দুই সপ্তাহের মধ্যেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসব এলেই বাড়ে আদা, রসুন, পেঁয়াজের চাহিদা। প্রতিবছর এমন সময়ে মসলাজাতীয় এই তিন পণ্যের দাম বাড়লেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পাইকারি বাজারে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজার এখন নিম্নমুখী। তবে এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজে ২ টাকা, চায়না রসুনে ২০ টাকা ও চায়না আদার দাম কেজিতে ১৫ টাকা কমেছে। বিশ্ববাজারে বুকিং রেট কমা ও সরবরাহ বাড়ার কারণে এসব পণ্যের দাম নিম্নমুখী বলে জানান তারা।
বর্তমানে খাতুনগঞ্জে ভারতীয় কোনো পেঁয়াজ নেই। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশটি থেকে কোনো পেঁয়াজও আসছে না। তাই পুরো বাজারে রাজত্ব করছে দেশি পেঁয়াজ। এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ায় গত এক মাস ধরে পেঁয়াজের বাজার চড়া হয়নি। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৮ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি চায়না রসুন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। তাছাড়া একই সময়ের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ টাকা কমে চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। অন্যদিকে পাইকারি বাজারটিতে বর্তমানে প্রতি কেজি কেরালা আদা ও দেশি রসুন ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জুলাই মাসে ৯ হাজার ৬৮৭ টন, আগস্টে ৮ হাজার ৭৪৯ টন, সেপ্টেম্বরে ১২ হাজার ২৩৮ টন, অক্টোবরে ১২ হাজার ৪৭৫ টন, নভেম্বরে ১২ হাজার ৪১১ টন, ডিসেম্বরে ১৮ হাজার ৬১৪ টন, জানুয়ারিতে ১০ হাজার ৪৯৩ টন, ফেব্রুয়ারিতে ৪ হাজার ৬৯৮ টন এবং মার্চ ও এপ্রিল মিলে ১০ হাজার ৪৯৩ টন রসুন আমদানি হয়েছে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরে জুলাই মাসে ৪ হাজার ৯২৩ টন, আগস্টে ৬ হাজার ৭৬৪ টন, সেপ্টেম্বরে ৪ হাজার ৩৬ টন, অক্টোবরে ৮৬০ টন, নভেম্বরে ৪৪৪ টন, ডিসেম্বরে ৩৮৪ টন, জানুয়ারিতে ৩১৪ টন, ফেব্রুয়ারিতে ৩২৯ টন এবং মার্চ ও এপ্রিল মিলে ২ হাজার ৯৬৫ টন আদা আমদানি হয়েছে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসেনি। এবার দেশি পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে পেঁয়াজ আসছে। পুরো বাজার দেশি পেঁয়াজে সয়লাব। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও আদা, রসুনের আমদানি ভালো। বাজারে কোনো সংকট নেই। সব মিলিয়ে সরবরাহ বাড়ায় এবার এই তিন পণ্যের দাম নিম্নমুখী। আশা করছি, এসব পণ্যের দাম বাড়বে না। সে হিসেবে আমাদের এখানে বেচাবিক্রি বাড়েনি। আশা করি কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলে বেচাবিক্রি বাড়বে।
তবে পাইকারিতে দাম কমার প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। খুচরায় দেশি পেঁয়াজ, চায়না আদা ও চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে চড়া দরে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, চায়না আদা ১৯০ টাকা ও চায়না রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা পাইকারি দরের তুলনায় অনেক বেশি। বাড়তি দরের কারণ জানতে চাইলে খুচরা ব্যবসায়ীরা দেখালেন পণ্য কিনে আনতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের অজুহাত।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডিন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, এবার পাইকারিতে অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী। এটা ভালো খবর। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের এর সুফল পেতে হলে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। এ-সংক্রান্ত একটি অ্যাপ তৈরি করা যেতে পারে। পাশাপাশি বাজার তদারকিব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার, আমাদের ব্যবসায়ীদের নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, নিয়মিত নগরের বিভিন্ন বাজারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে একটা কথা জানিয়ে রাখি, আগে আমাদের কার্যালয় অনেকটাই শহরের বাইরে ছিল। সাধারণ মানুষের যোগাযোগে অসুবিধা হতো। এখন আমরা মূল শহরে অর্থাৎ কোতোয়ালি এলাকায় জেলা পরিষদ ভবনের ৭ম তলায় চলে এসেছি। কেউ প্রতারণার শিকার হলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিতে সুবিধা হবে। তাহলে আমরা অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।