‘হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। আমি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিব মো. কামরুল ইসলাম বলছিলাম। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যারা হজ করতে গিয়েছিলেন দেশের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ খরচ হয়েছিল। আপনি জানেন, সৌদি সরকার হাজীদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করেছিলো। তাই আওয়ামী সরকারের আমলে আপনাদের যে বাড়তি টাকা খরচ হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার তা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারিভাবে গেলে মাথাপিছু আলহামদুলিল্লাহ ৭০ হাজার এবং বেসরকারিভাবে গেলে ৬৫ হাজার টাকা ফেরত পাবেন, আলহামদুলিল্লাহ। আপনার পরিবার থেকে ২০২৩ সালে বেসরকারিভাবে দু'জন হজে গিয়েছিলেন। সে হিসাবে আপনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত পাচ্ছেন।’
এমনভাবেই হজ ফেরতদের ফোন দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামরুল ইসলাম এবং উপসচিব মো. ওমর ফারুকের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে একটি চক্র।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ সরব হয়ে উঠেছেন নেটিজেনরা। যারা ফোন পেয়েছেন তাদের অনেকেই এ বিষয়ে বিভিন্ন গ্রুপে সতর্কতামূলক পোস্টও দিয়েছেন। তারা বলছেন টাকার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকচক্রটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপে লগইনের চেষ্টা করে ফোন নাম্বারে পাঠানো ওটিপি জানাতে বলছে।
‘আপনারা যে টাকাটা ফেরত পাবেন তা ব্র্যাক, প্রাইম, এবি, এনআরবি বা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এর মাধ্যমে নিতে পারবেন। যদি এসব ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকে সেক্ষেত্রে যে কোনো ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মাধ্যমেও টাকা পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনাকে কার্ডের নাম্বারটি আমাদের বলতে হবে।’
শুক্রবার (৭ মার্চ) প্রতারকচক্রের ফোন নাম্বারটিতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদককে এভাবেই প্রলোভন দেখাচ্ছিলেন দুই সদস্য।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সচিবের একান্ত সচিব) মো. কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে এ বিষয়ে কথা হয় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের উপসচিব মো. কামরুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এরা যে জালিয়াত চক্র তা তো আর বুঝতে বাকি নেই। যারাই এমন কল পাবেন তারা সামান্য একটু মাথা খাটালে সহজেই ধরে ফেলতে পারবেন এরা জালিয়াতি করছে। আমাকে ফোন দিলে আমি তো তাদের অফিসে দাওয়াত দেব।
তিনি জনসাধারণকে এমন প্রতারকচক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে কখনোই এভাবে ফোন দেওয়া হয় না। এবং কখনোই আপনারা কাউকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত, পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি দিবেন না।
বিষয়টি হজ অধিশাখার যুগ্ম সচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হককে জানানো হলে প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমরা গেল দুই বছর ধরে এমন প্রতারণার অভিযোগ পাচ্ছি। হজকে সামনে রেখে প্রতিবছইর এমন একাধিক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। প্রতিনিয়তই আমরা এ নিয়ে হাজীদের বারবার সতর্ক করছি, বিআরটিসি এর মাধ্যমে ফোনে ফোনে মেসেজ পাঠাচ্ছি, বেশ কিছু জায়গায় ক্যাম্পিংও চালাচ্ছি। এর পরেও অনেকেই এদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেন। তখন আর আমাদের কিছু করার থাকে না।
এসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সিফাত/