আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটের প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, এলেঙ্গায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার, বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির আধিক্য যাত্রীদের উদ্বেগের প্রধান কারণ।
- অতিরিক্ত যানবাহন, এলেঙ্গায় নির্মাণকাজ ও বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ভোগান্তির আশঙ্কা।
- ১৮টি টোল বুথ, মোটরসাইকেলের আলাদা লেন ও ৮ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
- ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও চলমান উন্নয়নকাজ যানজট বাড়াতে পারে।
যদিও যানজট নিরসনে ১৮টি বুথে টোল আদায়, মোটরসাইকেলের আলাদা লেন ও ৮ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে কিনা, তা নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে। তাদের আশঙ্কা, মহাসড়কটিতে এবারও যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলসহ আশপাশের অন্তত ২৩ জেলার কয়েক কোটি মানুষ যাতায়াত করেন। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গত কোরবানির ঈদে ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ হাজারের বেশি যানবাহন সেতু পারা হয়েছিল।
এদিকে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত চার লেনের সংস্কার কাজ চলছে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও এই কাজ শেষ হয়নি। জানা গেছে, এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলমান থাকায় স্বাভাবিক সময়েও যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), জেলা পুলিশ ও সাসেক-২ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। কোথাও খানাখন্দ মেরামতের কাজ চলছে, আবার কোথাও সড়ক চওড়া করার কাজ চলছে। এ ছাড়া সড়ক মার্কিংয়ের কাজও চলতে দেখা গেছে।
কথা হয় বগুড়াগামী জেনিন পরিবহনের চালক আবুল কাশেমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত রোজার ঈদে চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যেতে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। এবার গরুর ট্রাক চলায় যানজটে ভোগান্তি আরও বেশি হতে পারে। এ ছাড়া বৃষ্টিতেও ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ হবে।’
সিরাজগঞ্জগামী একটি মাইক্রোবাসের চালক চান মিয়া বলেন, ‘এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এখনই যানজট লেগে থাকে। আধা মিনিটের রাস্তা যেতে লাগে অন্তত ১৫ মিনিট। পুলিশ গাড়িচালকদের মামলার নামে হয়রানি করে ঠিকই, কিন্তু যানজট নিরসনে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ঈদে এই ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বাড়বে।’
হানিফ পরিবহনের একজন বাসচালক গোপাল সিকদার বলেন, ‘বড় গাড়ির কারণে কখনো যানজট হয় না। ফিটনেসবিহীন ছোট মাঝারি যানবাহনের চালকরা এলোমেলো গাড়ি চালানোর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। ওই সব যানবাহনের চালক ও হেলপাররা যত্রতত্র যাত্রী উঠায় ও নামায়। এ কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।’
সাসেক-২ প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল জানান, ঈদ উপলক্ষে ২৪ মের পর উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকবে। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলমান থাকলেও কোনো ভোগান্তি হবে না। যতটুকু সড়ক দখল করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রস্থতা বাড়ানো হয়েছে।’
যমুনা সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘গত ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকলসহ ৭ দিনে ৯১টি ঘটনার কারণে বেগ পোহাতে হয়েছে। আসন্ন ঈদে গরুবাহী যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়াসহ নানা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে। যমুনা সেতুর উভয় পাশে মোটরসাইলের আলাদা লেনসহ ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হবে।’
টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ফিটনেসবিহীন যান চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যমুনা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’