[ত্রয়োদশ পর্ব]
প্রিয় শিক্ষার্থী এবং সন্তানেরা,
-বাংলাদেশে আমি এখন সেই নতুন নেতৃত্বের অস্তিত্ব অনুভব করি, ঢাকা শহরের উত্তরে উত্তরা বনানী এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আর দক্ষিণে যাত্রাবাড়ী চিটাগাং রোড এলাকায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে। ভৌগোলিকভাবে ঢাকার এই দুই প্রবেশ পথ যথাক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা অধ্যুষিত। অভ্যুত্থান যখন ঢাকা শহরের ভেতরে আন্দোলনকারী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শেষ করে ফেলবে, তখন উত্তর এবং দক্ষিণ থেকে নতুনদের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা এগিয়ে আসবে আর তাদের পেছনে থাকবে এতদিন ধরে রাজপথে নামার অপেক্ষায় থাকা জনগণ।
-এখানে একটি জিনিস অবশ্যই বলে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে খালি ঢাকা শহরে আন্দোলন জমিয়ে রাখা আর দেশব্যাপী জনতাকে মাঠে নিয়ে আসার দায়িত্বটি এক্ষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে নেবে; কারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ... তাদের এতদিন ধরে চলে আসা সংগ্রাম এখন এক রাতে এসে মিলে যাবে।
-বলাই বাহুল্য, স্থান-কাল-পাত্রের পরিবর্তনের মতো বিপ্লবের ধরনও এখন আর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থাকবে না। এটি হবে অভ্যুত্থান।
-এ সময় অনেক কিছু নিয়মের নিগড়ে বন্দি থাকবে না। দেশি বিদেশি স্ট্যাবিলাইজিং শক্তিগুলো হয়তো এগিয়ে আসবে অভ্যুত্থান আর অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে। বিপ্লবীদের এ সময় কিছুই না করে অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রবিন্যাসে মনোনিবেশ করা জরুরি, তবে সে আলোচনা আজকে নাইবা করলাম।
কখন আলোচনা শেষ হলো, কখন হলের বাইরে চলে এসেছে টেরই পায়নি রুকু।
‘তুমি সামনে হেঁটে যেতে থাক, পেছনে তাকিয় না। আমি যা বলি, মন দিয়ে শোন।
তাকে হলের মধ্যে খুঁজে পায়নি রুকু। এখন তার কণ্ঠ শুনে আনন্দিত এবং একই সঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল রুকু। নিশ্চয়ই কোনো বিপদ হয়েছে। নইলে সামনে এসে কথা বলবে না কেন?’
-‘ওরা আমাকে ফলো করছে, তবে ধরতে পারবে না। স্যারের কথামতো আমরা ঢাকার ভেতরে বাইরে আসা যাওয়ার মধ্যে থেকে আন্দোলন সংগঠিত করব। ওরা আমাকে ফলো করতে থাক। তোমাকে আগস্ট মাসে বড় দায়িত্ব দেওয়া হবে, আপাতত আগামী পরশু বেলা ৩টায় কাচপুর ব্রিজের নিচে গাঙচিল নামক বোটে চড়ে মাঝিকে বলবে, তোমাকে যেন তেঁতুলঝরা গ্রামে নিয়ে যায়। বিদায়।’
মুখের কথার নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদায় বলতে পারল না রুকু। ফিরে দেখল সে নেই। ইতস্তত হেঁটে যাওয়া জনসমুদ্রে একাকী দাঁড়িয়ে রইল সে। তারপর মনে মনে বলল, বিদায়।
বারো
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। প্রতিদিন ঢাকা আর ঢাকার বাইরের রাজপথগুলো যুদ্ধের মাঠ হয়ে উঠছে। প্রতিরাতে সারা দেশের অসংখ্য ভিডিও রিপোর্টে ভরে উঠছে গোয়েন্দা দপ্তর। রাতভর তারা খুঁজে ‘দুষ্কৃতিকারীদের’ কিন্তু খুঁজে পায় না কাউকে।
তবে তাদের অফিসে চোখ রাখলেই বোঝা যায় দেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। আর এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সাহায্য করে চলছে একটি বন্ধু দেশের গোয়েন্দা প্রবর আর তার সাগরেদরা।
সারা দিনের জমা হওয়া লাইভ ভিডিওগুলো তারা অণুবীক্ষণ যন্ত্রে চোখ রাখা বিজ্ঞানীর একনিষ্ঠতায় দেখে যায়। তাদের লক্ষ্য, সরাসরি সন্ত্রাসে লিপ্ত কোনো যুবক বা যুবতী। কিন্তু দিকে দিকে ঘটনা ঘটছে, বোমা ফুটছে, আগুন জ্বলছে অথচ কে বা কারা ঘটাচ্ছে সেই দিশা কোথাও নেই।
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা। কোন এলাকা ভিডিও দেখে বোঝা মুশকিল। কিন্তু তা পরে বের করা যাবে। গোয়েন্দা বাবু দেখেন, রাস্তায় বাস, মোটরসাইকেলের অভাব নেই। এমনকি স্থানে স্থানে ট্রাফিকজ্যাম দেখা যাচ্ছে। জায়গায় গায়গায় বিপ্লবীরা টায়ার জ্বালিয়ে গেছেন। তাদের ধোয়া ওঠা অবশেষ ঘিরে মহল্লার কাকেরা জড়ো হয়েছে। একটি মেট্রোরেল প্রচণ্ড শব্দ করে চলে গেল।
আনাড়ি ভিডিও গ্রাফার চলে যাওয়া মেট্রোরেল প্যান করতে গিয়ে ভিডিও ক্যামেরা আকাশে তুলে দেয়। গোয়েন্দা দেখেন, সেখানে ঢাকার আকাশ রক্তের রঙে আচ্ছন্ন। বিদেশি গোয়েন্দা মনে মনে বলেন, গুরুকে জিজ্ঞেস করতে হবে, এ রকম রক্তলাল আকাশ দেখা কিসের ইঙ্গিত দেয়? শকুন শাস্ত্র এ বিষয়ে কি বলে?
ভিডিও আবার রাস্তায় নেমে আসে। ডানের রাস্তা, ডিভাইডার হয়ে বাঁয়ের দোকানপাট ভেসে ওঠে। ভিডিও গ্রাফার এই অবস্থায় কীভাবে ডলি শট নিলেন বোঝা যাচ্ছে না। স্ট্রিট লাইটগুলো দিনের বেলাতেও জ্বলছে। একটি ঝক্কর মার্কা বাস একজন বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা ওভারটেক করে যাচ্ছে। দর্শক হাসছেন না। তার দৃষ্টি নিবদ্ধ একজন গ্রামীণ দম্পতির ওপর। গবিব মানুষ ওরা। রিকশার পর রিকশা ভাড়া যাবে কি না যাচাই করছে ওরা। কেউ যাচ্ছে না; বোধহয় রিকশাওয়ালা অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় বনিবনা হচ্ছে না।
গোয়েন্দা এই দম্পতির মুখ জুম করতে বলেন।
একহারা শরীরে বার্ধক্য এসে ‘ভর করেছে।’ সঙ্গে পায়ে হাঁটার ক্লান্তি। বধূর শরীর বোরকায় ঢাকা, শুধু মুখটি দেখা যাচ্ছে, যেখানে জীবনের আশা-নিরাশা ‘জোনাকি পোকার মতো নেভানেভি খেলিতেছে।’
‘শব্দ করিয়া আর একটি মেট্রোরেল চলিয়া গেল আর ক্যামেরা আবার ঊর্ধ্বমুখী হইলে দম্পতিকে আর খুঁজিয়া পাওয়া যায় না।’
এবং তখনই বুম!
ক্যামেরার পর্দা কেঁপে উঠে। দেখা যায় দুটি পুলিশ স্টেশনে কুণ্ডলিত ধোঁয়ার সঙ্গে আগুন জ্বলছে।
গোয়েন্দা-দাদা বলে ওঠেন, আমরা কোনো স্কুল কলেজের ছাত্র নই, বরং এক মধ্যবয়সী দম্পতি খুঁজছি।
রুমের সবাই একযোগে তার পাশে এসে জড়ো হয়। ক্যামেরা আবারও জুম করা হয়।
স্ট্রিট লাইটের সীমিত আলোয় দেখা যায়, রাস্তায় পড়ে আছে একটি মরা বিড়াল, মাছি উড়া একটি বিরিয়ানির প্যাকেট, এক পাটি জুতো, ইটের টুকরো। কয়েকটা নেড়ি কুকুর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করছে, কাকের দল উড়ছে।
ক্যামেরা প্যান করলে পুড়ে যাওয়া পুলিশ স্টেশন দেখা যায়, দেখা যায় নিথর রাস্তায় রোড ডিভাইডারে একটি চন্দ্র মল্লিকা ফুটে আছে। তার পাশে পিলারে লেখা,
প্রিয় ফুল খেলাবার দিন নয় অদ্য
এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা।
হুম। দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন গোয়েন্দা। নাগরিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যয়ের এ কবিতার মাধ্যমে কি বার্তা দিতে চায় ওরা?
সিচুয়েশন রুমের নেতা জবাব দেন, কবিতা আমার কাছে চিরদিন দুর্বোধ্য। তবে আপনি চাইলে আজ সারা দিনের পত্রিকার নির্যাস থেকে ওরা কি বার্তা দিতে চায় বলতে পারি।
-বলুন।
-দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। অসংখ্য হতাহত। সর্বাত্মক অবরোধে অচল হয়ে গেছে শহর বন্দর গ্রাম।
-আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। কোথাও জনতা-পুলিশ, কোথাও ছাত্র-সরকারি দল, কোথাও বা অজ্ঞাত পরিচয় মানুষদের সঙ্গে বিপ্লবীদের খণ্ড খণ্ড সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন চলছে।
-কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড আর গুলির শব্দ নগরজুড়ে। সরকারি স্থাপনা ও নগর পরিবহনে চলছে অগ্নিকাণ্ড। বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে সারা দেশে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, এমন কি প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ঢাকায় ৯ জন ঢাকার বাইরে ১৯ জন নিহতের খবর আসছে।
-আরও শুনবেন?
-রাজধানী আর রাজধানীর বাইরের খবর স্পেসিফিকলি বলুন। আমি সন্ত্রাসীদের ট্রেন্ডটা ধরতে পারি কি না দেখি।
-রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, চানখারপুল, মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ, মেরুল, নীলক্ষেত রণক্ষেত্রে পরিণত। দিনব্যাপী সরকারি পক্ষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘাত চলে। সংঘাতে কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে আটকা পড়া একদল পুলিশকে হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করা হয়। ঢাকার প্রায় সব হাসপাতাল আহত নিহতে ভরে উঠছে। হাসপাতালগুলোতে রক্তের জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে, কিন্তু যারা রক্ত দেয় সেই তরুণ সমাজ নিজেদেরই এখন রক্ত দরকার।
-আপনার মাঝখানে আমি একজন পঞ্চম বাহিনীর অস্তিত্ব আবিষ্কার করছি। কাব্য বাদ দিয়ে ঢাকার বাইরের বর্ণনা দিন।
-সর্বশেষ খবর অনুযায়ী জেলায় জেলায় সংঘর্ষ চলছিল। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সরকারি দল ও পুলিশের সঙ্গে বিপ্লবীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষে অনেক আহত ও নিহত হয়েছে। ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আড়াই শতাধিক বিপ্লবী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। রাজশাহীর বাগমারা, বাঘা, নাটোর ও পাবনা সদর, পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, সিলেট, হবিগঞ্জে দিনব্যাপী তুমুল সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সরকারি কার্যালয়, থানা, রেলওয়ের পাশাপাশি সরকারি দলের অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। জনতা দেশের সর্বত্র সড়ক-মহাসড়ক রেললাইন অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
-এখনো কোনো ট্রেন্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভেতরে এবং বাইরে বিপ্লবীদের সমর্থকদের খবর বলুন।
-বাংলাদেশের আন্দোলন প্রায় সব আন্তর্জাতিক মিডিয়ার হেডলাইন হয়েছে। রয়টার্স, আল-জাজিরা, এপি এবং এএফপির খবরে এই আন্দোলনকে গত ১৫ বৎসরের মধ্যে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সরকার এই চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সফল নাও হতে পারে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও রক্তপাতের আশঙ্কা করা হয়েছে।
-এদিকে ঢাকার পাশাপাশে অন্তত তেত্রিশটি জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় শহরে বিভিন্ন পেশার মানুষজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে রাস্তায় নেমে এসেছে।
-ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ব্যান্ডশিল্পী, লেখক, গীতিকবি ও সংগীতশিল্পীরা বিপ্লবের সমর্থনে দিনব্যাপী সংগীত পরিবেশন করে।
-‘সন্তানের পাশে অভিভাবক’ ব্যানারে বিভিন্ন স্কুল কলেজের অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিয়ে আন্দোলনে নামেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার, চলচ্চিত্র শিল্পী এবং প্রতিবাদী লেখকগণ। শহিদ মিনারে একদল রিকশাওয়ালাকে রাস্তা অবরোধ করতে দেখা যায়।
-শেষের দিনগুলোতে আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের মধ্যবিত্তদের প্রতিনিধিত্ব করলেও এই প্রথম দেশের উচ্চবিত্ত এবং একবারে নিম্নবিত্তের প্রতিনিধিত্বকারী যথাক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা বিশাল মিছিল নিয়ে আন্দোলনের ময়দানে নেমে পড়েছে। এটি আন্দোলন সার্বজনীন রূপ লাভের নজির।
- সমাজের সব অংশ কি আন্দোলনে আছে?
-সেটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। সবার সংহতি হয়তো আছে, কিন্তু মাঠে তো সবাই নামে না।
-সেটিই সরকারের জন্য প্লাস পয়েন্ট। মাঠ কন্ট্রোলে চলে আসলে সংহতি প্রকাশকারীরা চুপসে যায়। তবে,
-তবে কি?
-সংহতি প্রকাশকারীরা যদি দেশে বিদেশে ব্যাপকভাবে সংযুক্ত লোকজন হয়, তবে চুপসে যাওয়ার পরিবর্তে আন্দোলনে তারা নতুন ইন্ধন যোগাতে পারে।
-আপনি কি সরকারি কর্মকর্তা বিশেষত ডিপ্লোম্যাটদের কথা বলছেন?
-জি। একত্তুরে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ডিপ্লোম্যাটিক ফ্রন্টের যোদ্ধাগণ ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলেন, এখন আমাদের কাছে খবর আসছে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্তত একটি মিশনে সব অফিসার মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগস্ট মাসে সরকার ঘোষিত দিবসগুলো পালন করা হবে না।
-চিন্তার কথা।
-হুম। এখন কি করণীয়?
-প্রথম করণীয়, আমরা আর জিন্স শার্ট পরা কোনো ছাত্রকে খুঁজছি না। আমরা খুঁজছি না এক মধ্যবয়সী দম্পতিকেও। আমরা খুঁজছি একজন মানুষকে যে এক এক সময় এক এক রূপ নিতে পারে, ঘুরে বেড়াতে পারে ঢাকা, ঢাকার বাইরে সর্বত্র। খুব সম্ভবত সে এই মুহূর্তে কেউ সন্দেহ করবে না সে রকম একটি ছদ্মবেশ নিয়ে ঘুরছে, ঘুরে ঘুরে আন্দোলন সংগঠিত করছে। এখন প্রশ্ন, সন্দেহ জাগায় না সে রকম পেশা কি আছে।
আমরা খুঁজছি এমন একজন মানুষকে যে ম্যাসিভ স্কেলে ধ্বংসযজ্ঞ করতে সক্ষম।
চলবে...