কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে প্রশাসনিক জটিলতা।
জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দাউদকান্দি পৌরসভায় তিনটি, দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়নের পাঁচটি, গৌরীপুর ইউনিয়নে চারটি, জিংলাতলী ইউনিয়নে তিনটি, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে পাঁচটি, ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে তিনটি, মালিগাঁও ইউনিয়নে সাতটি, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে দুটি, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ছয়টি, মারুকা ইউনিয়নে চারটি, বিটেরশ্বর ইউনিয়নে তিনটি, দৌলতপুর ইউনিয়নে পাঁচটি, সুন্দলপুর ইউনিয়নে তিনটি, বারপাড়া ইউনিয়নে তিনটি, গোয়ালমারী ইউনিয়নে তিনটি ও পদুয়া ইউনিয়নের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দাউদকান্দি পৌর এলাকার একটি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক না থাকলে অন্য একজন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন তিনি প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ঠিকমতো ক্লাসে সময় দিতে পারেন না। এতে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়।’ বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পাঠদানের জন্য প্রধান শিক্ষকের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাউয়াদি (পশ্চিম) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহিনুর আক্তার বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে আমাদের স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। আমি ছয় বছর ধরে এ স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। এ কারণে সব সময় ক্লাস নিতে পারি না। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক থাকলে অবশ্যই শিক্ষার গুণগত মান আরও বৃদ্ধি পাবে।’ প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে বলেও জানান তিনি।
উত্তর গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি প্রান্তিক এলাকায়। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের শিক্ষক থাকার কথা আটজন, কিন্তু আছেন পাঁচ জন। এতে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদান করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আহসান বলেন, ‘উপজেলার ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বিষয়টি আমরা আমাদের জেলা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। পাঠদানের মানোন্নয়নের জন্য স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।’
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অবশ্যই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’