উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে, যার প্রাথমিক মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রথম দফায় পানির নিচে তলিয়ে যায় ফসল। তখন ধান কাঁচা থাকায় পানির নিচে তলিয়ে গেলেও কেটে আনা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় দফায় আবার ২৬ এপ্রিল থেকে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকসংকট থাকায়, পানি কম থাকলেও ধান কেটে আনা সম্ভব হয়নি।
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে বজ্রপাতে ৮ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে উচ্চ মূল্যের শ্রমিক দিয়ে এক সপ্তাহে ধান কেটে আনা হলেও রোদের অভাবে সেই ধান নষ্ট হয়ে যায়। এতে হাওরজুড়ে এখন ফসলহারা কৃষকের আর্তনাদ।
সুনামগঞ্জের মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যা জমি করেছি সব পানির নিচে। কেটে আনার সাধ্য নেই। পানি ঢুকার আগে যা কেটে এনেছিলাম, সেই সব ধান খলাতেই পড়ে আছে, চারা উঠে গেছে। আমাদের আর কিছুই করার নাই।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যার প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। জেলায় ২৩ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, বাকি ৪৯ শতাংশ জমিতে রয়েছে। ক্ষতি আরও বাড়তে পারে এমনটাই আশঙ্কা কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘মধ্যনগরের এরন বিল ও জিনারিয়া বাঁধ ভেঙে গেছে। এই বাঁধগুলো বড় হাওরের না হলেও তা ভেঙে তিনটি ছোট হাওরে পানি ঢুকেছে।’
দেওয়ান গিয়াস/আমান/এসজি/