চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ আদেশ দেন। এ সময় আসামি মনির হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত আগামী ১০ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, গত বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সোমবার অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছর বয়সী শিশুটির ওপর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়।
তদন্ত শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশের কাজে বাধা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশবাহী গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এসএন/