ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করল ব্রাজিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২ মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০ জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৪৫ শতাংশ সাভারে তিন কারখানা থেকে ১৮৬৮ শ্রমিক অব্যাহতি এখনো উৎপাদনে আসেনি বন্ধ চিনিকল ৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল
Nagad desktop

নবীনগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ আহত ১৫

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
নবীনগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ আহত ১৫
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন টিয়ারা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিয়ারা গ্রামে কবির হোসেন আহমেদ ও আতিকুর রহমান শিশু দুই গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সোমবার রাতে স্থানীয় বাছির মেম্বারের বাড়িতে এক পক্ষের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের লোকজন সকাল ৭ টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের শিশুসহ ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কবির হোসেন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘বাজারে আমাদের লোকজনের ওপর শিশু মিয়া গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন প্রথমে অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা তখন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা বাজারের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

এ বিষয়ে আতিকুর রহমান শিশুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম জানান, টিয়ারা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মমিনুল হক রুবেল/এসএন

কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
সমুদ্র সৈকতে শোভাযাত্রা শেষে ব্রাজিল সমর্থকরা। ছবি: খবরের কাগজ

পর্যটন শহর কক্সবাজারে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৩টায় শহরের লাবনী মোড় থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রা কলাতলির প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন শত শত ব্রাজিল সমর্থক। এ সময় তারা ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা, জার্সি, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। পুরো শহর উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয় এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

শোভাযাত্রায় বক্তব্য দেন ব্রাজিল ফুটবল ফ্যানস কক্সবাজারের আয়োজক কানন বড়ুয়া বিশাল, সাংবাদিক ছৈয়দ আলম, জিএম ইকবাল হোসাইন ও অন্যরা।

বক্তারা ফুটবলের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রতি গভীর সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল তাদের কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ মিশনে সফল হবে।

স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে প্রতি আসরেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এ আয়োজন ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয়।

সমুদ্র সৈকত ঘিরে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা পর্যটক ও স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং কক্সবাজারের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাসের এক অনন্য চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

তারেকুর/আমান

দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৪১ এএম
দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের
ছবি: খবরের কাগজ

দুই দিন পেরিয়ে গেছে, তবুও সিদ্ধান্ত হলো না পঞ্চগড় সীমান্তে আটকে থাকা ১০ জনের। কৃষিজমির মাঝখানে এক হাত চওড়া আইলে কাটছে তিন শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষের দিনরাত ৷ খোলা আকাশের নিচে, অনিশ্চয়তা আর মানবিক সংকটের মধ্যে অপেক্ষা করছেন তারা ৷

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তের ভারতীয় শূন্যরেখায় টানা দুই রাত ধরে তারা আটকে আছেন। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। এখন ভারত ও ফিরিয়ে নিচ্ছে না, অন্যদিকে বাংলাদেশে ও প্রবেশ করতে পারছেন না।

শনিবার রাতটি তারা কাটিয়েছেন সরু আইলে। কেউ বসে, কেউ কষ্ট করে শুয়ে আছেন। শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে কাপড়ের ব্যাগ৷ সামান্য নড়াচড়া করলেই পা ডুবে যায় পানিতে। রাতে কখনও বৃষ্টি আর দিনের প্রখর রোদ দুটোই সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।

রবিবার (৭ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। বৃদ্ধ ব্যক্তিটি ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। দুই দিনের বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক খাবার ও বিশ্রাম না পাওয়ায় সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।  

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, ‘দুই রাত হয়ে গেল। রোদ বৃষ্টির সব সহ্য করছি। ঠিকমতো খাবার নেই। থাকার জায়গা নেই। আমরা শুধু চাই, এই সমস্যা সমাধান হোক।’

তাদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে আশপাশে জমির পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাতে হয়েছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) পক্ষ থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনে তুলনায় খুবই কম। বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি বলেও দাবি তাদের। 

স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক অবস্থান যাই হোক, দুই দিন ধরে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষদের এমন অবস্থায় ফেলে রাখা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে মানুষকে এভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাই অনেক কষ্টে আছেন। বিষয়টি দুই দেশকে সমাধানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।  

বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকার তজমল আলী বলেন, বিএসএফ যে কাজটি করেছে সেটি ঠিক করেনি। তারা যে ১০ জনকে পুশইন করেছে, তাদের যেন দ্রুত ফিরিয়ে নেয়। মানুষগুলো অনেক কষ্ট হচ্ছে।

নীলফামারীর বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি ৷ তাদের ভারতীয় সীমান্ত থেকে পার করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করছে। সীমান্তে আমাদের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।’

রনি মিয়াজী/খাদিজা রুমি/

পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আজিজপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮৫৫ নম্বর প্রধান পিলারের ৫নং উপ-পিলার সংলগ্ন এলাকায় পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার পকেটপাড়া সীমান্তের দাউয়াকামারী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা কাঁটাতারের গেট খুলে প্রায় ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক বিজিবিকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের কালীরহাট ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে একইপথ দিয়ে শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেয়। ব্যক্তিটির কথাবার্তা ও আচরণ অসংলগ্ন হওয়ায় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজিবি ওই ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর পর বিএসএফ সদস্যরা আবারও তাকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখেন।

বিজিবির সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফের দাউয়াকামারী ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে ওই ব্যক্তিকে ভারতীয় অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই ব্যক্তিকে ভারতের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বকুল/অন্তরা/

সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: সোনারগাঁওয়ে ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফয়জুল মিয়ার (৫৫) মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে নিহতের পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। 

এতে স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

মানববন্ধনে ফয়জুল মিয়ার মৃত্যুতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে ফয়জুল মিয়ার স্ত্রী মাসুদা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে সুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সেখানে দেওয়া হয়েছিল। নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সজীব, রকি এবং তাদের সহযোগীদের নির্মম নির্যাতন ও মারধরের কারণেই আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তার লাশ ফিরে এসেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

নিহতের বড় মেয়ে নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমরা বাবাকে বাঁচানোর জন্য নিরাময় কেন্দ্রে দিয়েছিলাম। কিন্তু বাবাকে আর জীবিত ফিরে পাইনি।  সন্তানের কাছে বাবাকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা শুধু ন্যায় বিচার চাই।’

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গত বুধবার (৩ জুন) রাতে ফয়জুল মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।

এ ঘটনায় তার বড় মেয়ে নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

মো: ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/

টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে আল শাহারিয়া। কয়েক দিন আগে বলীখেলা দেখতে যাওয়ার পথে সে অপহরণের শিকার হয়। দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর তার খোঁজ মিলছিল না। গত শুক্রবার রাতে তাকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। বাহারছড়ার মারিচবনিয়া উপকূল দিয়ে সাগরপথে তাকে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাচার করা হচ্ছিল। ওই ট্রলারে অভিযান চালিয়ে আল শাহারিয়াসহ ৫০ জনকে উদ্ধার করে কোস্টকার্ড। এ সময় আটক করা হয় মানব পাচারে জড়িত ৯ জনকে।

শাহারিয়ার দাবি, ফারুক নামে এক ব্যক্তি তাকে মানবপাচারকারী দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।

অভিযানে উদ্ধার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিদেশে উন্নত জীবন ও উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র টেকনাফে নিয়ে আসে। পরে তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর সুযোগ বুঝে তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেককে অপহরণ করে এনেও পাচারের চেষ্টা ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় নৌঘাট ও সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারীদের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকা থেকে নৌপথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চিহ্নিত ঘাটগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া, মাথাভাঙ্গা ও মারিচবনিয়া নৌঘাট।

গতকাল শনিবার কেরুনতলি টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুত্তাকীন সিদ্দিকী বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে—এমন গোপন তথ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়াসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় এটিকে থামানো হয়। এ সময় ৫০ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ৯ পাচারকারীকে আটক করা হয়। 

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ট্রলারের স্টাফরা অবশ্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বলেছেন, মাছ ধরার কথা বলে তাদের সমুদ্রে নামানো হয়। পরে ট্রলারমালিক তাদের মানুষ টানতে বাধ্য করেন। স্টাফদের একজন সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, তাকে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা বলে ট্রলারে আনা হয়েছিল। তারা দুই দিন সাগরে মাছ শিকার করেন। পরে হঠাৎ জাল তুলে ট্রলারটি টেকনাফের বাহারছড়া মরিশবুনিয়াসংলগ্ন সাগরে নোঙর করা হয়। 

তিনি বলেন, ‘ট্রলারে মোট ১৪ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। একপর্যায়ে একটি ছোট মাছ ধরার ডিঙি নৌকায় করে কয়েকজন লোককে এনে ট্রলারে তোলা হয়। বিষয়টি মাঝির কাছে জানতে চাইলে তিনি তখন জানান, এটি মালিকের নির্দেশে করা হয়েছে। পরে ওই লোকজন রাতেই ট্রলারে অবস্থান নেন।’ 
সিরাজুল জানান, পরে কোস্টগার্ড ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। এ সময় মাঝি শাহীনসহ কয়েকজন সাগরে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ট্রলারের মালিক জসিম এবং মাঝি শাহীন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এসব অপকর্ম করতেন। তাদের মাছ ধরার কাজের কথা বলে ট্রলারে আনা হলেও প্রকৃতপক্ষে অন্য উদ্দেশ্যে ট্রলারটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘নোয়াখালীপাড়া থেকে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত পাহাড়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নোয়াখালীপাড়ায় একটি পুলিশ চৌকি স্থাপন করা জরুরি।’

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আবু সাঈদ জানান, মানবপাচার, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় টহল কার্যক্রম এবং চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ১০০ সদস্যের একটি গ্রাম প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।