সম্প্রতি স্টেজে গান গাওয়া ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক তাহসান খান। ২৫ বছরের সংগীত জীবনের বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফরে আছেন। সেখানেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এটাই আমার লাস্ট কনসার্ট। আস্তে আস্তে মিউজিক ক্যারিয়ারটাও গুটিয়ে ফেলব। মেয়ে বড় হচ্ছে, এখন কি দাঁড়ি রেখে স্টেজে দাঁড়িয়ে এমন লাফালাফি করতে ভালো লাগে?’ এদিকে তার এ ঘোষার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন আলোচিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন তসলিমা।
তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক পোস্ট এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো: দাড়ি রেখে বুঝি স্টেজে গান গাওয়া নিষেধ? মেয়ে বড় হলে বুঝি গান গাওয়া নিষেধ? লাফালাফি করতে ইচ্ছে না হলে লাফালাফি না করেও গান গাওয়া যায়। আমি তো জানি একমাত্র গান গাইতে না পারলেই স্টেজে গান গাওয়া উচিত নয়। তাহসান তো এখনও গান গাইতে পারেন। তাহসানের দাড়ি কি ইসলামী দাড়ি? ইসলামী দাড়ি হলে না হয় বুঝতাম ইসলাম ব্যবসায়ীদের ফতোয়া মেনে গান ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। দেশে যখন গান বাজনা বন্ধ করার জন্য জিহাদি জঙ্গিরা উঠে পড়ে লেগেছে, তিনি তখন গান বাজনার পক্ষে না দাঁড়িয়ে গান বাজনা ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে কথা বলছেন। তিনি কি মনে করেন যে কণ্ঠশিল্পীরা দাড়ি রাখেন, যাঁদের মেয়ে বড় হয়, তাঁদের গান বাজনা বন্ধ করা উচিত? তাঁদের আর স্টেজে গান গাওয়া উচিত নয়? তাহলে তিনি তো জিহাদিদের মতোই কথা বললেন, যে জিহাদিরা বাউল উৎসব বন্ধ করছে, লালন মেলা বন্ধ করছে, স্কুলে গানের শিক্ষক বন্ধ করছে, গান বাজনার মাজার পুড়িয়ে দিচ্ছে! তিনি কি গান বাজনার বিরুদ্ধে ওদের জিহাদ ঘোষণায় সায় দিয়েছেন? তা না হলে তাঁর কোনও প্রতিবাদ দেখিনি কেন?
এর আগেও তাহসানের বিয়ে নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন আলোচিত এ লেখিকা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন তসলিমা। তিনি ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকেরও বেশি সময় বসবাস করার পর ২০০৪ সালে ভারতে যান। কিন্তু ২০০৮ সালে তাকে নির্বাসিত করা হয়। এরপর তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ভারতে অজ্ঞাতবাসে অবস্থানের সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে বসবাস করছেন।
মেহেদী/


.jpg)