শুরু হয়েছে নতুন বছর। বিগত বছরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বছরে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। তবে নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনায় ক্যারিয়ারে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার ভাবনা থাকলেও এমন কিছু বিষয় থাকে যা করা আসলেই কঠিন। তবে যত কঠিনই হোক না কেন পেছনে পড়ে না থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। নতুন বছরে ক্যারিয়ারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোযোগ বাড়ান
আপনি যদি নতুন বছরে ক্যারিয়ারকে ভিন্ন উচ্চতায় এগিয়ে নিতে চান তাহলে আপনাকে আগের চেয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোযোগ বাড়াতে হবে। কারণ, এখন নতুন বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। লিংকডইন বা জিংয়ের মতো পেশাদারদের সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সাইটগুলোয় শক্তিশালী উপস্থিতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। তাই ক্যারিয়ারকে নতুন করে সাজাতে হলে পেশাদারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় দিতে হবে।
আগে অনেক চাকরির জন্যই যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল এবং এজন্য তারা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাছাইয়ের দায়িত্ব দিত। এখন চাকরির বাজার উল্টো, তাই ক্যারিয়ারে সাফল্যের পালক যুক্ত করতে হলে এ ধরনের নেটওয়ার্কগুলোতে যুক্ত থাকা এবং নিজেকে দৃশ্যমান রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।
দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন
বলা হয় শুধু দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই যেকোনো কাজের গতিপথটাই পাল্টে যায়। দৃষ্টিভঙ্গি হলো ক্যামেরার একটি লেন্স, যার মাধ্যমে আপনি নিজেকে দেখতে পারেন এবং আপনার ক্যারিয়ার ও বিশ্বকে দেখার ক্ষমতা রাখেন। ভেবে দেখুন তো, আপনি যদি ‘করতে হবে’ পরিবর্তে ‘করতে পারি’ বলার অভ্যাস করেন কেমন হবে? ‘করতে হবে’ বলতে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা বোঝায় আর ‘করতে পারি’ মানে যোগ্যতা বোঝায়। কাজেই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করুন। দেখবেন যেকোনো কাজেরই সহজ সমাধান হয়ে গেছে।
আত্মসচেতন হোন
আপনি যত আত্মসচেতন হবেন ততই ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবেন। আত্মসচেতন ব্যক্তি যেমন নিজের চাহিদা, দক্ষতা সম্পর্কে সব সময় সৎ থাকেন ঠিক তেমনি নিজের শক্তি, দুর্বলতা, চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস, প্রেরণা এবং আবেগ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানেন। কোন বিষয় আপনাকে অন্যদের থেকে স্বকীয়তা দান করে এবং কোন অনন্য প্রতিভা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পরিবেশে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন আত্মসচেতনতার মাধ্যমে তা জানা যায়। এ ছাড়া নিজের দুর্বলতার দিক জানা এবং সেগুলো দূরীকরণে কাজ করার উদ্যম পাওয়া যায়।
ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলা ধরে রাখুন
ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলা নেতৃত্বদানের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করে তোলে। কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারলে যেকোনো পেশাই মুখ থুবড়ে পড়ে। নতুন বছরে পুরোনো দায়িত্বকে আরও বেগবান করে সামনে এগিয়ে নিতে হলে কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি। ধারাবাহিকতা অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগ স্থাপন করাকে সহজ করে তোলে। এর মাধ্যমে অন্যরা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে পারবে, আপনি উপলব্ধি না করলেও আপনার সম্পর্কে বার্তা পৌঁছে যাবে অন্যের কাছে।
অন্যদিকে শৃঙ্খলা না থাকলে ব্যক্তির মূল্য ক্রমেই হ্রাস হয়। তাই কাজের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। জীবনের একটা অংশ হচ্ছে ক্যারিয়ার। ব্যক্তিজীবনে যেমন শৃঙ্খলা থাকা জরুরি ঠিক তেমনি কর্মজীবনকেও শৃঙ্খলায় আবদ্ধ রাখা উচিত। বিশৃঙ্খল ক্যারিয়ারে কখনো সাফল্য ধরা দেয় না।
অতীতের ভয়কে জয় করুন
শুধু ভয়ের কারণে হয়তো পুরোনো বছরে ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। নতুন বছরে এ ভয়কে ঝেড়ে ফেলুন। ভয় বেশ শক্তিশালী আবেগ কিন্তু ভয়ের কারণে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে জীবনের অনেক কিছু অপূর্ণ থেকে যায়। কর্মজীবনের উদ্বেগ, সন্দেহ এবং ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করাই হলো একমাত্র সমাধান। টাকায় যেমন টাকা আনে, তেমনি একটি কাজ আরও অনেক কাজের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। আপনি যখন সচেতন হয়ে কোনো পদক্ষেপকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করবেন, সেই পদক্ষেপ আপনাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে।
অন্যরা আপনার সম্পর্কে কী ভাববে তা চিন্তা করার চেয়ে আপনি কোন বিষয় ভালো পারেন সে বিষয়ে নজর দিন এবং বাকি সবকিছু ভুলে যান। মনে রাখবেন, ভয়ের জন্য নিজেকে থামিয়ে না রেখে, লড়াই করে ভয়কে জয় করতে হবে।
তারেক/