রাজবাড়ীর বিভিন্ন তেল পাম্পে অকটেন ও পেট্রলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার প্রায় সবগুলো পাম্পেই জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলসহ পেট্রলচালিত যানবাহনের চালকরা।
বিশেষ করে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষজন পড়েছেন বিপাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেল থেকেই জেলার অধিকাংশ পাম্পে অকটেন ও পেট্রলের মজুদ ফুরিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর ডিপো থেকে নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ না আসায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ পাওয়ায় খুব অল্প সময়েই মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রাহকদের চাপ বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে উত্তেজনাও। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকরা। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
ঢাকাগামী মোটরসাইকেল চালক শাহীন শেখ বলেন, ‘আমি কুমারখালী থেকে ঢাকায় যাচ্ছি। একটি মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আগামীকাল থেকে অফিস, কিন্তু কুমারখালী থেকে রাজবাড়ীর পাংশা পর্যন্ত পাঁচটি তেল পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাইনি। এখন কীভাবে ঢাকায় যাবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ, দাম বেশি নিলেও যেন তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়।’
খুলনা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি এসে বিপাকে পড়েছেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি একটি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করি। মোটরসাইকেল ছাড়া আমার মাঠ পর্যায়ের কাজ করা সম্ভব নয়। এখন খুলনা পর্যন্ত যাওয়ার মতো তেল পাচ্ছি না। খুবই বিপদে আছি।’
পাংশা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘তেলসংকটে আমরাও চরম বিপাকে আছি। গ্রাহকরা এসে অভিযোগ করেন, আমরা নাকি মজুদ করে রেখেছি। অনেকেই খারাপ আচরণ করেন, হুমকিও দেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের স্টেশনে ঈদের দিন দুপুর থেকেই অকটেন ও পেট্রল শেষ। এখনো কোনো সরবরাহ পাইনি। গাড়ি পাঠিয়েও বসে থাকতে হচ্ছে।’
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে জ্বালানি না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাতায়াত করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এতে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, পণ্য পরিবহনসহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুমন বিশ্বাস/অমিয়/