নতুন বাসায় ওঠা শুধু ঠিকানা বদল নয়- এটি এক নতুন জীবনযাত্রার সূচনা। তাই বাসা সাজানোর সময় প্রয়োজন পরিকল্পনা, রুচি ও সৃজনশীলতার সঠিক সমন্বয়। নতুন বাসাকে নিজের মতো করে সাজাতে চাইলে কয়েকটি বিষয় শুরুতেই মাথায় রাখা জরুরি- যা আপনার প্রতিদিনের জীবনকে করবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়, উষ্ণ এবং সুন্দর। লিখেছেন দীনা মরিয়ম
বাজেট দিয়ে শুরু: নতুন একটা বাসায় উঠতে গেলে প্রথমেই বড় কিছু খরচের ধাক্কা থাকে। এরপর যখন সাজানোর ব্যাপার আসে তখন আরও খরচের বিষয় আসে। অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করে দিলে দেখা যায় মাঝপথে বসে ভাবতে হচ্ছে। তাই শুরুতেই এই খাতে আপনার বাজেট নিশ্চিত করুন।
ঘরের রং এবং পলিশ: রঙের প্রভাব কিন্তু মনের ওপর প্রভাব ফেলে তাই রং সিলেকশন ঠিকঠাক হওয়া চাই। বাসায় ভারী ভারী ফার্নিচার তুলে ফেলার পর রং বা পলিশিং করার কাজ সহজ হয় না। তাই শুরুতেই রঙের কাজটি সেরে ফেলুন। ডিস্টেম্পার করানো হবে নাকি প্লাস্টিক ইমালশেম, ম্যাট ফিনিশিং নাকি লাক্সারি সিল্ক প্রথমে সিলেক্ট করুন তারপর নিজের মনের মতো রং বাছাই করুন। পুরো বাসা রাঙিয়ে নিন আপনার পছন্দের রঙে, ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ঘরে আলাদা আলাদা রং করাতে পারেন কিংবা নতুন ডিজাইনের মাল্টিকালার টাস্কিং।
আসবাবপত্র: ঘর সাজাতে আসবাবপত্র একই সঙ্গে প্রয়োজন এবং মনের খোরাক। আপনি কি ঘরটাকে ট্রেডিশনাল লুক দিতে চান নাকি মডার্ন সেটা অনেকটাই নির্ভর করে আসবাবের ওপর। এই খাতে একটা মোটা অঙ্ক দখল হয়ে যায় তাই প্রয়োজনটাকে মাথায় রেখে আসবাবের আয়োজন করাটাই শ্রেয়। বাসা বড়-ছোট যাই হোক সেখানে বেডরুম, ড্রয়িং, ডাইনিং, কিচেন, বাথরুম বেসিক লে-আউট। জায়গা এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে মূল আসবাবগুলোর ব্যবস্থা প্রথমে করে নিতে হবে।
লাইফস্টাইল: আপনার জীবনযাপনের নিজস্ব ধরনের ওপর নির্ভর করবে ঘরের সাজ। আপনার যদি রান্নার শখ থাকে কিংবা প্রায়ই বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সমাগম হয় তাহলে ডাইনিং এবং কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সগুলোর দিকে গুরুত্ব দেবেন। যদি প্রায়ই অফিসের কলিগ, ব্যবসায়ী বন্ধুবান্ধবের সমাগম বা বন্ধুদের ক্যাজুয়েল গেট টুগেদার হয়ে থাকে তাহলে ড্রয়িংরুমের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করুন। কীভাবে স্পেসের সর্বাধিক এবং কমফোর্টেবল ব্যবহার করা যায়, লাইটিং, মিউজিক সিস্টেম ইত্যাদি কীভাবে সেট করলে ভালো হয়। আবার পড়ালেখার গুরুত্ব যদি বেশি হয় তাহলে স্টাডিপ্লেসকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ব্যক্তিগত রুচি পছন্দ: ঘর আপনার তাই পছন্দও আপনারই হওয়া উচিত অর্থাৎ যারা ঘরে থাকবেন তাদের রুচিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ঘরে যখন বেশ কয়েকজন মেম্বার থাকবেন তাদের সবার অভ্যাস, প্রফেশন ও পছন্দকে সমন্বয় করে ঘর সাজানো উচিত। আপনার ড্রয়িংরুমে অ্যাকুরিয়াম রাখবেন নাকি ঝুলবারান্দায় লাভবার্ড, এন্ট্রান্সে এরিকা পাম রাখবেন না পানির ফোয়ারা তার ঘরের সদস্যদের মতানৈকের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
লোকেশন: আপনার নতুন বাসাটি কেমন এলাকায় সেটার ওপর ঘরের সাজ অনেক সময় নির্ভর করে। ধরুন যদি রাস্তার আশপাশের বিল্ডিং হয় তাহলে কিছু বিশেষ সতর্কতা এবং সাবধানতারও ব্যাপার মাথায় রাখতে হয়। যদি কোনো শান্ত নির্জন আবাসিক এলাকার গৃহসজ্জায় কিছু ভিন্নতা আছে, যা প্রয়োজন ও প্রায়োরিটির ভিত্তিতে করে নিতে হয়। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক আভিজাত্যকেও মাথায় রাখতে হয় অনেক সময়।
অন্দর সজ্জায় প্রকৃতি: আজকাল ইন্টেরিয়রে বায়োফিলিক ডিজাইনের বেশ প্রচলন হয়েছে। ইচ্ছে করলে আলো হাওয়ার সুষম বিন্যাসের মাধ্যমে এবং প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে ঘরের ভেতরে আহ্বান করতে পারেন প্রকৃতির নান্দনিকতা।
সদস্যদের স্বাস্থ্য: পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের কথাও মাথায় রাখতে হবে। যদি পরিবারে কোনো বয়োবৃদ্ধ বা অসুস্থ ব্যক্তি থাকেন তার শুশ্রূষার সুবিধার্থে কিছু কিছু উপকরণ ঘরে রাখতে হয়। আবার শিশু থাকলে তার বেড়ে ওঠার জন্য পরিবেশ যেন সহজ সাবলীল হয়, তারা যেন নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারে সেদিকেও নজর রাখতে হয়।
/রোদসী