নাটক : বহিপীর
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১৩। হাতেম আলি চিকিৎসার অজুহাতে শহরে গিয়েছিলেন কেন?
উত্তর: হাতেম আলি তার জমিদারি রক্ষায় বন্ধুর কাছে টাকা ধার করার জন্য চিকিৎসার অজুহাতে শহরে গিয়েছিলেন। হাতেম আলি রেশমপুরের জমিদার। টাকার অভাবে সান্ধ্য আইনে তার জমিদারি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। জমিদারি রক্ষা করতে তার অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল। এজন্যই তিনি শহরে বন্ধুর কাছে টাকা ধার করতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জমিদারি হারানোর শঙ্কার কথা তিনি তার পরিবারের কাছে গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি চিকিৎসার অজুহাতে শহরে গিয়েছিলেন।
১৪। হাতেম আলির মন বিষণ্ন কেন?
উত্তর: জমিদারি হারানোর শঙ্কায় হাতেম আলির মন বিষণ্ন। সান্ধ্য আইনের কারণে হাতেম আলি তার জমিদারি হারাতে বসেছেন। জমিদারি রক্ষার জন্য তিনি অসুস্থতার অজুহাতে শহরে বন্ধুর কাছে টাকা ধার করতে আসেন। কিন্তু তিনি টাকা পেতে ব্যর্থ হন। ফলে পরদিন হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠবে টাকা পরিশোধ করতে না পারায়। আর এই শঙ্কাতেই হাতেম আলির মন বিষণ্ন।
১৫। একবার ঝুট কথা বললে উপায় নেই কেন?
উত্তর: একবার ঝুট কথা বললে তাকে ঢাকতে অসংখ্য মিথ্যা কথা বলতে হয় বিধায় মিথ্যা একবার বললে আর উপায় নেই। জমিদার হাতেম আলি মিথ্যা কথা বলে শহরে এসেছেন। তার অসুস্থতা না থাকলেও তিনি অসুস্থতার ভান করে শহরে ডাক্তার দেখাবেন বলে এসেছেন। কিন্তু তিনি যে উদ্দেশ্যে এসেছেন তা ব্যর্থ হওয়ায়, এখন সত্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এজন্য এই মিথ্যা কথাকে রক্ষা করতে তাকে আরও মিথ্যা কথা বলতে হয়। তাই জমিদার বলেছেন একবার ঝুট কথা বললে আর উপায় নেই।
১৬। হাতেম আলি সারা বিকেল বাল্যবন্ধু আনোয়ারের আশায় কাটায় কেন?
উত্তর: হাতেম আলি জমিদারি রক্ষায় বাল্যবন্ধু আনোয়ারের কাছ থেকে টাকা ধার নেবেন, এ আশায় সারা বিকেল শহরে কাটান। হাতেম আলির জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠতে চলেছে। এজন্য শেষ মুহূর্তে সাহায্যের আশায় হাতেম আলি শহরে বন্ধুর কাছে আসেন। কিন্তু সেখানেও নিরাশ হন। তবু হাতেম আলি মনে করেন তার বন্ধু টাকা নিয়ে তার কাছে আসবে তার জমিদারি রক্ষা পাবে। তাই তিনি সারা বিকেল বন্ধু আনোয়ারের আশায় কাটান।
১৭। হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠতে চলেছে কেন?
উত্তর: সান্ধ্য আইনের ফলে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হাতেম আলির জমিদারি নিলামে উঠতে চলেছে। হাতেম আলি রেশমপুরের জমিদার। কিন্তু তিনি এই জমিদারি হারাতে বসেছেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে সূর্যাস্ত আইনে নির্ধারিত সময়ের আগে খাজনা পরিশোধ না করলে জমিদারি নিলামে উঠত। হাতেম আলি অনেক চেষ্টা করেও খাজনার টাকা জোগাড় করতে পারেননি। এজন্য তিনি শহরে বন্ধুর কাছে গিয়েও খালি হাতে ফিরেছেন। ফলে তার জমিদারি নিলামে উঠতে চলেছে।
আরো পড়ুন : বহিপীর নাটকের ৭টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব
১৮। ‘চারিদিকে আমি অন্ধকার দেখছি’ হাতেম আলির এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: জমিদারির পতন আসন্ন জেনে হতাশায় হাতেম আলি কথাটি বলেছেন। হাতেম আলি রেশমপুরের জমিদার। তিনি জমিদারি রক্ষার জন্য বাল্যবন্ধু আনোয়ারের কাছে টাকা ধার করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বন্ধু তাকে নিরাশ করে। ফলে খাজনা শোধ করতে না পারায় হাতেম আলি বুঝতে পারেন, তার জমিদারি নিলামে উঠবে। এই দুশ্চিন্তায় হাতেম আলি বলেন, ‘চারিদিকে আমি অন্ধকার দেখছি’।
১৯। হাশেম তাহেরাকে বিয়ে করে হলেও বাঁচাতে চায় কেন?
উত্তর: তাহেরার প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার কারণে হাশেম তাকে বিয়ে করে বহিপীরের হাত থেকে বাঁচাতে চান। তাহেরা বালিকা হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবার এক বুড়ো পীরের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়। কিন্তু তাহেরা এই বিয়ে না মেনে পালিয়ে যায় এবং ঘটনাক্রমে হাশেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়। তাহেরার মতো একজন বালিকার বিয়ে হাশেম আলিও মেনে নিতে পারেননি। একজন দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে তিনি তাহেরার পক্ষ অবলম্বন করেন। বহিপীরের হাত থেকে তাহেরাকে তিনি বাঁচাতে চান। প্রয়োজনে বিয়ে করে হলেও তাহেরাকে বাঁচাতে চান।
২০। তাহেরার বাবা-মা বহিপীরের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেন কেন?
উত্তর: তাহেরার বাবা-মা বহিপীরকে খুশি করার জন্য তার সঙ্গে তাহেরার বিয়ে ঠিক করেন। তাহেরার বাবা-মা ছিলেন বহিপীরের মুরিদ। বহিপীর অনেক দিন পর তাদের বাড়িতে গেলে তারা পীরের খেদমতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা মনে করে পীরের খেদমত করতে পারলেই অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। তাই তারা পীরকে খুশি রাখতে চান। আর পীরকে খুশি রাখার আশায় তারা তাহেরার সঙ্গে বহিপীরের বিয়ে দিতে চান।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর