সাতক্ষীরায় আজ থেকে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহ। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন বাগানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই জাতের আম পাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চাষিরা।
চাষিদের অভিযোগ, জেলার প্রধান পাইকারি বাজার ‘বড় বাজার’-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিকল্প পাইকারি বাজার বা আড়ত না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানেই আম বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
ফিংড়ি এলাকার আমচাষি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর ফলন ভালো হলেও বাজারে গিয়ে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম হওয়ায় অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়। বিকল্প বাজার ব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা সরাসরি ভালো দামে বিক্রি করতে পারতেন বলে জানান তিনি।
দেবহাটার চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, এককেন্দ্রিক বাজার ব্যবস্থার কারণে তাদের বাধ্য হয়েই বড় বাজারে আম বিক্রি করতে হয়। এতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান, যার প্রভাব পড়ে চাষিদের ওপর।
কালীগঞ্জের নুর ইসলাম গাজী বলেন, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে দাম না পাওয়ায় চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
অন্যদিকে অনলাইন উদ্যোক্তারা বলছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতার কাছে আম পৌঁছে দিলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব অনেকটা কমানো সম্ভব এবং কৃষকের লাভের সুযোগ বাড়ে।
অনলাইন উদ্যোক্তা মৃত্যুঞ্জয় সরকার বলেন, অনলাইন মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরাসরি অর্ডার নিয়ে আম সরবরাহ করা হচ্ছে, এতে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে এবং বাজারের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমছে।
আরেক অনলাইন উদ্যোক্তা জনি হোসেন বলেন, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে সাতক্ষীরার আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে সিন্ডিকেট নির্ভরতা কমবে এবং বাজার আরও বিস্তৃত হবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরার আমের বাজার সম্প্রসারণে কৃষিবিভাগ কাজ করছে। কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ ও বাজার সংযোগে সহায়তা করা হচ্ছে যাতে তারা ন্যায্য মূল্য পান।
এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে আম সংগ্রহ এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে বাজারজাতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেমিক্যাল ব্যবহার বা বাজারে অস্বচ্ছতা তৈরি করা যাবে না। অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিরাপদ আম বাজারে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।
এবার জেলায় প্রায় ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের এই বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
জাকির/অন্তরা