ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড
Nagad desktop

ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার বেড়েছে লেনদেন

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০২ এএম
ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার বেড়েছে লেনদেন
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়া এবং কমার তালিকায় প্রায় সমানসংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের এই উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এই বাজারেও মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ফলে মূল্যসূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। প্রথম আধা ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে বেশিসংখ্যক ব্যাংক। এতে মূল্যসূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা কিছুটা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬২টির। ৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে একটিরও দাম কমেনি। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টির। এ ছাড়া ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৩টির দাম কমেছে এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৩৪টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬২৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৫০ কোটি ২০ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ৭৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে–ফাইন ফুডস, লাভেলো আইসক্রিম, সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার ও ইবনে সিনা।

রবিবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দাম বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির শেয়ারদর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১ টাকা ৩ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে কোম্পানিটি দাম বাড়ার তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে নেয়।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এ ছাড়া ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে– প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ব্যাংক, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আলহাজ টেক্সটাইল, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচুয়াল ফান্ড, এপেক্স স্পিনিং ও নিটিং মিলস্ লিমিটেড এবং স্যালভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১১০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৭টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ততম এই নগরীতে সময় বাঁচিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়ে যদি দেখেন মার্কেটটি বন্ধ, তবে পুরো দিনটাই নষ্ট।

এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা এড়াতে এবং আপনার ছুটির দিনটিকে পরিকল্পিত করতে ঢাকা শহরের শপিংমলগুলোর সময়সূচি জানা জরুরি।

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে 

বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি), পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লি, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, মিতালি অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে

আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকা, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টার সিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ী একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, সানারপাড়।

আমান/

বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম?

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম
বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম?
ছবি: সংগৃহীত

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার চিত্রটি ভিন্ন। জানুয়ারি মাসে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে উঠলেও, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের পর তা কমে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে নেমে এসেছে।

সোনার দাম কমার মূল কারণ

উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কা: যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ব্যাপক বেড়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

ডলারের আধিপত্য: যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। সোনা যেহেতু ডলারে কেনাবেচা হয়, তাই ডলারের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সোনার ওপর চাপ তৈরি হয় এবং দাম কমে।

বিনিয়োগকারীদের অনীহা: সোনা থেকে কোনো নিয়মিত লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না। সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে ব্যাংকে বা ডলারে বিনিয়োগ করতে বেশি পছন্দ করেন।

ভবিষ্যৎ কী?

সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির খবরের পর সোনার দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি কমতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে সোনার দাম খুব দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা কম। সূত্র: আল-জাজিরা

তামান্না রুপা/

বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই
এফবিসিসিআই

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। এ বিশাল রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালঞ্জে বলে মন্তব্য করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

শনিবার (১৩ জুন) বাজেট পর্যবেক্ষণে সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এফবিসিসিআই জানায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করায় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসার পরিবেশ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে এই লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতের লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালঞ্জে। কারণ বর্তমানে দেশের সামস্টিক অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বিরাজমান কঠিন পরিস্থিতির কারণে ভীষণ চাপের মুখে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি-ব্যবসা-বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কার জরুরি।

এফবিসিসিআই আরও জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা নিতে হবে এবং বৈদেশিক উৎস হতে নিতে হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ব্যাংকব্যবস্থার পরিবর্তে যথাসম্ভব সুলভ সুদে ও সতর্কতার সঙ্গে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের জন্য নজর দেওয়া যেতে পারে।

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তদারকির মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা দরকার। অভ্যন্তরীণ সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সুদ বাবদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই সুদের অর্থ পরিশোধের জন্য অর্থ সংস্থান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট বাস্তবায়নে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণের উচ্চহার, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে এফবিসিসিআই মনে করে।

রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ
ছবি: খবরের কাগজ

গ্রীষ্মের দুপুর। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার একটি লিচুবাগানে দাঁড়ালে মনে হবে যেন লাল রঙের উৎসব নেমেছে। গাছভর্তি পাকা লিচুর থোকা, ব্যস্ত শ্রমিক, দরদাম করছেন পাইকাররা। কয়েক শ কিলোমিটার দূরে পাবনার ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া হাটে তখন ভোর থেকেই চলছে লিচুর বেচাকেনা। আবার পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির বাগানেও ঝুলছে চায়না-৩ জাতের রসালো লিচু। আর আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীতে সেই খ্যাতি ম্লান করতে যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে বোম্বে জাতের লিচু। কিন্তু এসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে চাষিদের হতাশা। মৌসুমের শুরুতে মুকুলে ভরে থাকা বাগানগুলো নিয়ে চাষিরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বৈরী আবহাওয়ায় মুকুল ঝরে ও প্রচণ্ড রোদে পাকা লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে হয়ে যাওয়ায় তা ম্লান হয়ে গেছে। এতে দেশের প্রধান লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে এবার চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনাজপুরের অনেক এলাকায় এবার ফলন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অন্যদিকে পাবনায় ফলন ভালো হলেও শেষ সময়ে তীব্র রোদে বিপুল পরিমাণ লিচুর গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। আবার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বানর-বাদুড়ের উপদ্রবে অপরিপক্ব লিচু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে লোকসান গুনছেন চাষিরা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর সারা দেশে লিচুর উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৭২৯ টন। এর মধ্যে লিচু উৎপাদনে একক জেলা হিসেবে শীর্ষে দিনাজপুর। এ জেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট উৎপাদন ছিল ৩৯ হাজার ৫৯৩ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাবনায় উৎপাদন ছিল ৩৫ হাজার টন। তৃতীয় স্থানে আছে রাঙামাটি। এ জেলায় বছরে ১৭ হাজার টন লিচু উৎপাদিত হয়। এ ছাড়া গাজীপুর ও খাগড়াছড়িতে ১১ হাজার টন উৎপাদিত হয়। 

ফলে বাংলাদেশে লিচু শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। কেননা, এই ফলকে ঘিরে কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, আড়তদার, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ীসহ লাখো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। কিন্তু জলবায়ুর ক্রমবর্ধমান বৈরী প্রভাব সেই অর্থনীতিকেই এখন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দিনাজপুরে মুকুল ছিল, ফল হলো না

দিনাজপুরের সদর, বিরল, বীরগঞ্জ, কাহারোল ও চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন বাগান ও বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। এতে বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি এবং পরবর্তী সময়ে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ মুকুল ঝরে যায়।

বিরল উপজেলার বাগানের মালিক শিশির শাহ বলেন, ‘মুকুল দেখে মনে হয়েছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন হবে। কিন্তু তীব্র দাবদাহ আর ঝড়ে সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। অনেক গাছে অর্ধেকেরও কম ফল পাওয়া গেছে।’

পাবনায় পুড়ে গেছে পাকা লিচু

পাবনার ঈশ্বরদীতে চিত্র আরও উদ্বেগজনক। দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচু বাজার জয়নগর হাটে এখন ভালো মানের লিচুর পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে প্রচুর কালচে ও বিবর্ণ লিচু। স্থানীয়ভাবে একে বলা হচ্ছে ‘পোড়া লিচু’।

তীব্র রোদ ও খরার কারণে লিচুর খোসা পুড়ে গেছে। এতে ফলের স্বাদ খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও বাজারমূল্য অর্ধেকেরও বেশি নিচে নেমে যাচ্ছে।
স্থানীয় চাষি নাজমুল হোসেন বলেন, ‘এবার ফলন ভালো ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে রোদে লিচুর চামড়া পুড়ে গেছে। যে লিচু ২ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেটি এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

জয়নগর হাটের আড়তদার আলমগীর হোসেন জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে লিচুর গায়ে কালো দাগ পড়ছে। এতে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং বাজারদর দ্রুত কমে যাচ্ছে।

এ ছাড়া রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাতেই বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

পাহাড়ে বানর-বাদুড়ের উপদ্রবে অপরিপক্ব লিচু বিক্রি

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় এবার পাহাড়ি লিচুর বাম্পার ফলন হলেও চাষিদের বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে বানর ও বাদুড়ের উপদ্রব। বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক বাগানের মালিক লিচু পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন লিচুবাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা লিচু। তবে ফল পাকতে শুরু করলেই দিনে বানর এবং রাতে বাদুড়ের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাগান। ফলে অনেক চাষি দিন-রাত পাহারা দিয়েও ফসল রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, লাভ কমছে

লিচু চাষে গত কয়েক বছরে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও বাগান পরিচর্যার খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। অথচ আবহাওয়াজনিত ক্ষতির কারণে উৎপাদন কমে গেলে সেই ব্যয়ও আর উঠে আসছে না।

পাবনার চাষি আমছের আলী বলেন, ‘লিচু পুড়ে গেলে বাজারে কেউ দাম দিতে চায় না। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয় কমে যাচ্ছে। এভাবে চললে অনেকেই ভবিষ্যতে লিচু চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।’

ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন

ফলন কমে গেলে শুধু কৃষক নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরাও। ঢাকার পাইকার ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, ‘চাহিদা আছে, কিন্তু অনেক জায়গা থেকে আগের মতো ভালো মানের লিচু পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।’

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই অতিরিক্ত তাপ ফলের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রপ্তানির সুযোগ, কিন্তু অবকাঠামোর ঘাটতি

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের লিচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু কোল্ড চেইন ব্যবস্থা, আধুনিক সংরক্ষণাগার এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিংয়ের অভাবে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
দিনাজপুরের ব্যবসায়ী মো. বিপুল বলেন, ‘লিচু খুব দ্রুত নষ্ট হয়। তাই পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে রপ্তানি বাড়ানো কঠিন।’

অনিশ্চয়তায় ‘লাল সোনা’

গ্রীষ্মের কয়েক সপ্তাহের জন্য বাজারে আসে লিচু। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে পাহাড় পর্যন্ত জেগে ওঠে বিশাল এক অর্থনীতি। হাজারও কৃষকের স্বপ্ন, লাখো শ্রমিকের আয় এবং কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ফল।

কিন্তু প্রকৃতির বৈরী আচরণ সেই স্বপ্নকে বারবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দিনাজপুরের ঝরে পড়া মুকুল, পাবনার রোদে পোড়া লিচু কিংবা বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত বাগান যেন একই বার্তা দিচ্ছে–জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতায় দেশের লিচু অর্থনীতি এখন বড় এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

ফলে সংশ্লিষ্টদের দাবি, লিচু খাতকে টেকসই করতে হলে শুধু উৎপাদন নয়, সংরক্ষণ ও বিপণনব্যবস্থারও উন্নয়ন প্রয়োজন। দেশের প্রধান লিচু উৎপাদন অঞ্চলগুলোতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, কৃষি বিমা, জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া তাপপ্রবাহ ও খরার সময়ে বাগান রক্ষায় আধুনিক সেচব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনারও প্রয়োজন রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক (বাজার সংযোগ, গবেষণা, রপ্তানি উন্নয়ন এবং কৃষি ব্যবসা শাখা) মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিচু উৎপাদন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তেমন ক্ষতির মুখে পড়েননি। তবুও লিচু খাতকে টেকসই করতে আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, কোল্ড চেইন অবকাঠামো, উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এতে ভবিষ্যতে ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

এদিকে সম্প্রতি ঈশ্বরদীতে লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, তীব্র গরম ও কীটনাশকের কার্যকারিতাসংক্রান্ত সমস্যার কারণে এবার অনেক লিচু নষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীর লিচুচাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের বিষয়ে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে লিচু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ আরও সহজ হয়।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
ছবি: সংগৃহীত

টানা চার দফা কমানোর পর দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা।

আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

আমান/