ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ জন এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন How to learn English বিষয়ক Writing Paragraph, ৩০তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ তারার দেশে সাইকেল যাত্রা মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন রবিবার দারাজ ৬.৬ মিড-ইয়ার শপিং ফেস্টে থাকছে আকর্ষণীয় অফার, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট ও পুরস্কার গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি যৌক্তিক মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত
Nagad desktop

কবি ইকবাল হাসানের ছায়া ও মায়ায় ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
আপডেট: ১০ মে ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
কবি ইকবাল হাসানের ছায়া ও মায়ায় ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব
‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত কবি ইকবাল হাসানকে। কানাডার টরন্টোতে বইটির পাঠ উন্মোচনে কবির স্ত্রী তসলিমা হাসানের হাতে বইয়ের কপি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি ড. ইখতিয়ার ওমর, টরন্টোর চারজন পোয়েট লরিয়েট – লিলিয়ান আ্যলেন, এ এফ মরিৎজ, অ্যান মাইকেল এবং জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, বইয়ের সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস, সাপ্তাহিক বাংলামেইল পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু ও অন্যন্যরা। ছবি: সংগৃহীত।

অন্য দিনগুলোর মতোই শুক্রবার (১ মে) সারাটি দিন সাধারণ হতে পারত। কিন্তু বিশেষ এক কারণে আমার জীবনে এ দিনটি আর দশটি দিনের থেকে আলাদা হয়ে গেল। না ছিল অফিসে যাওয়ার তাড়া, না ছিল অফিস থেকে ফিরে ক্লান্তি মোচনের চেষ্টা বা অজানা ভীতি। ঘরের আর কাজের জায়গার নিয়মিত অনুভবগুলোও কেমন দূরে সরে রইল সেদিন আলগোছে। কেবল হৃদয়ের কাছে–মনের একেবারে গভীরে স্থির হয়ে রইল একটি অনুভব; চিরদিনের চেনা সে উপলব্ধি আমার! 

আগে থেকেই ছুটি নিয়ে রেখেছিলাম এই দিনটির জন্য। বিকেল ৬টায় স্কারবরোর সেন্ট পলস ইউনাইটেড চার্চে যেতে হবে–সুব্রত কুমার দাস সংকলিত ও সম্পাদিত ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে। এই সংকলনে ৭১জন লেখকের মধ্যে আমিও একজন; আমার প্রায় চারদশকের কানাডা প্রবাস-জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছি: ‘কেবল ব্যক্তি-স্বাধীনতা নয়, ব্যক্তি-নির্ভরতারও দেশ কানাডা’।

নতুন বই, আমিও একজন সংকলিত লেখক, অনেক লেখকের সাথে দেখা হবে, তাড়া সে সবের জন্য নয়–এই গ্রন্থটি কবি, সাংবাদিক, চিত্রশিল্পী, রন্ধনশিল্পী, কথাশিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইকবাল হাসানকে উৎসর্গ করা হয়েছে, সে জন্যে আমার ভেতরের তাড়না। এবং সেই সুবাদে কবির সহধর্মিণী হিসেবে আমাকে অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশের জন্য অনুরোধ করেছেন সম্পাদক এবং প্রকাশনা উৎসবের আয়োজক; সে কারণে তো উত্তেজনা, প্রকাশ-না-করা বেদনা এবং সংশয় ছিলই! 

ঘুম থেকে উঠেই শুক্রবারের সকালবেলাটায় আচ্ছন্ন হয়ে রইলাম ইকবালের কল্পনায়; আমার জীবনের এক মহা অনুষঙ্গ এই মানুষটি। টরন্টোতে বাংলা সাহিত্য-শিল্পের চর্চা ও বিকাশে তার যে কত ভাবনা ছিল, তা বলে শেষ করার মতো নয়। এই টরন্টোর গত চার-পাঁচ দশকে বসবাসকারী বাঙালি লেখক-কবিরা তো বটেই এমনকি বাংলাদেশ-ভারত থেকে বেড়াতে আসা লেখক-শিল্পীদেরও আশ্রয়স্থল বা আয়েশের ঠিকানা ছিল কবি ইকবাল হাসান।

সেইসব দিন কেমন আবছা আলোর মতো মনে ভিড় করছিল। আনন্দে মনটা ভরে উঠছিল বটে; কিন্তু আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল এক নীরব বেদনার নদী–যে নদীতে শুধুই আমিই স্নান করতে পারি একাকী!

সন্ধ্যা ছয়টায় নির্ধারিত ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার কথা থাকলেও আয়োজনের টুকিটাকির জন্য আমাকে হাজির হতে হলো বিকেল পাঁচটার আগেই।

সুব্রত-নীলিমা দম্পতির উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার এনআরবি টিভির সিইও, সাপ্তাহিক বাংলা মেইল পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টুর সুস্বাদু খাবারে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে প্রকাশনা উৎসবটি যে আনন্দঘন ও জমজমাট হয়ে উঠেছিল, তা আমার মতো সমাগত সবাই হয়তো স্বীকার করবেন।

হলরুমের প্রবেশপথে সুব্রত কুমার দাসের প্রকাশিত গ্রন্থের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের স্টল আয়োজনের নান্দনিকতাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল বিশেষ মাত্রায়।  

এত বড় এক আয়োজনের জন্য প্রথমেই আমি আমার প্রিয় লেখক-গবেষক-শিক্ষক সুব্রত কুমার দাসকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, স্যালুট ও ভালোবাসা জানাতে চাই। তার কঠোর পরিশ্রম আর আন্তরিকতার ফলে আমরা কানাডার প্রায় দুইশত বাঙালি একত্রিত হতে পেরেছিলাম। এ যাবতকালে কানাডায় আর কোনো ব্যক্তি ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতার মতো এমন একটি বিশাল পরিকল্পনা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন কি-না, তা আমার জানা নেই।

নানাবিধ বিষয় সুব্রতদা’র মাথায় কাজ করে– এমনটি আমার মনে হয়েছে। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব। 

অনুষ্ঠানের অন্য আকর্ষণ ছিল টরন্টোর চারজন পোয়েট লরিয়েট–লিলিয়ান আ্যলেন, এএফ মরিৎজ, অ্যান মাইকেল এবং জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক-এর উপস্থিতি। তাদের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত এবং সাফল্যমণ্ডিত করেছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো–একটি বিশেষ গ্রন্থের প্রকাশনাকে ঘিরে লেখক-কবি-শিল্পীরা প্রাণের মেলায় মিলিত হয়েছিল যেন! আর এই অনুষ্ঠানের পর্ব-বিন্যাস এবং উপস্থাপনা ছিল অসাধারণ।

প্রথমপর্বে সম্পাদক নিজে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন; আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে তিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় পর্বটি পরিচালনা করেন টরন্টোর পরিচিতমুখ লেখক, উপস্থাপিকা প্রিয়দর্শিনী তাসমিনা খান এবং সুদর্শন উপস্থাপক মাহবুব ওসমানী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. ইখতিয়ার ওমরের উপস্থিতি, অভিভাষণ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভাকে বিশেষভাবে তাৎপর্যমণ্ডিত করেছে বললে অত্যুক্তি হবে না।  

হলরুমে সামনের সারিতে বসে অপেক্ষা করছিলাম সেই ক্ষণটির জন্য; কোলাহলের ভেতরেও আমার অনুভবে ছিল ইকবাল হাসান। মঞ্চে বিশিষ্ট অতিথিবর্গের সাথে দাঁড়িয়ে গ্রন্থের সম্পাদক যখন বলছিলেন, ‘এই বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক এবং এই টরন্টো শহরে বাংলা কবিতা ও শিল্পের বিকাশের অগ্রগণ্য ব্যক্তি ইকবাল হাসানকে’, তখন সত্যিই আমার মনে হচ্ছিল এই সভাঘরে কবি ইকবাল হাসান আছে; মনে হলো ইকবাল বেঁচে আছে কবিতার কল্পনার ভেতরে; সে টিকে আছে বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের অভিজ্ঞতা-প্রকাশের মধ্যে।

মঞ্চে আমাকে ডাকা হলো উৎসর্গ-বিষয়ক অভিব্যক্তি-মন্তব্য করার জন্য। এত মানুষের ভিড়ে, আমার প্রিয় বন্ধু-জীবনসাথী ইকবাল হাসানের প্রতি মানুষের সত্যিকারের ভালোবাসায় আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। কয়দিন আগে থেকে যা যা বলবো বলে সাজিয়ে রেখেছিলাম সবকিছু গুলিয়ে গেল মুহূর্তে। আমি আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম অন্ধকারের নিবিড় আলোয়; ইকবালের ছায়া যেন আমার সামনে এসে ভেসে বেড়াচ্ছিল পুরো হলরুম জুড়ে!

কানাডিয়ান পোয়েট লরিয়েটদের চমৎকার জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য এই প্রকাশনা উৎসবকে যে অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে, তা ছিল টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটির জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাদের আগ্রহ সত্যিই আমাদের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে। টরন্টোর চারজন পোয়েট লরিয়েট এবং কানাডার মূলধারার আরো কয়েকজন প্রখ্যাত কবি-সাহিত্যিক-অধ্যাপকের আগমন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্যে ছিল বাংলা ভাষা ও বাঙালির প্রতি মায়া; এই মমতাই তাদেরকে বাঙালির সাথে বন্ধুপ্রতীম সম্পর্ক তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। 

এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো–টরন্টোর বাইরে থেকে আসা কবি-লেখকদেরকে মঞ্চে ডেকে আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। এমন উদ্যোগ অবশ্যই ব্যতিক্রমী এবং উৎসাহ-ব্যঞ্জক। দূর-দূরান্ত থেকে লোকেরা অনুষ্ঠান-আয়োজনে যোগ দিয়ে পথের ক্লান্তি ভুলে যেতে পারে আয়োজকদের এমন মায়ায়। তারা ব্যয়বহুল ও সময়-বিনিয়োগের কষ্টগুলোও ভুলে সবার সাথে আনন্দ শেয়ার করতে পারেন। মঞ্চে আহ্বান জানানোতে তারা বিশেষভাবে সম্মানিতও বোধ করেন নিশ্চয়ই।  

প্রবাস থেকে নিজ মাতৃভাষায় এমন সুবৃহৎ বই সম্পাদনার ও প্রকাশনার কাজটি একেবারেই সহজ নয়; বিশেষ করে লেখক নির্বাচন, লেখা সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রকাশনা ও পরিবহন (কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশ থেকে বই আনা) ব্যয় বহন করা, অনুষ্ঠানের হলরুমের ভাড়া, উপহার সামগ্রী প্রদান, আলোকচিত্র ও ভিডিও ধারণ এবং সম্পাদনা, প্রচার-প্রকাশনা, অতিথিদের আপ্যায়ন–সবকিছু মিলিয়ে অনেক ঝক্কি-ঝামেলার কাজ এটি। সম্পাদকের ভালোবাসার কথা বাদ দিলেও এখানে অবশ্যই সম্পৃক্ত থাকে পৃষ্ঠপোষকদের আন্তরিকতা। এমন বিপুল ঝুঁকি সামলে নিতে মায়ার হাত প্রসারিত করেছেন টরন্টোর কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে আছেন ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট মনিষ পাল, রাজনীতিবিদ মোর্শেদ নিজাম এবং রিয়েলটর বজলুর মারুফ।

সমাজসেবকদের এমন অকৃত্রিম মমতার কারণেই বাঙালি কমিউনিটি শিল্প-সাহিত্য বিষয়ক নানান অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারছে। আয়োজনটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে এনআরবি টিভি ও সাপ্তাহিক বাংলা মেইল; এই টিভি ও পত্রিকার কর্ণধার শহিদুল ইসলাম মিন্টু সার্বক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠানের দেখ-ভাল করেছেন; এটা শুধু কর্তব্যের কারণে নয়–লেখক-কবিদের প্রতি মায়ায়ও বটে।

কানাডার প্রিয়মুখ ও স্বজন, কবি ইকবাল হাসানের অত্যন্ত স্নেহভাজন মিন্টুর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। ফটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন টরন্টোর প্রখ্যাত ক্যামেরা-কারিগর দীপক সূত্রধর। তাকে কাছে পেলে সবাই যেন নতুন করে ছবি তোলার জন্য ভিড় জমায়। দীপকের ছবির হাত খুব ভালো। 

সুন্দর-সফল আয়োজনটি ঘিরে বলার কথা অনেক। অল্প কথায় বলতে গেলে প্রায় বিচ্যুতিবিহীন এক অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ হলো কানাডা প্রবাসী বাঙালির। যদিও শেষপর্যন্ত এটিকে বাঙালি-কানাডিয়ান লেখকদের সম্মিলিত আয়োজন বলেই মনে হয়েছে। 

বইটির শিরোনামের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, সম্পাদক ৫০ কিংবা ১০০ কে প্রাধান্য না দিয়ে ৭১ সংখ্যাটিকে বেছে নিয়েছেন; এখানেও রয়েছে বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অহংকারের ছায়া! শেকড়কে ভুলে ভাষার প্রতি, সাহিত্যের প্রতি মায়ার মুখ খোলা রাখা যায় না।

গ্রন্থের উৎসর্গপত্রটি নিশ্চয়ই টরন্টো তথা কানাডার বাঙালি সাহিত্য-অভিযাত্রার ঐতিহ্যকেই নির্দেশ করে। আর, অনুষ্ঠানের দিনটি–পহেলা মে। মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের তাৎপর্য তো সবার মনে নদীর জলের ধারার মতোই সেদিন বহমান ছিল; লেখকরাও তো একপ্রকারের শ্রমজীবীই বটে।

একদিকে কবি ইকবাল হাসানের ছায়া, অন্যদিকে ভাষার প্রতি বাঙালি লেখক-কবি-সাহিত্যপ্রেমিদের মায়া–এই দুয়ে মিলে শুক্রবারের সন্ধ্যার প্রকাশনা উৎসবটি আমার জীবনের এক অনবদ্য অংশ হয়ে রয়ে গেল।

বইটি ঢাকা থেকে প্রকাশ করেছে রয়েল পাবলিকেশন্স। 

তসলিমা হাসান: কানাডার টরন্টো প্রবাসী লেখক। 
 

 

ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন
ছবি: খবরের কাগজ

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পরভো (Porvoo) শহর। এই শহরে এসে মনে হলো যেন কয়েক শতাব্দী পেছনে চলে গেছি।

আধুনিক ফিনল্যান্ডের ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনস্থল এই শহর। দেশটির দ্বিতীয় প্রাচীনতম শহর হিসেবে পরিচিত পরভো শুধু ফিনল্যান্ডেরই নয়, পুরো নর্ডিক অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

সম্প্রতি শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। শহরে প্রবেশের পরই চোখে পড়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত লাল রঙের কাঠের গুদামঘরগুলো। কয়েকশ বছর আগে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এসব ভবন আজ পোরভোর পরিচয় বহন করছে। পর্যটকদের ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে এই দৃশ্য।

পনরভোর পুরনো শহর বা ‘ওল্ড টাউন’-এ হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো যেন কোনো রূপকথার শহরে প্রবেশ করেছি। সরু পাথরের রাস্তা, শত শত বছরের পুরনো কাঠের বাড়ি, ছোট ছোট ক্যাফে, শিল্পকর্মের দোকান এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পুরো এলাকাকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়েছে। শহরের প্রতিটি গলি যেন ইতিহাসের এক একটি অধ্যায়।

শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পরভো ক্যাথেড্রাল। ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত এই গির্জাটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত গির্জার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো শহর এবং নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানে আসা পর্যটকদের অনেকেই কিছু সময় নীরবে বসে শহরের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করেন।

পরভো নদীর তীরও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গ্রীষ্মকালে নদীর পাশে হাঁটা, নৌভ্রমণ কিংবা খোলা আকাশের নিচে বসে কফি পান করার আনন্দই আলাদা। নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

শহরটি শুধু ইতিহাসের জন্য নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির জন্যও সুপরিচিত। বিখ্যাত ফিনিশ কবি জোহান লুডভিগ রুনেবার্গের স্মৃতি বহন করছে এই শহর। তার বাড়ি বর্তমানে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্ট গ্যালারি ও হস্তশিল্পের দোকানে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

পরভোর আরেকটি আকর্ষণ হলো এর ক্যাফে সংস্কৃতি। শহরের ছোট ছোট ক্যাফেগুলোতে স্থানীয় কফি, পেস্ট্রি ও ঐতিহ্যবাহী ফিনিশ খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পুরনো শহরের পরিবেশে বসে এক কাপ গরম কফি যেন ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তবে পরভোকে আলাদা করে মনে রাখার কারণ হলো এর প্রশান্ত পরিবেশ, ঐতিহাসিক আবহ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিখুঁত সমন্বয়। যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন, বিশেষ করে ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য পরভো অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান।

হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটের যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় এই শহরে। তাই ফিনল্যান্ডে আসা কোনো পর্যটকের ভ্রমণ তালিকায় পরভো থাকা উচিত। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ইউরোপের সৌন্দর্য অনুভব করতে চাইলে পরভো হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

পরভো শুধু একটি শহর নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

জামান সরকার/আমান

অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার ওয়েরিবি ম্যাসনিক সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন- অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি এ. এস. এম. তৌহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ হায়দার আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি ভিক্টোরিয়ার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরিফ খান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর শরীফ শিহান দোয়া সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ হাফেজ মাহমুদ যুগ্ম আহ্বায়ক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া।

আলোচনা সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ তেলাল খান পল, সদস্য মোঃ বদিউজ্জামান শিপন, সদস্য মোঃ রাশিদুল আমিন, সদস্য মোহাম্মদ সিমন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক মোঃ রহমত উল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক আরিফ খান।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান, জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনে তার ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

এসএন/বিজ্ঞপ্তি

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত
নিহত হারুন ও রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

‎সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার দুই প্রবাসী যুবক হারুন ও রাসেল নিহত হয়েছেন। তারা প্রতিবেশী ছিলেন।

‎সোমবার (১ জুন) দুর্ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন হারুন ও রাসেল। রবিবার (৩১ মে) রাতে তারা রাজধানী রিয়াদের একটি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি উটের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তারা মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

‎নিহত হারুনের বাবা তছলিম উদ্দীন ছৈয়াল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিদেশে গিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল। আজ সে লাশ হয়ে ফিরবে এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

‎এলাকাবাসী জানান, হারুন ও রাসেল ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, প্রবাসী দুই যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা ও আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

‎তিনি আরও জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পরিবারের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

রফিকুল ইসলাম/নাঈম

গ্রীষ্মকালের ফিনল্যান্ডে সেরা গন্তব্য স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
গ্রীষ্মকালের ফিনল্যান্ডে সেরা গন্তব্য স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ও তুষারাচ্ছন্ন শীতের পর যখন ফিনল্যান্ডে গ্রীষ্মের আগমন ঘটে, নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় পুরো দেশ। রাতের অন্ধকার সরে গিয়ে দিনের আলো দীর্ঘ হয়, প্রকৃতি সেজে ওঠে সবুজে, আর ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যায় দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।

এ সময় রাজধানী হেলসিংকির উপকূলে অবস্থিত স্যোমেনলিন্না দুর্গ দ্বীপ হয়ে ওঠে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ইতিহাস, প্রকৃতি, স্থাপত্য ও সমুদ্রের এক অনন্য সমন্বয় এই স্যোমেনলিন্না। এটি শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং ফিনল্যান্ডের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী।

তিন শতাব্দীর ইতিহাসের ধারক

স্যোমেনলিন্না দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৭৪৮ সালে, যখন ফিনল্যান্ড ছিল সুইডেনের অংশ। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির মোকাবিলায় বাল্টিক সাগর উপকূল রক্ষার উদ্দেশ্যে এই বিশাল সমুদ্র দুর্গ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় দুর্গটির নাম ছিল “Sveaborg”।

সুইডিশ সামরিক প্রকৌশলী অগাস্টিন এরেন্সভার্ডের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা এই দুর্গে নির্মিত হয় শক্তিশালী প্রাচীর, কামান ঘাঁটি, সামরিক ব্যারাক, গুদামঘর এবং গোপন টানেল। ১৮০৮ সালে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অধীনে গেলে দুর্গটিও রুশ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন সামরিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এর কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ১৯৭৩ সালে দুর্গটি সামরিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং ১৯৯১ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ছয় দ্বীপের অপূর্ব সমাহার

স্যোমেনলিন্না মূলত ছয়টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি বিস্তীর্ণ দুর্গ এলাকা। প্রায় ৮০০ বাসিন্দা এখনও এখানে বসবাস করেন। দ্বীপজুড়ে রয়েছে শত শত ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন কামান, সুড়ঙ্গপথ, পাথরের দেয়াল এবং সমুদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এখানে হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে যেন ইতিহাসের কোনো অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। একদিকে শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্য, অন্যদিকে নীল সমুদ্র ও সবুজ প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

প্রতি বছর লাখো পর্যটকের পদচারণা

স্যোমেনলিন্না ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর অন্যতম। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী এখানে আসেন। গ্রীষ্মকালে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ছাড়াও জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন থেকে হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করেন। কেউ ইতিহাস জানতে, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে, আবার কেউ ছবি তুলতে আসেন।

দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান

স্যোমেনলিন্না মিউজিয়াম

এখানে দুর্গের প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দুর্গের ইতিহাস জানতে পারেন।

কিংস গেট

দ্বীপের অন্যতম বিখ্যাত নিদর্শন। সুইডেনের রাজা অ্যাডলফ ফ্রেডরিকের আগমনের স্মরণে এটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি পর্যটকদের ছবি তোলার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান।

সাবমেরিন ভেসিক্কো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ফিনল্যান্ডের ঐতিহাসিক সাবমেরিন। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।

বাষ্টিয়ন জ্যান্ডার

খোলা আকাশের নিচে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মঞ্চ, যেখানে গ্রীষ্মকালে নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গোপন টানেল ও কামানঘাঁটি

দুর্গের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনা যুদ্ধকালীন কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাক্ষ্য বহন করে।

গ্রীষ্মকালীন উৎসবের প্রাণকেন্দ্র

গ্রীষ্মকালে স্যোমেনলিন্না প্রাণ ফিরে পায় নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে। এখানে অনুষ্ঠিত হয়-

• উন্মুক্ত নাট্য মঞ্চ
• লাইভ কনসার্ট ও জ্যাজ অনুষ্ঠান
• শিল্প ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী
• শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
• স্থানীয় হস্তশিল্প মেলা

যেভাবে যাবেন

হেলসিংকির কেন্দ্রস্থল Kauppatori (Market Square) থেকে নিয়মিত ফেরি সেবা পরিচালিত হয়। যাত্রা সময় মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। একই HSL পরিবহন টিকিট ব্যবহার করেই ফেরিতে ভ্রমণ করা যায়।

ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ

• আরামদায়ক জুতা পরুন
• একটি পুরো দিন হাতে রাখুন
• আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক সঙ্গে রাখুন
• ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না
• গাইডেড ট্যুরে অংশ নিলে অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে

স্যোমেনলিন্না শুধু একটি দুর্গ নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে সমুদ্রের গর্জন, শতাব্দীপ্রাচীন প্রাচীর এবং প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে এক অনন্য পরিবেশ।

আমান/

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির আলোচনা সভা

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির আলোচনা সভা
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টায় ভানতার Subway Martinlaakso, Kivivuorentie 4, 01620 Vantaa, Finland-এ এ অনুষ্ঠান হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দূরদর্শী নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। 

একই সঙ্গে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (৩০ মে) ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি এবং সাধারণ সম্পাদক জামান সরকার এক যৌথ বিবৃতিতে ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ফিনল্যান্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মবিন মোহাম্মদ, সহসভাপতি তাপস খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুল গাজী ও মো. রবিউল ইসলাম।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রবাসে জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও সুদৃঢ় করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফিনল্যান্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষ্যে সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

অমিয়/