ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬ সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার
Nagad desktop

ইরানে বিক্ষোভ অস্থিরতা বাড়ছে বিশ্বসম্প্রদায় এগিয়ে আসুন

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
বিশ্বসম্প্রদায় এগিয়ে আসুন

ইরানে বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের সূত্রপাত থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। হাজার হাজার ইরানি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। একের পর এক সংঘর্ষ-সহিংসতায় হতাহত হয়েছে হাজারো লোক। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তাদের চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ হাসপাতালের কর্মীরা। অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এ ক্ষোভ খুব দ্রুতই রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পরই কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। জনবিক্ষোভ দমাতে সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ করেছে। প্রশাসন ও সর্বোচ্চ নেতা খামেনির হুঁশিয়ারি কোনো কিছুই এখন আর তোয়াক্কা করছেন না বিক্ষোভকারীরা। ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তারা সরকার পতনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। সরকার বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। এদিকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে ইরানে কঠোর হামলা চালানো হবে বলে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের জন্য ‘শেষ কথা’। বিদ্যমান পরিস্থিতি আর কোনোভাবেই চলতে পারে না। সেনাবাহিনী বলেছে, সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে। অনেকেই মনে করছেন এ বিক্ষোভের সামনে ইরানের জেন-জির পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। অবশ্য ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে। এ ছাড়া ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর ছেলে রেজা পাহলভি বিদেশ থেকে বিক্ষোভের সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সে অনুযায়ী অর্থনৈতিক ক্ষোভ বর্তমানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পতন চাইছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক হুমকি, ইসরায়েলের মন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সমর্থন জানানোও ‘সরকার বদলের’ চেষ্টার সন্দেহকে জোরালো করেছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনমান উন্নয়নের দাবিতে যে বিক্ষোভে শরিক হয়েছিলেন এখন তা বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে ঝড় তুলেছে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ প্রশাসনকে নাজুক অবস্থায় ফেলেছে। এ ছাড়া বাইরে থেকে যে চাপ তা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে। যথেষ্ট আন্তর্জাতিক মিত্রের সমর্থন না থাকায় ইরানের দুর্বলতার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে নিজ দেশের ভেতর থেকেই। জার্মান-ইরানি অধিকারকর্মী ডানিয়েলা সেফেরিও ডয়চে ভেলেকে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে ইরানের নেতৃত্ব অনেক দুর্বল অবস্থায় আছে। ইরানের প্রচলিত পারস্পরিক সহযোগী শক্তিও ধীরে ধীরে কমছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ একত্রে বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সূত্রমতে, তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপে খামেনি ও পেজেশকিয়ান প্রশাসনের পতন হলে তা ১৯৫১ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিসেবেই গণ্য হতে পারে। আড়ালে পড়তে পারে সাধারণ মানুষের তোলা জীবনমান উন্নয়নের দাবি।’ 
ইরানের বিক্ষোভকারীরা প্রধানত দুর্নীতি ও নিপীড়ন বন্ধ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন। এ মুহূর্তে তাদের মধ্যে বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টি জোরালো নয় এবং রাজনৈতিক দাবিদাওয়াও স্পষ্ট হয়নি। এ রাজনৈতিক শূন্যতা রেজা পাহলভির জন্য নেতৃত্বের সুযোগ তৈরিতে বেশ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাজতন্ত্রের প্রতিনিধি হিসেবে তার একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। আমরা সব ধরনের যুদ্ধ এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। আমরা লক্ষ্য করেছি দেশে দেশে যুদ্ধের এক নীরব  দামামা বাজছে। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন কাঠামোর দুর্বলতা সামনে এলেই বিশ্ব মোড়লদের নাক গলানোর প্রবণতাও বেড়ে যায়। শান্তি স্থাপনের চেয়ে সেসব দেশের জনগণকে প্রলুব্ধ করতে ‘আগুনে ঘি’ ঢালার ব্যবস্থা করতে থাকে। এতে করে রক্তপাত ও মানবিক বিপর্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। ইরানে আর কোনো রক্ত না ঝড়ুক, তাদের ভাগ্য যেন আন্তর্জাতিক শক্তির কৃপায় পুতুল সরকার বসানোর অপচেষ্টা না হয়, এটাই প্রত্যাশা।

বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল

বিশ্বকাপের কথা মনে পড়লেই দিকে দিকে রোমাঞ্চ জাগে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টায় বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধন হতে চলেছে। এটিই হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর একক খেলাধুলার সবচেয়ে বড় আয়োজন। 
ফিফা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের বিশালত্বই এর মহিমা। বিশ্বকাপের ২৩তম এই আসরে বেশ কিছু ‘প্রথম’ ঘটনা যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রথম কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে, অর্থাৎ সম্পূর্ণ একটি মহাদেশজুড়ে টুর্নামেন্টটি হবে। সম্প্রসারিত এই টুর্নামেন্টে ৩২টি দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নেবে। টুর্নামেন্টের সময়ও বাড়বে: এবারের আসরটি ৩৯ দিন স্থায়ী হবে। ১০৪টি ম্যাচ কানাডার দুটি, মেক্সিকোর তিনটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এগারোটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রথম পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

স্বাগতিক দেশ হিসেবে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের এবারই বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটবে। ২০২২ সালে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় টুর্নামেন্টের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। অংশগ্রহণ করা দলগুলো ৪টি করে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী সেরা ৮টি দল নিয়ে পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নতুন ‘রাউন্ড অব ৩২’ পর্ব। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউজার্সি (মেটলাইফ) স্টেডিয়ামে। ফিফা আশা করছে, পৃথিবীজুড়ে ৬ কোটি দর্শক, অর্থাৎ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিশ্বকাপ দেখবে। বৈশ্বিক এই আনন্দযজ্ঞের গভীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গুরুত্ব রয়েছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে বৈশ্বিক ঐক্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিশাল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টটি প্রতি চার বছর পরপর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংহতি তৈরি করে। জাতীয় গৌরবের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র ও অঞ্চলকে একত্রিত করে। টুর্নামেন্টটির আয়োজক শহর ও দেশগুলোর জন্য বয়ে আনে গৌরব। এতে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা, হসপিটালিটি সেক্টরের সম্প্রসারণ ঘটে। লাখ লাখ দর্শক আয়োজক অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণ করেন, যা স্থানীয় বাজার, মিডিয়া শিল্প ও করপোরেট স্পনসরদের জন্য শতকোটি ডলারের অর্থনৈতিক চাঙাভাব তৈরি করে। 
এর কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। আয়োজক দেশগুলোকে বিশাল বিশ্বমঞ্চে তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বৈশ্বিক প্রভাব প্রদর্শনের সুযোগ করে দেয়। ফিফা সক্রিয়ভাবে এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা প্রচারের কাজে লাগায়। শিক্ষার পক্ষে কথা বলতে এবং ক্ষুধা দূরীকরণের লক্ষ্যে তারা ইউনেসকো এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতো সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে থাকে। সামাজিক দায়বদ্ধতা, বিশেষ করে মানবাধিকার এবং জলবায়ুসংক্রান্ত সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতিও পালন করছে ফিফা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। বিশ্বকাপে এখনো বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়নি। তবে আমাদের অধিকাংশ দর্শক মূলত দুটি দেশের ‘ফ্যান’ বা সমর্থক; এর একটি আর্জেন্টিনা, অন্যটি ব্রাজিল। বিশ্বকাপ চলাকালে এ দেশের মানুষের আবেগ এই দুটি দেশকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। অন্য দলগুলোরও কমবেশি অনুরাগী রয়েছে, তবে তা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের পুরোটায় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের চোখ যেমন টেলিভিশনের পর্দায় নিবদ্ধ থাকবে, তেমনি বাদ-প্রতিবাদ, বিজ্ঞের মতো চুলচেরা বিশ্লেষণও করতে দেখা যাবে অনেককে, বিশেষ করে তরুণদের। একই দলের সমর্থকরা এ সময় পরস্পরের মধ্যে যে ঐক্য অনুভব করেন তা অভূতপূর্ব। এ সময় সাধারণত দেখা গেছে, অপরাধ অনেক কমে যায়। সমাজে তুলনামূলকভাবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে। অর্থনীতিও এ সময় চাঙা হয়ে ওঠে। তবে অনেক দুঃখজনক ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও মৃত্যুবরণ করেছেন।

খেলা আসলে খেলাই, আনন্দের উপলক্ষ মাত্র। এই আনন্দযজ্ঞে মর্মান্তিক বেদনাবিধুর এ রকম ঘটনা একেবারেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাব, আপনি যে দলের সমর্থক হন না কেন, ফলাফল মেনে নেবেন। জয়ের আতিশয্যে বা পরাজয়ে বিমর্ষ হয়ে নিজের জীবনকে বিপন্ন করবেন না। সব সময় সৌহার্দ্য বজায় রেখে খেলাকে উপভোগ করে এর মূল স্পিরিটকে অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। মনে রাখবেন, খেলাধুলার চেয়ে জীবন অনেক বড়। খেলাধুলা আমাদের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি সঞ্চার করে জীবনকে বর্ণিল করে তোলে। জীবনের এই জয়গান দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। শুরুর প্রাক-মুহূর্তে বাংলাদেশের দর্শকদের প্রতি শুভকামনা থাকল।   

স্বাস্থ্য খাতের সংকট বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের সংকট বহুমাত্রিক। অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ডাক্তারসংকট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যাটি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া সম্ভব। 

সাধারণত বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতের মূল সমস্যা অর্থের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অর্থের অপ্রতুলতা নয়, বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ থাকে তাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যয় করতে পারে না। খবরের কাগজে গতকাল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের ৪০ শতাংশ খরচ করতে পারেনি। দেশে হামের মতো একটি সাধারণ রোগের টিকা পর্যন্ত আমদানি করা হয়নি। শুধু হাম নয়, আরও অনেক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের অর্থ ব্যয় করে নিয়মিত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হতো, বিগত সরকার তাও নেয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজও হয়নি। চরম গাফিলতি ঘটেছে স্বাস্থ্যসেবায়।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা (প্রায় ৪১৪০৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ দিয়েছিল। ওই বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের প্রায় ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ; মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ওই বাজেটে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। আগের তুলনায় টিকা কেনায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এই বরাদ্দের প্রায় ৬০ শতাংশ ফেরত গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক অর্থ উপদেষ্টার পরিকল্পনাগুলোর প্রায় সব বরাদ্দ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। দেশে হামের কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ হামের টিকা আমদানি করা হয়নি। এভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত যাওয়া শুধু দুঃখজনক নয়, মর্মান্তিকও। একটি প্রজন্মের এত এত শিশুর প্রাণ হারানোর জন্য অর্থ নয়, দায়ী বিগত সরকারের সার্বিক অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থাপনা।

বছর ঘুরে আগামীকাল আবার নতুন বাজেট ঘোষণা করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই বাজেটে যে ১০ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দ্বিতীয়। মোট বাজেটের আকার হিসাবে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিডিপির ভিত্তিতেও আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বাড়ছে। নিঃসন্দেহে এটি স্বাস্থ্য খাতের জন্য সুখবর। কিন্তু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পের বেশির ভাগ মহাপরিচালক-পরিচালকের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে এ ক্ষেত্রে সাফল্য একেবারেই আশানুরূপ নয়। অথচ আমাদের মতো গরিব দেশে সরকারি বরাদ্দ ব্যয় না হওয়া অপরাধ। এ দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে এক-একজন মানুষ নিজের চিকিৎসা খরচের ৬০-৭০ শতাংশ ব্যয় করেন। এদের বড় অংশই দরিদ্র।

অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অনির্বাচিত সরকার। জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক দাবি, সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না। যথাযথভাবে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করে দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কোনো অবহেলা সাধারণ মানুষ সহ্য করার পর্যায়ে নেই। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে যে দুঃসহ অবস্থা চলছে, অন্তত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

স্মার্টফোনের পর্দায় জুয়ার আসর বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে অনলাইন জুয়া। মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নীরব এই মহামারি। আবালবৃদ্ধবনিতা কেউ রেহাই পাচ্ছে না ভয়ংকর এই থাবা থেকে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, স্কুলশিক্ষার্থীরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর ভয়াবহতা এতটাই কঠিন যে কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এসব অনলাইন জুয়ার কারণে আত্মহত্যা, খুন, চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং বিকাশ ও নগদে লেনদেন সহজ হওয়ায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। অনলাইন জুয়ায় শুধু মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেই না, এর মাধ্যমে বিকাশ, নগদে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যমতে, নগদ৮৮, বাবু৮৮, সিভি৬৬৬, সিকে৪৪৪, ক্রিক্রিয়া, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চলছে জুয়ার আসর। দেশে বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা থাকায় দ্রুত বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ। অনেক তরুণ জুয়ার টাকা জোগাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। এরপর আস্তে আস্তে তাদের নিঃস্ব করতে থাকে। বেশি লোভের ফাঁদে পড়ে মানুষ এ পথে পা বাড়ায়। তখন মানুষ এ থেকে বের হতে চাইলেও আর ফেরার পথ হারিয়ে ফেলে। অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে চান না। এর ফলে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট, মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা। এরা অনলাইন জুয়ার জগতের পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। জানা গেছে, খেলোয়াড় হারলেও তারা কমিশন পেয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। এসব বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের এআই-নির্মিত ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত অঞ্চলগুলোয় এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটপাতের দোকানি থেকে শুরু করে সিএনজিচালক, কলেজশিক্ষার্থী, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত এসব বেটিং অ্যাপে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে জড়িয়ে এজেন্টরা হঠাৎ করে কালোটাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান বৈধ কোনো আয় না থাকলেও দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করে বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভয়ংকর এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি হলো সহজ প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং। জানা গেছে, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার বহু অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অনলাইন জুয়ার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরলেও কিছুদিন পর জামিন নিয়ে বের হয়ে দেশের বাইরে চলে যায়। অপরাধীরা বিদেশে বসে এ ধরনের অপরাধে সক্রিয় থাকে। পুলিশ প্রশাসনও বলছে, মূল হোতারা বিদেশে থাকায় তাদের জন্য তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া টাকার প্রবাহ যেখানে বেশি সেখানেই এ ধরনের জুয়ার কার্যক্রম বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই এ ধরনের জুয়া, হুন্ডি, অর্থ পাচার ঠেকাতে ডিজিটাল নজরদারি বাড়াতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে রিপোর্ট করতে হবে। অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এ জন্য সরকারকে একটি সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে সরকারকে কাজ করতে হবে।

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে গতকাল। বহুল আলোচিত এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে দেশে বিচারিক প্রক্রিয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দেশব্যাপী ব্যাপক জনরোষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুক সালেকিন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলা কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দায়ের এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। 

এ রায়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ১৯ দিনে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারের নজির স্থাপিত হলো। বিচারক দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার আদেশ দেন। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রত্যাশা করেন, উচ্চ আদালতে গেলেও এ রায় বহাল থাকবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ধাপ সম্পন্ন করে কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রকম বেদনাদায়ক একটি ঘটনার বিচার করা সম্ভব হলো। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলছেন, রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টে নথি পৌঁছালে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। রামিসার বাবা মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ে কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।’ দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায় ঘোষণার নজির নেই। 

সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি, দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ অনেক বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগ শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে ২৫৯ জন নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বলা হচ্ছে, এর মধ্যে ৫৯ মেয়েশিশুসহ ৭২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ১২ মেয়েশিশু, ৩৪ জন নারীসহ মোট ৪৬ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। 

বিচার না হওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় এসব অপরাধ ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আমরা আশা করব, শুধু রামিসাই নয়, শিশু আছিয়া হত্যাকাণ্ডের মতো আরও যেসব হত্যাকাণ্ড এ দেশে ঘটেছে, সব অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একটি স্বচ্ছ বিচার-প্রক্রিয়া অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এর মাধ্যমে অপরাধীদের অপরাধ করতে গেলে একবার হলেও ভাবতে হবে। সরকার চাইলেই দ্রুত যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তার নজির রামিসা হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির রায়। এর মাধ্যমে জনগণের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে যে, অপরাধ করলে অপরাধী শাস্তি পাবে। সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না হলে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে না। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, সেটিই কাম্য।

পুশইন নয়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে আইনি বিধির তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক পুশইনের পথ বেছে নিচ্ছে। এটি যেমন নিন্দনীয়, তেমনি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তারা আইনের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে রাতের আঁধারে বা সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কাজ করছে। এই একতরফা নীতির কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবিকসংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে যশোর, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, সিলেট, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একাধিকবার পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে আটকে থাকা ২৮ জনের কান্নায় জিরো লাইনের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শিশুদের কান্না আর নারীদের আকুতি স্থানীয় সীমান্তবাসীকেও ব্যথিত করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র রোদ, রাতের ঠাণ্ডা আর বৃষ্টি এবং খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবে, বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তাদের স্থায়ী সমাধান মিলছে না। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, বিচারহীনভাবে কোনো মানুষকে এভাবে জিরো লাইনে বন্দি করে রাখা এবং মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার চিত্র নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশইনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক প্রবণতা। কয়েক দিন ধরেই এই অপচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী দমনের নামে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাভাষী মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরাসরি অভিযোগ করেছে যে ভারত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সীমান্ত চুক্তি বজায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, এই অনিয়মতান্ত্রিক পুশইন বন্ধের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতকে স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, প্রটোকল এবং আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করলেই তাকে সরাসরি সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
ভারতের বিএসএফের অবৈধ পুশইন ও চোরাচালান রোধে বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে নজরদারি ও জনবল বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এটি আরও বাড়াতে হবে। ভারত একটি বন্ধুপ্রতিম বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর নামে যে পুশইন তৎপরতা ভারত শুরু করেছে, তাতে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আশা করছি, দুই দেশের সম্পর্ককে গতিশীল ও দৃঢ় করতে ভারত আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে বড় দেশ হিসেবে ভারতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।