ঈদুল আজহা সামনে রেখে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। তবে হাটে মানুষের ভিড় থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। বিক্রেতারা বলছেন, গরু দেখতে অনেক মানুষ এলেও প্রকৃত ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন।
এ বছর বরিশাল নগরীর তিনটিসহ ১০ উপজেলায় কোরবানির পশুর মোট ৬৩টি হাট বসেছে। এসব হাটে বরিশালের স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা গরু নিয়ে এসেছেন।
বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় সব ধরনের গরুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে হাটে এসে দাম শুনে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার শেষ সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে তুলনামূলক কম দামে পশু কেনা যায়।
হাট থেকে যা জানা গেল
হাট বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত বছর বড় আকারের যে গরু ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার সেই একই ধরনের গরুর দাম ২ লাখ ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। মাঝারি আকারের গরু, যা গত বছর ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই ধরনের গরুর দাম এবার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি চাওয়া হচ্ছে। এমনকি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার গরুর দামও এখন ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
বিক্রেতাদের দাবি, গো-খাদ্য, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গরুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে আগের দামে পশু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্রেতাদের মন্তব্য
চরমোনাই গরুর হাটে আসা ক্রেতা মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘গত বছর ৮০ হাজার টাকায় যে গরু কিনেছিলাম, এবার একই ধরনের গরুর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। দাম অনেক বেশি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।’
কাউনিয়া গরুর হাটে আসা আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘এখনো ঈদের কয়েক দিন বাকি আছে। তাই বিভিন্ন হাট ঘুরে দাম যাচাই করছি। শেষ সময়ে ভালো দামে গরু কিনতে চাই।’
বিক্রেতাদের মন্তব্য
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে তারা কম দামে পশু বিক্রি করতে পারছেন না।
কুষ্টিয়া থেকে গুয়াচিত্রার হাটে আসা ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন জানান, গত সোমবার ১২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। কিন্তু এখনো একটি গরুও বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দাম বলছেন। এতে আমাদের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।’
চরমোনাই হাটের ইজারাদারের সহযোগী বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘এবার হাটে গৃহস্থের গরু তুলনামূলক কম। বেশির ভাগ গরুই ব্যাপারীদের। তাই কেউ সহজে দাম ছাড়ছে না। আবার ক্রেতারাও এখনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। ফলে হাটে দর্শক বেশি, ক্রেতা কম।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৩টি। এর বিপরীতে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬৭ হাজার ৬৬২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে অবৈধ পশুর হাট ঠেকাতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, ‘প্রতিবছর সড়ক ও মহাসড়কের পাশে অবৈধ পশুর হাট বসানোর কারণে যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে এবার নির্ধারিত ইজারাকৃত স্থান ছাড়া কোথাও পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ নজরদারি টিম কাজ করছে। হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অস্থায়ী পশু চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’