চায়নার তৈরি মেশিনের গায়ে জার্মানির নকল স্টিকার লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় এক সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, এমনই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে সিলেট মহানগরীর খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে অভিযান চালানোর সময় অভিনব এই দুর্নীতি ও প্রতারণার প্রমাণ পায় দুদক।
দুদক জানায়, অস্ত্রোপচারের রোগীকে অজ্ঞান করতে অ্যানেসথেসিয়া এন্ড ভেন্টিলেটর মেশিনে ব্যবহৃত 'আইসোফ্লুরেন ভ্যাপোরাইজার' যন্ত্রটি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’ (নিমিউ অ্যান্ড টিসি)। সংস্থাটির সাথে যোগসাজশে ওয়ার্কঅর্ডার পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো চায়নার তৈরি মেশিনের গায়ে জার্মানির বিখ্যাত ‘হায়ার’ কোম্পানির স্টিকার লাগিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত চীন থেকে আনা ভ্যাপোরাইজারের দাম ৫৮ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সরবরাহকৃত একেকটি মেশিনের দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। যন্ত্রটি সরবরাহ করে নিমিউ অ্যান্ড টিসি।
দুদক সিলেট অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেটের খাদিমপাড়া ৩১শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চীন থেকে আনা ভ্যাপোরাইজারে জার্মানির স্টিকার লাগিয়ে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য কমিশনে রিপোর্ট পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে খাদিমপাড়া ৩১শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ও ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোছা. ফাতেমা ইয়াছমিন বলেন, ‘নিমিউ এন্ড টিসি যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান, তারা এক কোম্পানি বলে আরেক কোম্পানির যন্ত্র দিলে সেই দায় তাদের। তারা যেভাবে দেয় সেভাবেই আমরা গ্রহণ করি।’
শাকিলা ববি/সিফাত/