কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা ত্বরান্বিত করা, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ও ব্যবহার এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) এর আওতায় ঈশ্বরদী ডাল ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (বিএআরআই) মিলনায়তনে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে পার্টনার কংগ্রেস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি পাবনার উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক। সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন।
এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি পাবনার অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. নূরে আলম, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন, সমবায় কর্মকর্তা আকন্দ রাব্বেউল্লাহ মানিক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন স্বাগত বক্তব্যে বলেন, কংগ্রেস পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কৃষকদের মাঝ থেকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা। কৃষক সমাজ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা। উৎপাদিত ফসলের খাদ্য ও পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণ এবং দেশের কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ করা।
প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি পাবনার উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি অনেক এগিয়ে গেছে। আরও কৃষি এগিয়ে যেতে হলে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় যেতে হবে। এজন্য সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকার মূল চাবিকাঠি কৃষক সমাজ। করোনাকালীন সময়ে সারা বিশ্ব থমকে গেলেও কৃষকেরা থমকে দাঁড়ায়নি। করোনার সময় কৃষকেরা কখনো মাস্ক ব্যবহার করেননি। তারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে, মাস্ক ব্যবহার না করে মাঠে গিয়ে কৃষি কাজ করেছেন, ফসল উৎপাদন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ইয়ার ফ্লু মেশিন দিয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে সরকার। এই ইয়ার ফ্লু মেশিনের সাহায্যে একজন কৃষক তার নিজ বাড়ির একটি ঘরেই ৩০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবে। কৃষক যদি তার উৎপাদিত পেঁয়াজ দীর্ঘসময় সংরক্ষণে রাখতে চায় তাহলে কৃষি বিভাগ ইয়ার ফ্লু মেশিন প্রদান করে কৃষককে সহযোগিতা করা হবে।
এ পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে ১০০ জনের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণী, কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন। পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানস্থলে স্টল বসানো হয়, স্টলে কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত জাতের ফসল ও কৃষিপণ্যও প্রদর্শন করা হয়।
জাহাঙ্গীর হোসেন/এসএ