চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের মাছুয়াখাল থেকে চারটভাঙা ও খর্গপুর থেকে মেহরন দালালবাড়ি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। সড়কটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে চার বছর ধরে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি স্থবির হয়ে আছে।
ভাঙাচোরা রাস্তায় যাতায়াতে রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত এটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, বারবার নোটিশ দিয়েও ঠিকাদারকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল হতে পারে।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ওই ৩ কিলোমিটার সড়ক আগে ইটের তৈরি হেরিং বোন বন্ড ছিল। ২০২৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কটির দেড় কিলোমিটার করে দুই ভাগে তিন কিলোমিটার নির্মাণের বরাদ্দ পায়। তিন কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মতলব ট্রেডিং। এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোফাজ্জল হোসেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ শুরু করার জন্য ওই বছরের ২ মে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কাজ শুরু করে অজ্ঞাত কারণে লাপাত্তা। বারবার চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি এলজিইডি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। ফসল পরিবহনে ব্যবহার হয় সড়কটি। শিক্ষার্থীরা এই পথ দিয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করে। এ ছাড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী মেহরন দালালবাড়ি মন্দিরে আসার রাস্তাও এটি, এখানে অনেক ভক্ত আসেন। রোগীদের জন্য এই পথে চলাচল করা আরও কঠিন। বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনচালকরাও এ সড়কে গাড়ি চালাতে অনীহা প্রকাশ করেন। সবার অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শোয়েব প্রধান বলেন, ‘সড়কটিতে একসময় ইটের সলিং বন্ড ছিল। চার বছর আগে এটি পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও কাজ রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা। এলাকার লোকজনের চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। বিশেষ করে রোগীদের নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’
কাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা জব্বার পাঠান বলেন, ‘সড়কের কাজ না করায় গাড়ি চলাচল করতে অসুবিধা হয়। এ সড়ক দিয়ে কান্দিরপাড়, চারটভাঙা, মেহরন ও কাজিয়ারাসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন চলাচল করে। দ্রুত কাজটি শেষ করা দরকার।’
একই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে শত শত কৃষক তাদের ফসল বাড়িতে নেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।’
মেহরন গ্রামের অটোকিশাচালক ইদ্রিস বলেন, ‘এই সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। প্রতি মাসেই গাড়ির চাকার সকেট জাম্পার ঠিক করতে হয়। বিশেষ করে রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভ হয়ে পড়ে।’
একই গ্রামের দালালবাড়ির ইজিবাইকচালক সমুন চন্দ্র দাস বলেন, ‘ভোটের সময় অনেকেই এসে সড়কটির কাজ করে দেবে বলে ওয়াদা করেছিল। কিন্তু এখন তাদের দেখা নেই। আমাদের ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না।’
এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা আরেক অটোরিকশাচালক শৈলেন দাস বলেন, ‘এলাকার সব সড়কের কাজ হলেও এটি বন্ধ। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা থেকে ওই ঠিকাদারকে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার লাপাত্তা। তাকে না পাওয়া গেলে নিয়মানুসারে চুক্তি বাতিল করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।