কুমিল্লার বরুড়া থেকে এক দম্পতি চান্দিনায় বেড়াতে যাওয়ার পথে স্বামীকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কিছু যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ।
রবিবার (৩ মে) রাতে চান্দিনা উপজেলার মাদারপুর গ্রামের কামারখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলে সোমবার ভোরে উপজেলার কামারখোলা গ্রাম থেকে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে পুলিশ।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মামলার বরাতে জানান, রবিবার রাতে ভুক্তভোগী ওই স্বামী-স্ত্রী ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা করে বরুড়া উপজেলা থেকে চান্দিনার মাইজখারে তাদের খালার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাদের অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়ে গেলে তারা হেঁটেই রওয়ানা হন। পরে আনুমানিক ১টার দিকে ওই দম্পতি মাদারপুর গ্রামের কামারখোলা-এওয়াজবন্দ সড়কে পৌঁছালে নির্জন স্থানে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা একদল বখাটে তাদের পথরোধ করে। পরে ভুক্তভোগীর স্বামীকে মারধর করে আটকে রাখে এবং জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। পরে ভোররাতে ভুক্তভোগীর স্বামী তার স্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় ফেরত চাইলে ধর্ষণকারীরা উল্টো তার থেকে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে স্বামী তার আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ভোর ৫টার দিকে কামারখোলা গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করা হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকিরা পালিয়ে যায়।
আতিকুর রহমান আরও জানান, ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুই তিন জনকে আসামি করে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। এর মধ্যে মেহেদী হাসান তারেক, মো. আশিক, আরিফ ও ইসমাইল নামে চারজনকে রাতেই আটক করেছে পুলিশ। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জহির শান্ত/নাঈম