মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, চা-শ্রমিক সন্তানদের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান/দপ্তর/বিভাগে যোগ্যতানুসারে চাকরিতে যোগদানের বিশেষ নির্দেশনা প্রণয়নসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে র্যালি করেছে চা-শ্রমিক নারীমঞ্চ, সিলেট।
শুক্রবার (১ মে) দুপুর ২টায় মালনীছড়া চা বাগান থেকে র্যালী করে সিলেট নগরীর আম্বরখানা পর্যন্ত আসে।
র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় চা-শ্রমিক নারীমঞ্চের নেতৃবৃন্দ বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নারী শ্রমিকদের অবস্থান নিয়ে। চা শ্রমিক নেতৃরা বলেন, চা শিল্পে চা বাগানে পাতা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ৯০ শতাংশ শ্রমিকই নারী। যারা প্রতিদিন চা পাতা সংগ্রহের কঠোর শ্রমের পাশাপাশি পরিবার, সন্তান এবং গৃহস্থালির দায়িত্বও বহন করেন। কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন সুবিধা, পুষ্টি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ কিংবা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। নারী শ্রমিকদের শ্রমের মূল্যায়ন এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
চা-শ্রমিক নারীমঞ্চের দাবিগুলো হলো- চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ। চা-শ্রমিকদের বসতভিটার মালিকানা নিশ্চিতকরণ। সরকারি তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন দ্রুত আয়োজন। বন্ধ চা-বাগানগুলো জরুরি ভিত্তিতে চালু করা। চা-শ্রমিক সন্তানদের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন। শ্রম আইনে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক বিধান সংশোধন। চা-শ্রমিক সন্তানদের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান/দপ্তর/বিভাগে যোগ্যতানুসারে চাকরিতে যোগদানের বিশেষ নির্দেশনা প্রণয়ন। ২০ মে 'চা-শ্রমিক দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান। নারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রতিটি চা-বাগানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা সুবিধা ও চাইল্ডকেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
চা-শ্রমিক নারীমঞ্চের সভাপতি সুমি নায়েক বলেন, ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনিছড়া চা বাগান থেকে চা শিল্পের যাত্রা শুরু হয় এই এলাকায়। চা বাগানে পাতা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ৯০ শতাংশ শ্রমিকই নারী। তখন থেকে চা শ্রমিক নারীরা সব দিকে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। এই বঞ্চনা এখনো চলমান আছে। আমাদের না আছে ন্যায্য মজুরি, না আছে মর্যাদা ও অধিকার। দেশের সব শ্রমিকদের জন্য সবাই কথা বললেও চা শ্রমিকদের জন্য কথা বলেন গুটি কয়েক মানুষ। এই যুগেও চা শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করেন। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চা বাগানে কাজ করলেও ভূমির মালিকানা, ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত আমরা। চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সরকারের কাছে আমাদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে দাবি জানাই।
শাকিলা ববি/এসএন