ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে এলাচের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫০০ টাকা। আর জিরার দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। অপরদিকে কার্যকর নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে দাবি করছেন ভোক্তার অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা।
চট্টগ্রামের বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গত ১৮ মে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয় ৪ হাজার ৩০০ টাকায়। বর্তমানে কেজিতে ৫০০ টাকা বেড়ে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি মিলছে ৫ হাজার টাকায়। একই সময়ের ব্যবধানে জিরার দাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে মিলছে হাজার টাকায়।
পাইকারি মসলা বিক্রেতারা বলছেন, আমদানিকারকদের কাছ থেকে মসলা পণ্য কয়েক হাত ঘুরে পাইকারদের কাছে আসে। সেখান থেকে খুচরা বাজার ঘুরে ভোক্তা পর্যায়ে যেতে যেতে দাম আরও বেড়ে যায়। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় জিরা ও এলাচের চাহিদা বেড়েছে। সে তুলনায় সরবরাহ কম। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে।
তবে কমতে শুরু করেছে চীন থেকে আমদানি করা আদা ও রসুনের দাম। গত ১৮ মে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি চায়না আদা ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। আর খুচরা বাজারে মিলছে ১৭০ টাকায়। একই সময়ে পাইকারিতে মানভেদে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া চায়না রসুন এখন দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। খুচরা পর্যায়েও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। চায়না রসুন মিলছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।
তাছাড়া দেশি পেঁয়াজ (হালি জাত) আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে প্রতি কেজি মাঝারি মানের দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। আর খুচরা বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ মিলছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১ হাজার ১৫০ টন এলাচ, ৩ হাজার ১১৫ টন জিরা, ৪৫ হাজার ৫৩৮ টন আদা এবং ৫৩ হাজার ১০১ টন রসুন আমদানি হয়েছে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, মসলা পণ্যের দাম একটু বেড়েছিল। বর্তমানে অধিকাংশ মসলার দাম কমে এসেছে। খুচরা বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন।
নগরের বেপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইসমাইল খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে এলাচের দাম ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এবার দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। বছরের ব্যবধানে এই মসলা পণ্যের দাম দেড় হাজার টাকা বেড়ে গেছে। ভাবা যায়! বাজারে তদারকি নেই। খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন।’
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. নাজের হোসাইন বলেন, ‘ঈদ ঘনিয়ে এলে কারসাজি করে চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। প্রতিবছরই এটি করা হয়, যা খুবই দুঃখজনক। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভোক্তার স্বার্থে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এই সমন্বয়হীনতার কারণে বাজার তদারকি ব্যবস্থা যথাযথ হয় না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা খাতুনগঞ্জে অভিযান পরিচালনাকালে চায়না আদার দামে কারসাজির প্রমাণ পেয়েছি। আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছি। অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ভাউচার সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
রিফাত/