ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা সালমান (রা.) কীভাবে সত্যকে চিনলেন? মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি ১৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের
Nagad desktop

কমলগঞ্জে বিদ্যালয় যখন বসতবাড়ি!

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
কমলগঞ্জে বিদ্যালয় যখন বসতবাড়ি!
ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কালারাইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে পরিবার নিয়ে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহল। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য বিদ্যালয়টি এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত ছিল। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ, ফুলের বাগান ও গোছানো পরিবেশ মিলিয়ে এটি সীমান্ত এলাকার অন্যতম আকর্ষণীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে সম্প্রতি সেই সুনাম যেন প্রশ্নের মুখে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষ দখল করে সেখানে বসবাস করছেন একজন শিক্ষিকা। কক্ষে খাট-বিছানা, রান্নার সরঞ্জামসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন সামগ্রী রাখার ফলে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

অভিভাবকদের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে যেমন বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও মানসিকতাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তাদের মতে, বিদ্যালয়ের পাশে বাসা ভাড়া নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিদ্যালয়কে বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন ওই শিক্ষিকা। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বণিক বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা তার ছোট সন্তানকে নিয়ে সাময়িকভাবে ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। শিশুর দেখাশোনার জন্য একজন সহায়ক নারীও ছিলেন। তবে খুব দ্রুতই সব সরঞ্জাম সরিয়ে কক্ষটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা শিক্ষা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে ইকবাল হোসেন মালিতা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে মোমিনপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইকবাল হোসেন মালিতা আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের কান্তপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত আলতাব হোসেন মালিতার ছেলে।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে চিলাহাটি অভিমুখী রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ভাই জানান, ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতেন। চারদিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি আত্মহত্যার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন ট্রেনে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উপপরির্দশক এসআই জগদীশ জানান, বিকেল ৩টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর সত্যতা পায়। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক ইনজেকশন ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে। তার স্ত্রী মারা গেছেন এবং তার চার কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় ট্রেনে ঘুরে বেড়াতেন।

মিজানুর রহমান/অন্তরা

সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর সেনবাগে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন।

শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানকিরহাট-ছাতারপাইয়া-সোনাইমুড়ী সড়কের সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় এলাকার মুন্সি দোকান নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুইভাই আসিফ ও আরিফ সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া গ্রামের মো. আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনজন দ্রুতগতির মোটরসাইকেলে করে ছাতারপাইয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে মুন্সি দোকান এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ছাতারপাইয়া বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই ভাই আসিফ ও আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে আহত শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ইকবাল/আমান

বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। বরং সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এমন বাস্তবতায় নতুন বাজেটে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছে। পাশাপাশি বন্ধ শিল্পকলকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজও দিয়েছে সরকার। 

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রায় এক দশক ধরে জিডিপির ২২-২৩ শতাংশের আশেপাশে আটকে আছে। অথচ দেশের উন্নতির জন্য এই বিনিয়োগ কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হওয়া উচিত। 

সরকার এবারের বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতে কর সুবিধা অব্যাহত রাখা, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসা সহজীকরণ উন্নত করার পরিকল্পনা। এ ছাড়া কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেসরকারি খাতকেই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো সমাধানের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। শুধু সমস্যাগুলো উল্লেখ করলেই হবে না, বরং সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন। কেননা, শুধু বাজেটে প্রণোদনা বা ঘোষণা দিলেই বিনিয়োগ বাড়ে না; বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। বর্তমানে সেই আস্থার জায়গাটিই দুর্বল। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদের হার নতুন বিনিয়োগে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ পাচ্ছেন না, আবার যারা পাচ্ছেন তাদের জন্য ঋণের খরচও বেড়েছে। ফলে নতুন শিল্প স্থাপন বা সম্প্রসারণে অনীহা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা শিল্প খাতের বড় উদ্বেগ। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক থাকছেন।

এই প্রসঙ্গে সাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো সমাধানের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। শুধু সমস্যাগুলো উল্লেখ করলেই হবে না, বরং সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন। তিনি বলেন, বাজেটে সরকারের ঘোষিত বিনিয়োগ উদ্যোগ আংশিক বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও স্বল্প সময়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি করা কঠিন হবে। কারণ অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ এখনো আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে। কেননা, একই ধরনের শ্রমবাজার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশকে পাশ কাটিয়ে অন্য দেশে যাচ্ছে, কারণ সেখানে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। শুধু কর রেয়াত দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আসে না; প্রয়োজন আইনের শাসন, চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা, মুনাফা স্থানান্তরের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো।

এ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু কর ছাড়, শুল্ক সুবিধা বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল ব্যবসা পরিবেশ, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করবে, কিন্তু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার উপযোগী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা রাষ্ট্রেরই কাজ। এই পরিবেশ নিশ্চিত না হলে কেবল প্রণোদনা বা নীতিগত ঘোষণা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ অর্জন সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা নতুন নয়; বরং বাস্তবায়নই মূল সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে কর অবকাশ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, দ্রুত অনুমোদনের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, ভূমিসংকট, দুর্নীতি এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগ পরিবেশকে দুর্বল করে রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নীতিগত ঘোষণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তারা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না।

তাদের মতে, এবারের বাজেটে উৎস করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামোর আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে কর ছাড়ের বিষয়টি বেশ প্রশংসার যোগ্য। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রিমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধানকে স্বাগত জানান তারা। তবে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা ও সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ হতাশাজনক। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও প্রযুক্তিপণ্যে কর হ্রাস দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে সহায়ক হবে।

অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি (গ্যাস-বিদ্যুৎ) সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঘন ঘন রাজস্বনীতি পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মীর নাসির। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য কর ছাড়ের চেয়েও বেশি প্রয়োজন নীতি-স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ। উদ্যোক্তা যদি মনে করেন আগামী বছর নীতিমালা বদলে যাবে, তাহলে তিনি বড় বিনিয়োগে যাবেন না। পাশাপাশি বাজেটে যেসব আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কাগজ-কলমে না রেখে মাঠপর্যায়ে কতটুকু বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে এর সুফল কতটুকু পৌঁছায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

একই বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য। তবে বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার যদি ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নির্ভর হয়, তাহলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি সরকার সত্যিকার অর্থে প্রশাসনিক বাধা কমাতে পারে, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে এবং নীতি-অনিশ্চয়তা দূর করে, তাহলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। 

রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
রাজবাড়ীতে ‘ভুয়া মামলার’ গ্যাঁড়াকলে শিক্ষক দম্পতি: সাক্ষীদের অস্তিত্ব ও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন
প্রতীকী ছবি

রাজবাড়ীতে এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. কুলসুম ওরফে ক্যাসেট এই মামলাটি করেছেন।

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পতির দাবি, তারা এই নারীকে আগে কখনো দেখেননি। এমনকি পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক দম্পতি হলেন মো. গোলাম আওয়াল খান মাসুদ ও মোছা. মাছুমা খাতুন। তারা দুজনেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। গোলাম আওয়াল খান মাসুদের বাড়ি সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদপুর গ্রামে। বর্তমানে রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার এলাকায় বসবাস করেন। অন্যদিকে মামলার বাদী কুলসুমের বর্তমান ঠিকানা পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া উল্লেখ করা হলেও তিনি বোয়ালিয়াতেই থাকেন বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী কুলসুমের ছেলে শামছুল মণ্ডলকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে শিক্ষক দম্পতি গত বছরের ১৫ জানুয়ারি ৫ লাখ টাকা নেন। পাঁচ মাসের মধ্যে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পাঠাতে পারেননি। এক পর্যায়ে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর পাংশা আমলি আদালতে মামলা করেন বাদী। গত এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

তবে মামলার আসামিদের দাবি, বাদীর সঙ্গে তাদের কোনো পূর্বপরিচয় নেই এবং বাদীর কাছ থেকে তারা কোনো টাকা নেননি। তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।

মামলাটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত প্রমাণ বাদীপক্ষ দেখাতে পারেনি।

মামলায় মোট পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর সাক্ষী বাদীর ছেলে শামছুল মণ্ডল। তিনজন পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেমনামারা গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে সবির খাঁ, জব্বার খাঁর ছেলে হাবিবুর রহমান ও ইসমাইলের ছেলে গোলাম সরোয়ার। অন্যজন পাংশা উপজেলা কসবাঝাইল ইউ‌নিয়নে‌ কুটিমালিয়াট গ্রামের ফণী ভূষণ বসুর ছেলে সাগর বসু। এদের মধ্যে শুধু সাগর বসুকে খুঁজে পাওয়া গেছে। বাকি সাক্ষীদের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

সাগর বসু জানান, তিনি মামলার বাদী কুলসুম নামে কাউকে চেনেন না। গত পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি কোনো মামলার সাক্ষীও হননি। তার নাম কীভাবে এই তালিকায় এল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।

মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও বাদীর ছেলে শামছুল মণ্ডল বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার জন্য তার মা রাজবাড়ীর একজনের কাছে টাকা জমা দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই ব্যক্তিকে কখনো দেখেননি। টাকা দেওয়ার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।’

তাহলে কীভাবে তার চোখের সামনে টাকা দেওয়া হয়েছে মর্মে সাক্ষী দিলেন–এমন প্রশ্নের জবাবে শামছুল বলেন, ‘আমার মা গিয়ে টাকা দিয়ে এসেছে। তার মাধ্যমে আমি জানতে পারি।’ শামছুল আরও জানান, তার মায়ের কোনো বোন নেই। তারা দুই ভাই এক বোন।

অথচ প্রতিবেদক দেখা করতে চাইলে প্রথমে সময় দিয়েছিলেন বাদী কুলসুম। পরে এলাকায় গিয়ে ফোন করলে তিনি বলেন, আধা ঘণ্টা আগে পাবনায় তার বোন মারা গেছেন এবং তিনি সেখানে যাচ্ছেন।

গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাদী কুলসুমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আছেন। কিন্তু বোয়ালিয়া গ্রামে গিয়ে ফোন করলে তিনি আবারও দাবি করেন, আধা ঘণ্টা আগে পাবনায় তার বোন মারা গেছেন এবং ধাওয়াপাড়া ঘাটে ফেরিতে উঠে গেছেন তিনি। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের সহায়তায় কুলসুমের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর কুলসুমের পুত্রবধূ বাড়িতে এসে জানান, তার শাশুড়ি বাড়িতেই ছিলেন। ফোনে কথা বলার পর কোথায় যেন চলে গেছেন।

পরে কুলসুমের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনি কিসের সাংবাদিক। আপনি আমার বাড়িতে গিয়েছেন কেন? আমি আদালতে মামলা করেছি, আদালতেই এর ফয়সালা হবে। আপনার কাছে এর জবাব দিতে আমি বাধ্য নই। আপনাদের সবার নামে আমি মামলা দেব।’ এই কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় কুলসুম প্রতিবেদককে ফোনে মামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মামলায় ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বাদীর ছেলেই স্বীকার করেছেন, টাকা লেনদেনের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তাহলে কীভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তসাপেক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। যদি এই প্রতিবেদনের বিষয়ে আসামিপক্ষের আস্থা না থাকে, তাহলে তারা আদালতের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন। আদালতই বিষয়টি দেখবে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. গোলাম আওয়াল খান মাসুদ বলেন, ‘যে আদালতে মামলা হয়েছে সেখানে আমার একজন বন্ধু চাকরি করে। সে আমাকে মামলার বিষয়ে জানায়। কুলসুমকে আমি কখনো দেখিনি। তার সঙ্গে কথাও হয়নি কখনো। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই শিক্ষকতা করি। এর বাইরে আমরা কোনো কিছুর সঙ্গেই জড়িত না। মামলার বিষয়ে পুলিশও কখনো যোগাযোগ করেনি। আমরা এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চাই। সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।’

বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দেশজুড়ে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বরিশালে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। তীব্র গরম, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক হারে রোগী ভর্তি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং  সদর হাসপাতালে অনেক রোগীকেই মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংক্রামক রোগের এই বহুমুখী চাপ জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আট দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ২১ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যদিও অনেক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, তবুও নতুন আক্রান্তের ধারাবাহিকতা উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা মাত্র চারটি। রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ছয়টি শয্যা যুক্ত করে মোট ১০টি বেড চালু করা হয়েছে। তবে শয্যার তুলনায় প্রতিদিন রোগী বেশি আসায় অনেককেই হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

চিকিৎসা নিতে আসা আশিকুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে হাসপাতালে আসি। এখানে এসে দেখি অনেক রোগী ভর্তি। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়নি। হাসপাতাল থেকেই বেশির ভাগ ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে।’

তাসলিমা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার শ্বশুর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ওয়ার্ডে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে আশপাশের অনেক মানুষও অসুস্থ হচ্ছেন।’
সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন ভর্তি হন ১৩ জন, ৫ জুন ২০, ৬ জুন ১৩, ৭ জুন ১৯, ৮ জুন ২১, ৯ জুন ১৮, ১০ জুন ১৭ এবং ১১ জুন ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। 

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে অসচেতনতার কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুতে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দূষিত পানির মাধ্যমে রোগজীবাণু সহজে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং খোলা খাবার এড়িয়ে চলার বিকল্প নেই।

এদিকে দেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. লোকমান হাকিম বলেন, ‘হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপ আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এখন খুবই জরুরি, নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।’

ডা. লোকমান হাকিম আরও বলেন, ‘ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যাপ্ত স্যালাইন গ্রহণ ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’