বাংলাদেশের গানের ভুবনের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মো. রফিকুল আলম। ১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জের বিনোদপুরে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার স্কুলজীবন শুরু হয় রাজশাহীর ভোলানাথ বিশেশ্বর হিন্দু একাডেমিতে। এরপর রাজশাহী গভর্নমেন্ট কলেজ পেরিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিটিক্যাল সাইন্সে অনার্স ও ১৯৭২ সালে একই বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের দেল্ফট ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। গানে রফিকুল আলমের হাতেখড়ি অনুপ ভট্টাচার্য্যর কাছে। পরে তিনি তার ভাই ডা. সারোয়ার জাহান, পণ্ডিত হরিপদ দাস, আব্দুল জব্বার খান, ওস্তাদ শগির উদ্দিন খানের কাছেও তালিম নেন। রবীন্দ্র সংগীতে তিনি তালিম নিয়েছিলেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজিত রায়ের কাছে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, গানে নিজেকে পুরোপুরি শিক্ষিত করে ঠিকঠাক ভাবে গড়ে তুলেই গানের ভুবনে রফিকুল আলমের পথচলা শুরু হয়।
সিনেমার গানে রফিকুল আলমের বরেণ্য যাত্রা শুরু হয় দেশের কিংবদন্তি সুরকার সত্য সাহার হাত ধরে। নায়করাজ রাজ্জাক অভিনীত ‘অতিথি’ সিনেমায় তিনি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘একটু যদি আজ’ গানটি গেয়ে সেই সময় বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। এরপর বহু সিনেমায় তিনি গান গেয়েছেন। আধুনিক গান গেয়েও তেনি পেয়েছেন শ্রোতাপ্রিয়তা।
এদিকে আজ রফিকুল আলমের জন্মদিন নিয়ে তেমন বিশেষ কোনো পরিকল্পনা বা উচ্ছ্বাস নেই তার। জন্মদিন প্রসঙ্গে মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘জন্মদিন এলে এমনিতে বেশ ভালোলাগে, সবাই ফোন করে, শুভেচ্ছা জানায়। একটা অন্যরকম সময় পার করি। আবার এটা ভেবেও খারাপ লাগে যে জীবন থেকে আরও একটা বছর চলে গেল। তবে সবমিলিয়ে ভালোই লাগে। দোয়া চাই সবার কাছে যেন আল্লাহ সুস্থ রাখেন ভালো রাখেন।’
বাংলাদেশের গান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আশাবাদী, তরুণদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি বিশ্বাস করি তারা আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে তাদের গানের সঙ্গে আরও ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাদের নৈপুণ্যের প্রতি আরও নিবেদিত হতে হবে। তাদের সংগীতের সঙ্গে শীর্ষে আরোহণের জন্য তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। তাড়াহুড়ো করলে গান থেকে টাকা হয়তো অনেক আসে, কিন্তু সংগীত হবে না।’
প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আবিদা সুলতানা তার জীবনসঙ্গী। তাদের দাম্পত্য জীবন তারকাদের কাছে আদর্শ। তাদের একমাত্র পুত্র সন্তান ফারশিদ আলমও গানের সঙ্গে যুক্ত। ২০০টির বেশি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রফিকুল। তার আটটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্র, আরেকটি লন্ডন থেকে। তিনি বাংলা, ইটালিয়ান, ফ্রেঞ্চ, ব্রাজিলিয়ান, মালদিভিয়ান, এরাবিক, উজবিক, তেলুগু, গুজরাতি, নেপালিজ, জাপানিজ, চাইনিজসহ ২৮টির বেশি ভাষায় সংগীত পরিবেশন করেছেন।
রফিকুল আলম জানান, তার নিজের কাছেই সংরক্ষিত আছে দেশাত্মবোধক, আধুনিকসহ বিভিন্ন প্রমোশনাল গান দুই হাজারেরও বেশি। তবে তিনি কোনো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি। পাননি একুশে পদক বা স্বাধীনতা পদক। এই নিয়ে তার কোনো আক্ষেপও নেই।
হাসান