নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নির্মাণকাজের ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২)। সে এক বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার।
রবিবার (১৭ মে) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে সোনারগাঁও থানা একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিহত নুরুদ্দিন হাওলাদার ভোলা জেলার সদর উপজেলা পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালেরহাট গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা নিউটাউন আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করতেন।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার আব্দুর রবের বাড়ির নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেন নুরুদ্দিন। কাজ শেষ হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাকে আরও কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের স্ত্রী মাইমুনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী কয়েকবার পাওনা টাকা চাইতে গেলে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে। গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে জাহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান শুভ বাসায় এসে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাস্তায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালিয়ে তার স্বামীকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ভাই মিজান রহমান জানান, আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে মোটরসাইকেলে করে এসে নুরুদ্দিনকে বাসা থেকে ডেকে রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে তর্ক শুরু হলে হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে আহত করেন। একটি আঘাত সরাসরি তার বুকে লাগে।
মিজান বলেন, আমি ৭ তলা থেকে নিচে নামতে নামতেই তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রবিবার ভোরে তিনি মারা যান।
স্বজনদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই নুরুদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও সাড়ে তিন মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে দুপুরে জনসম্মুখে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো: ইমরান হোসেন/এসএন