কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে মানবপাচারকারী চক্রের দৌরাত্ম্য। মানবপাচারে জড়িত চক্রে ২০-৩০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এদের কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের আস্তানায় নিয়ে যায়, আবার কেউ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ব্যবহার করে নৌকায় করে সাগরের মাঝপথে পাঠিয়ে দেয়। চক্রের বড় গডফাদাররা গোপন আস্তানায় অবস্থান করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করে। আর অধিকাংশ অর্থ লেনদেন করা হয় বিকাশের মাধ্যমে, এমন অভিযোগ অনেক দিনের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সাইফুল, ইসমাইল, ফয়সাল, ইয়াছিন, গফুর ও নুর নবী মাঝিসহ একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা এবং স্কুল-কলেজপড়ুয়া বাংলাদেশি তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে নিয়ে আসে। এরপর তাদের পাহাড়ি এলাকায় আটকে রেখে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা আদায়ের পর ভুক্তভোগীদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় এসব সন্ত্রাসী চক্র পাচার, অপহরণ ও জিম্মি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এসব চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার ও পাচারকারীরা আটক হলেও থেমে নেই মানবপাচার। পাচারকারীদের খপ্পড়ে পড়ে উপজেলার বহু মানুষ নিঃস্ব হয়েছেন। সাগরে প্রায়ই মানববোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটছে। এতে বাড়ছে স্বজনহারা পরিবারের সংখ্যা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাচারকারীরা টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় নৌঘাট ও সংলগ্ন এলাকাকে নিয়মিতভাবে মানবপাচারের কাজে ব্যবহার করছে।
চিহ্নিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবরাং ইউনিয়নের শাহ পরীরদ্বীপ, মিস্ত্রিপাড়া, ঘোলাচর, পশ্চিমপাড়া এবং সাবরাং কাটাবনিয়া নৌঘাট, খুরেরমুখ, মুন্ডার ডেইল, বাহারছড়া নৌঘাট। এ ছাড়া নোয়াখালীপাড়া নৌঘাট, শীলখালী নৌঘাট, বড় ডেইল নৌঘাট, কচ্ছপিয়া নৌঘাট, মাথাভাঙ্গা নৌঘাট এলাকাও ব্যবহৃত হচ্ছে। একইভাবে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতলী নৌঘাট, লম্বরী নৌঘাট, হাবিবছড়া নৌঘাট, রাজরছড়া নৌঘাট এবং মিঠাপানির ছড়া নৌঘাটও এ ধরনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
>> আরও পড়ুন: টেকনাফে মানব পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরে ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে যায়। এর মধ্যে জীবিত উদ্ধার হয় ৯ জন। অন্যদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মো. শাহীন/অমিয়/