সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাসের জেরে ছাত্রলীগের হাতে খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদের মৃত্যুর দিনকে ‘জাতীয় নিপীড়নবিরোধী দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে দেশের ১৩২টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
শনিবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাংবাদিক সমিতিতে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’র অন্যতম মুখপাত্র ও ঢাবি শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দীন বলেন, ‘আবরার ফাহাদের ৫ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শাহবাগে আমরা সংহতি সমাবেশের আয়োজন করি। ওই সমাবেশে আবরার ফাহাদের শাহাদতবার্ষিকীকে (৭ অক্টোবর) জাতীয় নিপীড়নবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এমন ঘোষণার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ১৩২টি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সংগঠনের নেতারা আমাদের ‘সংহতি বইয়ে’ স্বাক্ষরও করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের দাবির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের জানানো সংহতিপত্র পৌঁছে দিতে চাই। আমরা আশা করছি বাংলাদেশ সরকার ৭ অক্টোবরকে জাতীয় নিপীড়নবিরোধী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দ্রুত উদ্যোগ নেবে।’
এতে অন্যান্যদের মধ্যে সংগঠনটির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাকারিয়া নিক্সন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ রিদুয়ান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর তারিখে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। পরবর্তীতে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন। ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করে। পরে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন। আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/




