জামালপুরে শুভ (৩৩) নামের এক রিকশাওয়ালাকে ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়েছে জামালপুর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর রুহুল আমীন।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে এক
সাংবাদিককে ধাক্কা দিয়ে হেনস্তা করারও অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে। রিকশাচালক শুভ শহরের বাগের হাঁটা এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে।
জানা গেছে, সোমবার দুপুরে রিকশাচালক শুভ বাসস্ট্যান্ড মোড়ে দাঁড়িয়ে তার রিকশায় একজন যাত্রী উঠাচ্ছিল। এ সময় বাসস্ট্যান্ড মোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রুহুল আমীন এসে শুভকে চড় মারে। শুভ যখন জানতে চায় তাকে কেন চড় দিলো? তখন রুহুল আমীন তার নাকে ঘুষি মারে। এতে শুভর নাক ফেটে তিনি রক্তাক্ত হন।
এ সময় ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা গণ-মানুষের আওয়াজ পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি রবিউল হাসান লায়ন সেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে জানতে চান, তিনি কেন রিকশাওয়ালাকে মারলেন এবং তিনি এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য চান। তখন ট্রাফিক পুলিশ রুহুল আমীন সাংবাদিক রবিউল হাসান লায়নকে ধাক্কা দিয়ে ট্রাফিক
বক্স থেকে বের করে দেন। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা ও স্থানীয়রা আহত শুভকে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
রিকশাচালক শুভ বলেন, আমি আমার রিকশা নিয়ে এখানে এসে যাত্রী উঠাছিলাম। পরে ওই পুলিশ এসে আমাকে চড় মারলো। তারপর আমাকে ঘুষি মারে, আমার কি দোষ সেটা তো আমাকে বলতে হবে। সে কোনো কথা না বলেই আমাকে মেরে রক্তাক্ত করে গালি দেন। এটা আমি কোন দেশে বাস করি এটা কোনো বিচার হলো। একজন পুলিশ যদি এমন করে তাহলে আমরা কোথায় যাবো। পুলিশ যদি গুণ্ডামি করে তবে জনগণের নিরাপত্তা কে
দেবে।
সাংবাদিক রবিউল হাসান লায়ন বলেন, আমি এখানেই ছিলাম। পরে শুনি অটো চালককে পুলিশ মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়েছে। পরে অটোচালকের কাছে ঘটনা শুনে অভিযুক্ত পুলিশের কাছে যাই তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য। পরে উনি বলে আপনে কে? আপনি এখানে কেন আসছেন আপনি সরেন এ কথা বলে আমাকে ধাক্কা দেন।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এ বিষয়টা আমাদের উপরের অফিসারকে জানিয়েছি। রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসমাউল আসিফ/নাঈম