শীতের মৌসুমে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতি সপ্তাহে দাওয়াত লেগেই থাকে। উৎসবে নারীরা মেকআপ করে যেতেই পছন্দ করেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে তৈরি হতে ফ্যাশনেবল পোশাক বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু মেকআপ যদি ঠিকঠাক না হয়, তবে দামি পোশাকও ফিকে পড়ে। শীতে গরমকালের মতো ঘাম হয় না দেখে অনেকেই কোনো কিছু চিন্তাভাবনা না করে ইচ্ছামতো মেকআপ করেন। কিন্তু এ সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় মুখের শুকনা টান ধরা অংশগুলোয় ফাউন্ডেশন জমে গিয়ে পুরো লুকটাই নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া আরও অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মেকআপের আগে ত্বকের প্রস্তুতি
সাজের আগে ত্বককে প্রস্তুত করতে হবে। দিনে বা রাতে যখনই মেকআপ করবেন, ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ঘরোয়া উপাদান দিয়ে স্ক্রাব করে নিতে পারেন। ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার হবে। এরপর ফেস অয়েল মেখে নিন। শীতকালের শুষ্ক ত্বককে মেকআপের উপযোগী করতে ক্লিনজার-টোনার লাগিয়ে নিন। কিছু সময় অপেক্ষা করে এরপর মেকআপ শুরু করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেছে নেওয়া উচিত তেলবিহীন ফেসওয়াশ আর স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ ক্লিনজার। কিন্তু সব ধরনের ত্বকের জন্যই বেছে নিতে হবে ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ টোনার। কারণ, মুখ পরিষ্কার করার পর সব ধরনের ত্বকেই আর্দ্রতার প্রয়োজন পড়ে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
মেকআপ শুরুর আগে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। শুষ্ক ত্বকে অয়েল বেসড ময়েশ্চারাইজার, তৈলাক্ত ত্বকে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। মিশ্র ত্বকের জন্য ত্বকের যে অংশটিতে তেল থাকে সেই অংশটিতে অয়েল ফ্রি আর বাকি অংশে অয়েল বেসড ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এ ছাড়া দিনের মেকআপে ময়েশ্চারাইজারের পর সানস্ক্রিন মাখতে হবে। এই সময় এসপিএফ ৫০ বা ৩০ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
.jpg)
প্রাইমারের ব্যবহার
মেকআপ হালকা বা ভারী যেমনই হোক না কেন, প্রাইমার লাগাতেই হবে। মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী করতে এর বিকল্প নেই। এ ছাড়া রোমকূপ ছোট করা, ত্বকের অতিরিক্ত তেল বা শুষ্কতা কমানো, বয়সের ছাপ কমাতে প্রাইমার ব্যবহার করা হয়। এমন আবহাওয়ায় ময়েশ্চারাইজিং প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত।
কনসিলার
ফাউন্ডেশনের পর ত্বকের দাগছোপ ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করতে হয়। বাজারে অনেক ধরনের কনসিলার পাওয়া যায়। শীতে কনসিলারও ফাউন্ডেশনের মতো ময়েশ্চারাইজিং বা হাইড্রেটিং হতে হবে।
ফাউন্ডেশন
মেকআপের অপরিহার্য উপাদান হলো ফাউন্ডেশন। ত্বকের কালার টোন বুঝে সঠিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। ফাউন্ডেশনের গায়ে স্কিন টোন অনুযায়ী নম্বর দেওয়া আছে। তা দেখেই ফাউন্ডেশন নির্বাচন করুন। শীতকালের জন্য সবচেয়ে ভালো ডুয়েল ফিনিশ ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন পরিমাণে লাগে খুবই অল্প, কিন্তু সব ধরনের ত্বকেই খুব ভালোভাবে মিশে যায়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন তেলবিহীন ফাউন্ডেশন, তেমনি স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া মেকআপ লুকের আরেকটি বিষয় হলো আপনার ত্বকের শ্রেষ্ঠ রূপটি বের করে আনা। এ কারণে ফাউন্ডেশন লাগালে খুবই হালকা ধাঁচের ফাউন্ডেশন লাগান, যেটা ত্বক ঢেকে ফেলবে না। ফাউন্ডেশনের বদলে বিবি ক্রিম বা সিসি ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
পাউডার
ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পর এটিকে ত্বকে স্থায়ী করতে ব্যবহার করা হয় পাউডার। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের ত্বকেই ব্যানানা পাউডার বা হোয়াইট টোন পাউডার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পাউডার ব্যবহারের পর ত্বক বেশি শুষ্ক দেখালে সেটিং স্প্রে দিয়ে পাউডার ও ফাউন্ডেশনকে সেট করে নিতে হবে।
চোখের সাজ
পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চোখের পাতায় হালকা পিচ কালারের একটি আইশ্যাডো দিয়ে চোখের বেস তৈরি করুন। এর ওপরই অ্যাপ্লাই করুন গোল্ডেন আইশ্যাডো। এবার চোখের আউটার কর্নারে একটু ডিপ কফি বা আপনার পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে একটি আইশ্যাডো কালার দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। এ ছাড়া চোখের সাজের ক্ষেত্রে ম্যাট ফিনিশ আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। চোখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে চোখের পাপড়িতে ব্যবহার করতে পারেন ভলিউম মাসকারা। আজকাল চোখের সাজে গ্লসি আইশ্যাডো বেশ জনপ্রিয়। এর ব্যবহারে চোখে চলে আসবে ভিন্নতা।
ঠোঁটের সাজ
শীতে ব্যবহার করুন গ্লসি লিপস্টিক। কারণ, এতে ময়েশ্চারাইজিং বা হাইড্রেটিং উপাদান থাকে, যা ঠোঁটকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। এ সময় ঠোঁটে আর্দ্রতাযুক্ত লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। এরপর ব্যবহার করতে পারেন গ্লসি লিপস্টিক। কারণ, চোখের মতোই ঠোঁটের সাজেও চলছে গ্লসি লুকের আধিপত্য।
ব্লাশঅন
শীতে আবহাওয়ার কারণে অনেকের ত্বক বেশ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাই ত্বকে প্রাকৃতিক আভা আনতে গোলাপি বা পিচ শেডের ব্লাশঅন লাগাতে পারেন। তবে সেটা ক্রিম বা লিকুইড হতে হবে। এ সময় যতটা সম্ভব পাউডার ভিত্তিক ব্লাশঅন এড়িয়ে চলুন। কারণ, এ ধরনের পণ্য ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে দিতে পারে।
কলি