনেককে প্রাথমিক মূলধন সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

পল্লীশ্রীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৯৭ জন নির্যাতিত নারীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ৩৩ জন, যৌতুকজনিত নির্যাতনের শিকার ১৫ জন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ২৯ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া জমিজমা বিরোধ, মানসিক নির্যাতন, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, যৌন হয়রানি ও পরকীয়াজনিত নির্যাতনের শিকার আরও ২০ জন নারী সহায়তা পেয়েছেন।

একই সময়ে ১১৫ জন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ জন সেলাই পেশায় যুক্ত হয়েছেন, ২০ জন মুদি দোকান পরিচালনা করছেন, ১৪ জন হোটেল ও চায়ের দোকান চালাচ্ছেন। এ ছাড়া কেউ প্রসাধনীর দোকান, কেউ ব্যাগ তৈরির কাজ, কেউ অনলাইন ব্যবসা কিংবা দুগ্ধ ব্যবসার মাধ্যমে আয় করছেন।

পল্লীশ্রীর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম বলেন, ‘নারী নির্যাতনের ঘটনা কমাতে হলে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক মূলধন সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নারীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সহায়তা করছি।’

তিনি বলেন, ‘একজন নারী যখন নিজের আয়ের উৎস তৈরি করতে পারেন, তখন তিনি শুধু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তিই পান না, নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎও নিরাপদ করতে পারেন।’