ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
Nagad desktop

সংকটে লবণশিল্প চাষিদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করুন

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
চাষিদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করুন

বর্তমানে কিছু ভুলনীতির কারণে দেশের লবণশিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। করপোরেট হাউসগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এ শিল্প। লবণচাষিরাও নানাবিধ সমস্যার কারণে এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। লবণের দাম উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কমে যাওয়ায় এবার লবণ চাষে আগ্রহ কমেছে। জমির খাজনা এবং উপকরণের দাম বাড়লেও কমেছে লবণের দাম। জমিতে এক মৌসুমে যে পরিমাণ লবণ উৎপাদন হচ্ছে তা বিক্রি করে তাদের খরচ উঠছে না। বিক্রি না হলে অথবা দাম কমে গেলে কৃষক লবণ সংরক্ষণ করতে পারেন না। কারণ লবণ সংরক্ষণের আধুনিক কোনো ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। তারা লবণ মাঠে গর্ত করে সংরক্ষণ করেন। সংরক্ষণের সময় নষ্ট হয়ে যায় কৃষকের শ্রমে-ঘামে উৎপাদিত লবণ। কৃষকরা জানান, মাটির গর্তে সংরক্ষণ করা লবণের অন্তত ১০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যদি লবণ সংরক্ষণের বিষয়ে সরকার চাষিদের সহযোগিতা করত কিংবা বড় লবণ কোম্পানিগুলো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে লবণ ক্রয় করত তাহলেও কৃষকরা কিছু বাড়তি টাকা পেতেন। লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, দালাল ও প্রভাবশালীদের শোষণ বন্ধ, সরকারি নজরদারি এবং বিসিকের কার্যকর ভূমিকা চান কৃষকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিত উৎপাদন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব, মৌসুমভিত্তিক বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকা- এ তিনটি কারণেই লবণের বাজার ওঠানামা করছে। লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারি ক্রয়, সংরক্ষণ সুবিধা ও রপ্তানির উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে লবণ উৎপাদনে আগ্রহ হারাবেন চাষিরা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত বছর দেশে লবণের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ ১০ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ ৫২ হাজার টন। কাগজে-কলমে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন লবণের ঘাটতি রয়েছে। গত বছর দেশে ৬৯ হাজার ৫২১ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছিল। তার আগের বছর চাষ হয়েছিল ৬৮ হাজার একর জমিতে।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির খবরের কাগজকে বলেন, শিল্পলবণের নামে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করছে বড় কোম্পানিগুলো। কারণ প্রতিটি বড় কোম্পানিতে লবণ মিল আছে। একই সঙ্গে কস্টিক সোডা তৈরির কারখানাও রয়েছে। তারা কস্টিক সোডা তৈরির উপকরণ হিসেবে শিল্পলবণের নাম দিয়ে লবণ আমদানি করে প্যাকেটে বাজারজাত করে। শিল্পলবণ আমদানিতে শুল্ক ও কর দিতে হতো ৯৩ শতাংশ। বর্তমানে সেটার আমদানিতে শুল্ক ও কর দিতে হয় ২৫ শতাংশ। বড় শিল্পগ্রুপগুলো সেই সুযোগ নিচ্ছে। শিল্পলবণ আমদানি করে তা বাজারে ভোজ্য লবণ হিসেবে ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ মিলাররা আমদানি করতে গেলে ৯৩ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। যে কারণে দেশি কৃষক এবং মিল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিসিকের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে করপোরেট হাউসগুলো লবণশিল্পকে জিম্মি করছে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় লবণশিল্পকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের ভুলনীতির কারণে এ শিল্প যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। লবণের দ্রুত ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, দালাল ও করপোরেট দৌরাত্ম্য, প্রভাবশালীদের শোষণ বন্ধ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিসিকের কার্যকর ভূমিকাও জরুরি। পাশাপাশি লবণ সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে চাষিরা দীর্ঘদিন ধরে লবণ সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। বড় গ্রুপগুলো যাতে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে লবণ সংগ্রহ করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যাশা করছি, সরকার অচিরেই লবণশিল্পকে বাঁচাতে একটি টেকসই ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্ত করুন কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস

তৈরি পোশাকশিল্পের পর দ্বিতীয় বৃহত্তর সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে চামড়াশিল্প। অথচ এই খাতটি অবহেলার শিকার। নানা সমস্যায় জর্জরিত এ শিল্প নিয়ে সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাও পরিলক্ষিত হয়নি। এবার ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী আশ্বাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিও কাজে আসেনি। খবরের কাগজের ব্যুরো অফিস, প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদকদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কোথাও কোরবানির চামড়ার ন্যায্য দাম মেলেনি। ঈদুল আজহার আগে শিল্পমন্ত্রী কয়েক দফায় গণমাধ্যমে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এবার চামড়ার বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চামড়া সরকারনির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে। মাঠপর্যায়ে কোথাও যেন অনিয়ম না হয়, সে জন্য প্রশাসন কঠোর নজরদারি করবে। চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বাজারে প্রচুর পরিমাণে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। অথচ মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

ঈদের দিনে পাইকারি আড়তগুলোতে চরম মন্দাভাব দেখা যায়। রিকশাভ্যান ও ট্রাকে করে চামড়া নিয়ে আসা কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারনির্ধারিত দামে আড়তদাররা চামড়া কিনছেন না। তারা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে চামড়া কিনছেন। কোরবানির চামড়ার বাজারে আকর্ষিক এই দরপতনে তাদের দিশেহারা অবস্থা। নিরুপায় হয়ে চামড়া সংগ্রহকারীরা আড়তের সামনে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন। কিছু কিছু এলাকায় চামড়া মাটিতে চাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবার কোথাও ক্রেতা না পেয়ে অনেকে চামড়া রাস্তায় ফেলেও দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক যুগ ধরে কোরবানির চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট কৌশলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেট সরকারের বেঁধে দেওয়া দামকে তোয়াক্কা করে না। তারা অনেক কম দামে চামড়া কেনে। ফলে প্রতিবছর প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়। মূলত সঠিক সংরক্ষণের অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। চামড়ার বাজারের এই অস্থিরতা দূর করতে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই প্রতিবেদনেও সরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কারখানাগুলোর অব্যবহৃত জায়গায় সংরক্ষণ কেন্দ্র করা সম্ভব। এসব কেন্দ্রে আশপাশের এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে সহজেই সংরক্ষণ করা যাবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে চরম নৈরাজ্য হয়। সরকারকে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। সরকার বিভাগীয় শহরগুলোতে বিসিকের শিল্পপ্লট ব্যবহার করতে পারে। সেখানে চামড়া সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা চামড়া কেনার পর সেখানে তা সংরক্ষণ করবেন। পরবর্তী সময় ভালো দাম পাওয়া গেলে আড়তদার ও ট্যানারিমালিকদের কাছে তা বিক্রি করা যাবে। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। একই সঙ্গে কম দামে দ্রুত চামড়া বিক্রি করার লোকও থাকবে না।

প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, তাতে চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত হয় না। সেই সঙ্গে কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অথচ একসময় কোরবানির মৌসুমে ছাগল, বকরি ও খাসির চামড়া ছিল গ্রামের দরিদ্র মানুষ, মাদ্রাসা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। সেই চামড়া এখন অনেকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রপ্তানিযোগ্য এই অর্থকরী পণ্যের বড় একটি অংশ অর্থনীতির বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই সংকট উত্তরণে সরকারকে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এবার চামড়ার বাজারে যে ধস লক্ষ করা গেছে, তা যেন পরবর্তী সময়ে না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে যারা সিন্ডিকেট করে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশা করছি, সরকার চামড়ার নৈরাজ্য দূরীকরণে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিন বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

দেশে জ্বালানি তেলের পর বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়তি চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর। গত বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। নতুন ঘোষণায় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এ ছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি গড়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বেশি গুনতে হবে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকেই কার্যকর হবে।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পাইকারি দাম বাড়ানোয় বছরে পিডিবির আয় বাড়বে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এতে সরকারের ভর্তুকি কিছু কমবে। এর পরও ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে সরকার। আর খুচরা দাম বাড়ানোয় ভোক্তার কাছ থেকে বাড়তি আসবে বছরে সাড়ে 
১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বাইরে আনুপাতিক হারে ভ্যাট, করও বাড়বে সরকারের। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেও হতো।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে এক গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গণশুনানিতে দেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, জ্বালানি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তাদের বক্তব্য ছিল, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তবে এসব পরামর্শ উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় বাড়তি চাপে থাকা মানুষ আরও চাপের মুখে পড়েছে। সংসার চালানোর খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অনেকেই শঙ্কায় রয়েছেন।

সরকারকে বিদ্যুৎ খাতে অনেক ভর্তুকি দিতে হয়। বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকির বড় সুফল পান সচ্ছল ও ধনী ব্যক্তিরা। এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা, সুদ ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা খাতে সরকারের ব্যয় বাড়ছেই, কিন্তু সরকারের রাজস্ব আদায় খুবই কম। এরই মধ্যে সরকার বড় আকারের জাতীয় বাজেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সরকারের উচিত হবে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রেখে মুদ্রাস্ফীতিকে ভিন্নভাবে মোকাবিলা করা। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয় খরচ বাড়বে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। সীমিত আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় এখন অনেক কমেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। ধনী ও গরিবের মূল্যবৃদ্ধির হারে তেমন তফাত নেই। এ অবস্থায় সরকারের উচিত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সে ক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থাপনা, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার, ব্যাংকিং খাতের আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করা। যাতে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে না যায়, সে দিকটায় নজর রাখা জরুরি। আশা করছি, সরকার একটি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পাবে।

অবহেলায় নিঃসঙ্গ মায়ের মৃত্যু সচেতনতার সঙ্গে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
সচেতনতার সঙ্গে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন

ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সচেতন মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়ে একটা খবর আমাদের সামনে চলে এসেছে। খবরটি যেমন মর্মান্তিক, তেমনি পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয় এবং অমানবিকতার চূড়ান্ত বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রায় দেড়-দুই বছর ধরে নানা অমানবিকতার খবর ক্রমাগত আমাদের বেদনার্ত ও বিমূঢ় করে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নানা ক্ষেত্রে দেখা গেছে দুঃসহ নৈরাজ্য। শিক্ষক নিগ্রহ থেকে শুরু করে আমাদের যেসব উল্লেখযোগ্য ‘অর্জন’ রয়েছে, তার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে একশ্রেণির উগ্র মানুষ। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। এরই সর্বশেষ প্রকাশ দেখা গেল মিরপুরে এক মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, এক মা নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সাত দিন ধরে তার মরদেহ একটা ঘরে পড়ে ছিল। মরদেহ পচে-গলে গেলে তা পোকায় খেয়েছে। কেউ তার খোঁজ নেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানা যায়, এই মায়ের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মেয়ে ও মেয়ের জামাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এক ছেলে থাকেন বিদেশে। এদের কেউই এই হতভাগা মায়ের খোঁজ নেননি। শেষবারের মতো কোনো সন্তানকে তিনি কাছে পাননি, অথচ উল্লিখিত সন্তানদের কেউ কেউ একই শহরে, অর্থাৎ ঢাকাতেই থাকেন।  
এ ঘটনা শুধু অমানবিক নয়, চূড়ান্ত অর্থে অমানবিক। এ রকম ঘটনা আমাদের পারিবরিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আইনের দিক থেকেও এ ঘটনার জন্য সন্তানরা দায়ী এবং অপরাধী। সন্তানদের এই অবহেলা আসলেই অপরাধ কি না, অনুসন্ধান করতে গিয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একটি আইন আমরা দেখেছি। আইনটির শিরোনাম হচ্ছে: ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ (২০১৩ সালের ৪৯ নম্বর আইন)’। এই আইনে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক সন্তানকে তাহার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে। এই ধারার অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একই সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করিতে হইবে। প্রত্যেক সন্তান তাহার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখিবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করিবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয়, সন্তান হইতে পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাহার, বা ক্ষেত্রমত তাহাদের সহিত সাক্ষাৎ করিতে হইবে।’ 
আমাদের সৌভাগ্য যে এ রকম একটি আইন ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। পূর্বাভিজ্ঞতা থেকেই যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা বোঝা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, এ রকম একটা যুগোপযোগী, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্যবোধ এবং তাদের জীবন নির্বিঘ্ন করার আইন থাকা সত্ত্বেও অনেক পিতা-মাতাকে শেষ জীবনে দুর্বিষহ জীবন নির্বাহ করতে হয়। এই মায়ের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। আমরা মনে করি, এ রকম অমানবিক ঘটনা এবং পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয়কে রোধ করার ক্ষেত্রে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। রাষ্ট্রের যে আইন আছে, সেই আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সেটা অনেকটা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এখানে আমরা একটা প্রস্তাব রাখতে চাই। যেহেতু এটা পারিবারিক-সামাজিক সমস্যা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শমূলক এবং প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে এ ব্যবস্থা আছে, যেখানে সমাজকল্যাণে নিযুক্ত আলাদা কর্তৃপক্ষ এ ধরনের পারিবারিক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের নতুন সরকার যুগোপযোগী পরিবর্তনের ধারায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে যেভাবে দেশ শাসন করছে, তাতে তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সচেতনতা সৃষ্টি। সেই উদ্যোগও গ্রহণ করতে পারে সরকার।

সামগ্রিকভাবে পারিবারিক বন্ধন, সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো জনগোষ্ঠী সুসভ্য হওয়ার দাবি করতে পারে না। এ বিষয়ে সব সময় আমাদের সবার সচেতন থাকতে হবে। পিতা-মাতার প্রতি আমাদের কর্তব্যবোধ হওয়া উচিত আরও গভীর এবং শর্তহীনভাবে নিবেদিত। কারণ তারা শুধু আমাদের জন্মদাতা ও জন্মদাত্রী নন, তারা আমাদের লালন-পালন করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন। সন্তানের কল্যাণে তাদের ত্যাগের মূল্য অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। প্রতিদান হিসেবে একইভাবে তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্যবোধও সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকা বাঞ্ছনীয়।   

ফুটওভারব্রিজে মরণফাঁদ দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা কাম্য

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা কাম্য

ফুটওভারব্রিজ পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজের পাটাতন ও সিঁড়িতে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও লোহার পাত উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। অনেক ব্রিজের লোহার কাঠামো মরিচা ধরে ক্ষয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ফুটওভারব্রিজে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা, দখল, ভাঙাচোরা অবকাঠামো এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। বছরের পর বছর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব ব্রিজ এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রায়ই পথচারীদের হাত-পা কেটে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজ রাতে ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক ব্রিজে শুরু হয় মাদকসেবীদের আড্ডা। এতে সাধারণ পথচারীদের নিরাপদে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নির্জন ও অল্প আলোযুক্ত ব্রিজগুলোতে একা চলাচল করা নারী, শিক্ষার্থী ও অফিসফেরত মানুষকে টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা। মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি হামলার ঘটনাও ঘটছে। কোথাও ছুরিকাঘাত, আবার কোথাও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে এসব ফুটওভারব্রিজ কার্যত সমাজবিরোধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। শুধু মাদক সেবনই নয়, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ব্রিজ এখন ভবঘুরেদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক পার হচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফুটওভারব্রিজগুলোর বেহাল অবস্থার বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সিটি করপোরেশন একা সবকিছু ঠিক রাখতে পারে না। মানুষ সচেতন না হলে এসব উদ্যোগ সফল হয় না। নিয়মিত পোস্টার লাগানো, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, ফুটওভারব্রিজের বিভিন্ন অংশ নষ্ট করা, এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইট চুরি হওয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন। তাই নাগরিক সচেতনতাও জরুরি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের ফুটওভারব্রিজ যদি এমন বেহাল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলে আর কিছু থাকে না। নগরবাসীর জন্য ফুটওভারব্রিজ করা হলো, কিন্তু তদারকি ও সংস্কারের অভাবে সেগুলো এখন জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেল! বছরে এত এত প্রকল্পের বরাদ্দ হচ্ছে কিন্তু মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না কেন? এর জবাব দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভারব্রিজ চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সেগুলো সংস্কার করে নগরবাসীর চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।

ফুটওভারব্রিজ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভারব্রিজের কার্যকর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলাচলে ভোগান্তির কারণে মানুষ এখন এটি ব্যবহার করতে অপারগ। ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি রাস্তা পারাপারের প্রবণতা তাই বাড়ছে। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। তাই এ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সরকারকে আমলে নিয়ে নগরবাসীর চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে রাজধানীর ফুটওভারব্রিজ। সেই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ঈদুল আজহার দিনগুলো বিড়ম্বনার মধ্যেও স্বস্তিতে কেটেছে

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
বিড়ম্বনার মধ্যেও স্বস্তিতে কেটেছে

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর জনজীবন ও দেশের সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঈদের সময়ে জনচলাচলে দেখা দেয় চাঞ্চল্য এবং সাময়িক স্থানান্তরের ঘটনা। অধিকাংশ মানুষ নগরজীবনের কর্মস্থল বা কাজের জায়গা ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়িতে যান। ছুটি শেষে আবার ফিরে আসেন কর্মক্ষেত্রে। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে মানুষের কেনাকাটা এবং বাণিজ্যও জমে ওঠে। বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের জন্য ঈদই হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবর্ণ সময়। কিন্তু বরাবর ঈদকে কেন্দ্র করে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, এবার তাও দেখা গেছে। তবে তুলনামূলকভাবে তা ছিল কম।  
ঈদে প্রধান যে উদ্বেগ বাড়িমুখী মানুষের মধ্যে কাজ করে, সেটা হচ্ছে কর্মস্থল ছেড়ে বাড়িতে পৌঁছানো এবং বাড়ি থেকে আবার কর্মস্থলে ফেরা। বেশি ভোগান্তি হয় বাড়িতে যাওয়ার সময়। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের এবারও বড় বড় শহর, যেমন ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি বড় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, ঈদের আনন্দের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। খোদ রাজধানীতে ঈদের ছুটিতে ৩টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও  সরকারের পক্ষ থেকে সচেতন করা সত্ত্বেও এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা ছিল অনভিপ্রেত। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি কখনো কমে না। এখনো যারা বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরছেন তাদের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা কর্মস্থলে নিরাপদে ফিরতে পারেন।

পশুর হাটেও ছিল নৈরাজ্য। গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ইজারাদারদের লোক পথ আটকে ব্যাপারীদের অনেকটা জোর করে নিজেদের হাটে নিয়ে গেছেন। তবে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনার ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকায়। উত্তরার মেট্রোরেলের জায়গায় হাট বসানো হয়েছে, দুই দিন এটা চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে সেই হাট উত্তর সিটি করপোরেশন ভেঙে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে বর্জ্যে পুরো এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। পরিচ্ছন্ন মেট্রো এলাকা রীতিমতো পরিণত হয় ভাগাড়ে। পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললেও তা যে আশানুরূপ ছিল না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্জ্য কতটা অপসারিত হয়েছে, নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে তার ইঙ্গিত মেলে।  
প্রধানমন্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজে ৪ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ঘুরে দেখার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন জনগণের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয় এবং মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

কোরবানি ঈদের অর্থনীতি মূলত আবর্তিত হয় চামড়া ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। সেই ব্যবসা গতবারের তুলনায় আরও মন্দা গেছে বলে চামড়ার খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম সরকার গত বছরের চেয়ে এবার ২ টাকা বাড়িয়েছিল। কিন্তু রাজধানীতে সেই দামে চামড়া বিক্রি হয়নি। ময়মনসিংহের চামড়ার হাট শম্ভুগঞ্জ কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর রাজারহাটে পর্যাপ্ত চামড়া থাকলেও বিক্রি না হওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটান চামড়া নিয়ে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বরিশালসহ সারা দেশের চামড়ার বাজারের চিত্র ছিল একই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটা ঘটনায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল সমালোচনায় মুখর। সেখানে একশ্রেণির ধর্মান্ধ শিক্ষার্থীর আপত্তির মুখে প্রশাসন পূর্বানুমতি নেওয়া ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া এবং ঢাকার প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পরও কেন প্রদর্শনীটি বন্ধ করা হলো, তাই নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও যে চলচ্চিত্র দেখেছেন, সেই চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করা ছিল অভূতপূর্ব একটা ঘটনা।  এ রকম হতাশার মধ্যেও স্বস্তির দিকটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিজের চোখে ঘুরে দেখার বিষয়টি। 
টানা ৭ দিন ছুটির পর আজ অফিস-আদালত খুলেছে। রাজধানী ঢাকা আবার কর্মমুখর হয়ে উঠবে। বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বড় বাজারগুলো ধীরে ধীরে আবার সরব হবে। অন্য সময়ের মতো ঢাকা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। সে রকম পরিস্থিতিতে সারা বছর সবার জীবনযাপন স্বস্তির হোক, আনন্দমুখর হোক।