‘মানবিক নম্বর’ বা অতিরিক্ত নম্বরের কোনো সুযোগ না রেখে কঠোর মূল্যায়ন নীতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়।
প্রশ্নফাঁস রোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার, নকল ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’, পরীক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিসহ এবারের পরীক্ষা ঘিরে সরকার নিয়েছে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সরকার আন্তরিক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এবারের পরীক্ষায় ‘মানবিক নম্বর’ দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা খাতায় যতটুকু লিখবে, তার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নাশকতার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার কম। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। এবার পরীক্ষা শুরু হবে বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এবং লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। পরে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ অংশের জন্য সময় ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি বোর্ডে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ডগুলো জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা যাবে না। উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না এবং ওএমআর ফরম যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
গতকাল শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ডিজিটাল অপরাধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও আনা হয়েছে কড়াকড়ি। নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক দিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না এবং নম্বর প্রদানেও গড়পড়তা প্রবণতা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে সরকার পরীক্ষা কেন্দ্রে সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা হাসিমুখে কেন্দ্রে আসবে এবং হাসিমুখেই বের হবে।’
আতঙ্কিত না হয়ে সন্তানদের মানসিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য অভিভাবকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আগে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা পায়নি। তাই এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে।