কক্সবাজারের টেকনাফে ১২ লাখ টাকার জালনোট পাচারের সময় এক রোহিঙ্গাসহ দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে জালনোট তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে বিজিবি।
রবিবার (২৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হ্নীলা মোচনী এলাকায় তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার নাজমুল এবং শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আজিজুর রহমান।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির তিনটি আভিযানিক দল কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। মোচনী এলাকার চেকপোস্টে সন্দেহজনক টমটম সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে বিজিবি টমটমটি আটক করে।
এসময় টমটমে থাকা এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে ১২টি হাজার টাকার নোটের বান্ডিলসহ মোট ১২ লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার করে।
পরে আটককৃতদের দেওয়া তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জাদিমুড়া বাজারের পূর্বপাশে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় বিজিবি। অভিযানের খবর পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। ঘরটি মূলত জালনোট তৈরির কারখানা ছিল।
সেখান থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুটি অত্যাধুনিক প্রিন্টার, ছাপানো আনুমানিক কোটি টাকার জালনোট, কালি এবং জালনোট তৈরির কাগজ উদ্ধার করা হয়।
আটক নাজমুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, টেকনাফের হ্নীলা বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি ১২ লাখ টাকার জালনোট বহনের চুক্তি করেন ১০ হাজার টাকায়।
বাড়ির মালিক নুর হাবিবা জানান, তিন দিন আগে দুই ব্যক্তি ঘরটি ভাড়া নেন। তারা ওয়াইফাইয়ের কাজ করেন বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, এই এলাকায় ঈদকে কেন্দ্র করে একটি চক্র জালনোট তৈরি করে ক্যাম্প ও স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিজিবির উপ-অধিনায়ক আরও জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় বাজারে জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের মূল হোতাদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শাহীন/আমান