জামালপুরের ইসলামপুরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের দায়ে তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো, ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শিলদহ এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে শিপন (২১), সিদ্দিক মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম (২৭) ও আরমান আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (২২)। এছাড়াও একই এলাকার মুনতাজের ছেলে মো. সাদিককে খালাস প্রদান করা হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ এলাকার ১৬ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে একই এলাকার সাদিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। গত ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে সাদিক ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশের ক্ষেতে ডেকে নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ সময় আগে থেকেই উৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহীম ও ইউসুফ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক দৌড়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দিবে এই ভয় দেখিয়ে ওই তিনজন কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পরে ওই তিনজন কিশোরীকে তার বাড়িতে পৌছে দেয়। এই ঘটনায় ওই বছর ৫ মে নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সাদিকসহ চার জনকে আসামি করে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় ৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে আজ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী আদালতে জবানবন্দি দেয় যে তার সম্মতিতে সাদিকের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়। এ কারণে আসামি সাদিককে আদালত মামলা থেকে খালাস প্রদান করে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক ও রোজীনা আক্তার। আর আসামি পক্ষের ছিলেন অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ আকাশ, রাফিউর রহমান ও আজিজুল হক।
আসমাউল আসিফ/অন্তরা