ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী 'নজরুল বর্ষ' পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ব্রাজিল-মরোক্কো ম্যাচের সেরা ৭ ছবি চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু
Nagad desktop

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতন: চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতন: চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে আয়েশা আক্তার (১০) নামে এক গৃহপরিচারিকাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুটিকে গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। আয়েশা জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্ত চিকিৎসক দম্পতি কে. এম. আব্দুল্লাহ আল নোমান ও কিমিয়া সাদাদ তোফাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নির্যাতিত শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ মাস আগে আয়েশাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকায় চিকিৎসক দম্পতি কে. এম. আব্দুল্লাহ আল নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফার বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। তবে গত তিন মাস ধরে পরিবারের কারও সঙ্গে আয়েশাকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। সম্প্রতি ওই চিকিৎসক দম্পতি আয়েশার পরিবারকে জানায়, সে বাড়ি থেকে চুরি করে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গত ২৬ এপ্রিল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে আয়েশার পরিবার। এর প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পতির বাড়ির পাশের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। শিশুটির গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে নির্যাতিত শিশুর পরিবার। পরে দুপুরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, আয়েশাকে বিভিন্ন সময় কাজের জন্য নির্যাতন করা হতো। উল্টো আয়েশাকে চোর বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক নোমান জানান, তার স্ত্রী চিকিৎসক তোফা গর্ভবতী হওয়ায় তার দুই শিশুকে দেখাশোনা করার জন্য আয়েশাকে তিনি তার ঘরে নিয়ে এসেছিলেন। সম্প্রতি তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে ছিলেন। গত ২২ এপ্রিল আয়েশা তাদের ঘর থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। চুরির ঘটনাকে আড়াল করতেই তাদের বিরুদ্ধে আয়েশাকে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন চিকিৎসক নোমান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, নির্যাতনের ঘটনায় চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা চলছে/ ছবি: খবরের কাগজ

হাম উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে সেখানে ৫১টি শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৫টি শিশু ভর্তি হয়েছে।

গত ৪ জুন রাত ১২টায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে আড়াই বছরের শিশু ছেলেকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। শিশুটি হাম উপসর্গের পাশাপাশি সেপটিসেমিয়াসহ (রক্তে গুরুতর সংক্রমণ) সেপটিক শকে ভুগছিল।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৪ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৮৭টি শিশু ভর্তি হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ নিয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯৪০টি শিশু। 

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে মোট ৯৬টি শিশু। শিশুদের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা দিনরাত সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কামরুজ্জামান/আমান

বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত
ছবি: খবরের কাগজ

যশোরের বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ডাকা কর্মবিরতি স্থগিত করেছে পণ্য লোড-আনলোড কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। 

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে স্থলবন্দরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থানের পর তাদের কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সরকারের বাজেট প্রণয়নের চলমান সময় বিবেচনায় নিয়ে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০১২ সালে বেনাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকরা পেতেন মাত্র ১৮ টাকা। বর্তমানে ২০২৬ সালে সেই হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো ১৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মজুরি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক মাস পর পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ রেখে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, শ্রমিকদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার
ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) খোরশেদ আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অভিযোগ ওঠার পরপরই তাকে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, তার মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করে আসছেন। সেই সুবাদে ওই কিশোরীও প্রায়ই তদন্তকেন্দ্রে যাতায়াত করত।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে তার ঘরে ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে।

ঘটনাটি কাউকে না জানাতে কিশোরীকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় টাকার প্রলোভনও দেখানো হতো। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানান তারা।

অপরদিকে, ধর্ষণের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, 'জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত এক এএসআইয়ের (সহকারী উপ-পরিদর্শক) অনিয়মের কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। এতে তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।'

খোরশেদ আলমের দাবি, যে কিশোরীকে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে, সে মূলত ওই এএসআইয়ের বাসায় কাজ করত। বদলির প্রতিশোধ নিতেই ওই এএসআই পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে সরকারি একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

হাতিয়া থানার ওসি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজহার/অমিয়/

মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়কটি এখন যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভারী বর্ষণের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত। 

রবিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত এই ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বৃষ্টির পানির চাপে হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে বড় ধরনের ছিদ্র এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি স্থানে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আমিরাবাদ, মোহনপুর, ষাটনল, শিকিরচর, এখলাসপুর, জহিরাবাদ, আমিরাবাদ ও জনতাবাজার-সংলগ্ন এলাকাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার একটি পৌরসভা ১৪টি ইউনিয়নের মানুষকে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩২ হাজার ১১০ একর ফসলি জমি সুরক্ষিত রয়েছে। তবে নির্মাণের পর এ পর্যন্ত অন্তত দুবার বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কয়েক শ কোটি টাকার ফসল, ঘরবাড়ি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল।

বর্তমানে বেড়িবাঁধের উপর নির্মিত পিচঢালাই সড়কটি মতলব উত্তর উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। শুধু মতলব নয়, ঢাকা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহনও এ সড়ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু সড়কের বর্তমান অবস্থা জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাকচালক মো. সোহেল মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে মালামাল পরিবহন করি। কয়েকটি স্থানে এমন বড় বড় গর্ত হয়েছে যে, সামান্য অসাবধান হলেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন আহমেদ জানান, বৃষ্টি হলেই নতুন করে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক স্থানে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে নিচের মাটি ধসে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের একাংশ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

অটোরিকশাচালক মো. নাজমুল হাসান বলেন, দিনে কয়েকবার এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই বিপদে পড়তে হয়। বর্ষার কারণে গর্তগুলো আরও বড় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার ঝুঁকির বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বালুর বস্তা, মাটি ও ইট ফেলে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান নয়।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ বলেন, 'বেড়িবাঁধ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।  বর্ষা মৌসুমে যাতে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি না বাড়ে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, 'বেড়িবাঁধ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে।'

শাহাদাত/খাদিজা রুমি/

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) রাতে চট্টগ্রাম সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে প্রত্যাহার সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে খুলশী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বাসায় ফেরার পথে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে বরখাস্ত করা হয় এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়।

এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সিএমপি।